আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হৃদয়বিদারক হারের পর রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। রেফারির একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তদন্ত চেয়ে আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি হানি আবো রিদা।
৭ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল আফ্রিকার দলটি। তবে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে টানা তিন গোল করে আর্জেন্টিনা।
জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি মিশরের। ৩-২ ব্যবধানে হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহামেদ সালাহর দল।
ম্যাচজুড়ে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠেই অসন্তোষ প্রকাশ করে মিশরের খেলোয়াড়রা। এসব সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে চলছে তুমুল বিতর্ক। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মিশরের কোচ হোসাম হাসানও রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়ে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন আবো রিদা।
মাঠেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসান এবং মেজাজ হারিয়ে একটি হলুদ কার্ডও দেখেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ম্যাচ আগে থেকেই ‘নির্ধারিত’ ছিল। পাশাপাশি ফরাসি রেফারি ফঁসোয়া লুতেক্সিয়েরের ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে আগেই চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
লুতেক্সিয়ের এবং তার সঙ্গে থাকা ম্যাচ অফিসিয়ালদের বিশ্বকাপের বাকি অংশ থেকে বহিষ্কারের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছেন আবো রিদা। তার মতে, রেফারির ভুল সিদ্ধান্তগুলো ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
ম্যাচের দুটি নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে আপত্তি তুলেছে মিশর। প্রথমটি হলো—VAR হস্তক্ষেপে আগের একটি ফাউলের কারণে মিশরের একটি গোল বাতিল করা। দ্বিতীয়টি—আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে মিশরের পক্ষ থেকে ফাউলের অভিযোগ করা হলেও সেটি VAR-এ পর্যালোচনা না করা।
এই বিষয়ে FIFA এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুন: