ঢাকা ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
ঢাকা ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
সর্বশেষ
লন্ডনে বাবু-রুপাসহ গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের নিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম : গ্রিন কার্ড পেতে বিদেশিদের দেশে ফিরতে হবে হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছেই: টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনিসেফের ৫ চিঠিতেও সতর্ক হয়নি ইউনূস সরকার শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার : গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে দেশে ফিরব আ.লীগের ব্যাক করা নিয়ে মাহফুজের পোস্ট, যা লিখলেন প্রবাসীকে বাসায় ডেকে হত্যা: প্রেমিকার হাতে ভয়াবহ খণ্ডিত লাশ তনু হত্যা মামলায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য: ডিএনএ পরীক্ষায় আরও এক পুরুষের রক্ত শনাক্ত ছাত্রদল-এনসিপি উত্তেজনা, চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ কারিনা কায়সার: হাসিমাখা মুখের মেয়েটি নিথর হয়ে গেল ফেসবুকে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ায় বিএনপি কর্মীদের হামলা: সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু শেষ বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদো: কোয়ার্টার ফাইনালেই কি দেখা হচ্ছে দুই মহাতারকার? প্রিন্স উইলিয়ামের কাছ থেকে এমবিই সম্মাননা গ্রহণ করলেন আবু তাহের আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা হতে পারে ২৭ মে প্রবাসী কার্ড কারা পাবেন, কী কী সুবিধা থাকছে? ওমানে মর্মান্তিক মৃত্যু: বিয়ের কেনাকাটায় গিয়ে প্রাণ হারালেন চট্টগ্রামের ৪ ভাই যুক্তরাজ্যে কেন বারবার প্রধানমন্ত্রী বদলাচ্ছে? স্টারমারের পর কে? ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় লেবাননে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, আরেকজন নিখোঁজ চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশুর মৃত্যু: রৌফাবাদের ঘটনায় চাঞ্চল্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও বিরোধীদের অবিশ্বাস কেন? নিউইয়র্কে ইন্তেকাল করেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল আহমদ রোমে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী উৎসব সাংবাদিক ফয়সল মাহমুদের মায়ের ইন্তেকাল, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব পরিবারের শোক ফ্লুসি ডিক্রি জটিলতা নিরসনে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক ইতালি পাঠানোর নামে মাদারীপুরে সক্রিয় মানবপাচার চক্র: বন্দিশালায় রাকিবসহ নিখোঁজ অনেকে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর স্টারমারের পাশে গর্ডন ব্রাউন ও হ্যারিয়েট হারম্যান পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী: নন্দীগ্রামের ‘জায়ান্ট কিলার’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশি-ব্রিটিশ ফরহাদ হোসেন ইতিহাস গড়লেন, লেবারের মনোনয়নে নিউহ্যামের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র ইতিহাস গড়লেন লুৎফুর, চতুর্থবার টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, কী বললেন ট্রাম্প? ধর্মীয় ব্যাখ্যার নামে উগ্রবাদ প্রচার, বাড়ছে উদ্বেগ: জঙ্গিদের অস্তিত্বও স্বীকার করল সরকার

মামদানির জয়—ট্রাম্পের ক্ষমতা কি নড়বড়ে হচ্ছে?

প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০৫ এএম

মামদানির জয়—ট্রাম্পের ক্ষমতা কি নড়বড়ে হচ্ছে?

৪ নভেম্বর ২০২৫—যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে যেন শুরু হলো ‘জোহরান যুগ’। মার্কিন রাষ্ট্রপতির অনুরোধ থেকে শুরু করে কঠোর সতর্কবার্তা—কিছুই থামাতে পারেনি ভোটারদের সিদ্ধান্তকে। মেগা-শক্তিধর ট্রাম্পের কথাও গুরুত্ব পায়নি সাধারণ মানুষের কাছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য নিউইয়র্কার শিরোনাম করে, “দ্য মামদানি এরা বিগিনস”। প্রতিবেদনে জোহরান মামদানির বিজয়কে ‘স্বপ্ন পূরণের কাহিনি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে সিএনএন শিরোনামে বলে, “মামদানি মুবারক”। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতরা যেন এই বিজয়কে নিজেদের অর্জন হিসেবে উদযাপন করছেন।

তাহলে কি মার্কিন রাজনীতির গতিপথ বদলাতে চলেছে?

দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে—যেসব তরুণ ভোটার এক বছর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভরসার জায়গা ভাবছিলেন, তারা এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসছেন। তাদের মতে, রিপাবলিকান নেতৃত্ব শুধুই নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত—সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা নেই।

তারা উপলব্ধি করেছেন—ধর্ম বা বর্ণবৈষম্য দিয়ে মানুষের খাদ্য বা আশ্রয় নিশ্চিত হয় না। অসুস্থ হলে রাষ্ট্র সাহায্য করে না। এতদিন তারা ভেবেছিলেন অর্থ ছাড়া কিছু পাওয়া সম্ভব নয়—রাষ্ট্র যেন কেবলই ‘দেখে যাওয়ার’ ভূমিকা নেয়।

কিন্তু এখন অনেকেই ভাবছেন, অভিবাসীদের ভয় দেখানো, কর বাড়ানো, বাড়িভাড়া অসহনীয় করা, গরিবদের শুধু ভোটে ব্যবহার করা—এসব পদ্ধতির যুগ শেষ হওয়া উচিত।

জোহরান মামদানি নির্বাচিত হলে নিউইয়র্ক নগরীর সরকারি বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প। এরপর আল জাজিরা প্রশ্ন তোলে—
“ট্রাম্প কি আইনগতভাবে নিউইয়র্কের তহবিল বন্ধ করতে পারবেন?”
এবং নিউইয়র্ক কেন্দ্রীয় বরাদ্দের ওপর কতটা নির্ভর করে সে বিষয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।

কিন্তু নিউইয়র্ক হলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড—এ নগরীর স্বাভাবিক কার্যক্রমে সামান্য বাধাও দেশজুড়ে অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। তা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাকেই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

ট্রাম্পের হুমকি কাজ করেনি—ভোটাররাও তা উপেক্ষা করেছেন। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জোহরান মামদানি পেয়েছেন ৫০ শতাংশের বেশি ভোট। এতে স্পষ্ট—বেশিরভাগ ভোটার রাষ্ট্রপতির বিরোধিতা করেই ভোট দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের ‘অপছন্দের’ প্রার্থীকে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়—আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এদিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হবে।

এই নির্বাচনকে সাধারণত ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতির জন্য ‘পরীক্ষার মঞ্চ’ হিসেবে দেখা হয়। ট্রাম্প মেয়র নির্বাচনে ভোটারদের মন জয় করতে ব্যর্থ হওয়ায়, এটি বিভিন্ন রাজ্যে ভোটারদের ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।

বহু বিশ্লেষক বলছেন—রিপাবলিকানদের কাছে এখন বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা নেই। তাদের প্রধান হাতিয়ার—ধর্মবিদ্বেষ, বর্ণবিদ্বেষ ও অভিবাসনবিরোধী প্রচার। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে জনমত শক্তিশালী হচ্ছে।

রিপাবলিকানরা বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও, তা হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। কংগ্রেসের একটি কক্ষও হাতছাড়া হলে ট্রাম্পের জন্য তা বড় ধাক্কা হবে। কারণ ভোটার আকৃষ্ট করার যুগ আর ‘হুমকির রাজনীতিতে’ ফেরানো যাবে না—এ কথা যেন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল নিউইয়র্কের ভোটাররা।

এ বিজয় মার্কিন রাজনীতির নতুন বার্তা দেয়— ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে শুধু মনোনয়ন নয়, বিজয়ও সম্ভব।
ধনীদের উপর কর বাড়ানোর অঙ্গীকার করেও নিউইয়র্কের মতো পুঁজিবাদী শহরে জয় ছিনিয়ে আনা যায়।

নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসির দূরত্ব ৩৬৪ কিলোমিটার—কিন্তু বিশ্ববাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে এ নগরীর আন্দোলন-নড়াচড়া হোয়াইট হাউসকে প্রভাবিত করে। মেয়র নির্বাচনের আগেই জোহরান মামদানি ট্রাম্পকে ব্যস্ত রেখেছেন—প্রায়ই তাকে নিয়ে কথা বলতে হয়েছে।

তাই হয়তো বিজয়ের রাতে মামদানি সমর্থকদের বলেছিলেন— “ভলিউমটা একটু বাড়িয়ে দিতে,” যেন শব্দ হোয়াইট হাউসের পুরু দেয়াল ভেদ করে ট্রাম্পের কানে গিয়ে লাগে।
সমীকরণ বলছে—মামদানির এই জয় ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে করলে তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই।