ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

ফোন হ্যাকিং মামলায় হেরে প্রিন্স হ্যারি ও অন্য দাবিদারদের £৫০ মিলিয়ন পর্যন্ত আইনি বিলের ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০ এএম

ফোন হ্যাকিং মামলায় হেরে প্রিন্স হ্যারি ও অন্য দাবিদারদের £৫০ মিলিয়ন পর্যন্ত আইনি বিলের ঝুঁকি
উপরের বাম দিক থেকে : ডরিন লরেন্স, প্রিন্স হ্যারি, এলটন জন, লিজ হার্লি, ডেভিড ফার্নিশ এবং স্যাডি ফ্রস্ট। ছবি: জেমস ম্যানিং/পিএ, ব্রুক মিচেল/এএফপি, অ্যারন চাউন/পিএ, জর্ডান পেটিট/পিএ, ভিক্টোরিয়া জোন্স/পিএ, জেমস ভেসি/শাটারস্টক (কম্পোজিট)।

যুক্তরাজ্যের হাই কোর্টে ফোন হ্যাকিং অবৈধ তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পরাজিত হয়েছেন প্রিন্স হ্যারি তার সঙ্গে থাকা আরও ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এর ফলে তাদের প্রায় কোটি পাউন্ড (প্রায় £৫০ মিলিয়ন) পর্যন্ত আইনি ব্যয় বহনের ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছে।

বিচারপতি নিকলিন ৪৩৬ পৃষ্ঠার রায়ে বলেন, অভিযোগকারীরা প্রমাণ করতে পারেননি যে Associated Newspapers Ltd (ANL)-এর প্রকাশিত Daily Mail, Mail on Sunday MailOnline-এর প্রতিবেদনগুলো অবৈধ উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রকাশ করা হয়েছিল। আদালতের মতে, কোনো প্রতিবেদনের তথ্য বৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা সম্ভব হলে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে সেটিকে অবৈধ বলা যায় না।

মামলার বাদীদের মধ্যে ছিলেন প্রিন্স হ্যারি, ডরিন লরেন্স, সংগীতশিল্পী এলটন জন তার স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, অভিনেত্রী এলিজাবেথ হার্লি, স্যাডি ফ্রস্ট এবং সাবেক লিবারেল ডেমোক্র্যাট মন্ত্রী সাইমন হিউজ। তারা অভিযোগ করেছিলেন, বছরের পর বছর ধরে তাদের সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশে অবৈধ তথ্য সংগ্রহ, ফোন হ্যাকিং, ব্যক্তিগত গোয়েন্দা নিয়োগ এবং অন্যান্য বেআইনি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে আদালত এসব অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ খুঁজে পায়নি। মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী গ্যাভিন বারোজ আদালতে জানান, তার নামে জমা দেওয়া সাক্ষ্য বিবৃতি জাল ছিল এবং তিনি ডেইলি মেইলের জন্য কোনো অবৈধ কাজ করেননি। বিচারকও মন্তব্য করেন, তার সাক্ষ্য নির্ভরযোগ্য নয় এবং স্বাধীনভাবে তা সমর্থনের মতো কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

রায়ের পর প্রিন্স হ্যারি ডরিন লরেন্স যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে "স্পষ্ট সম্পূর্ণ ধামাচাপা" বলে আখ্যা দেন। তারা বলেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকার যুক্তিতে যদি অভিযোগ খারিজ হয়, তাহলে ন্যায়বিচার পাওয়া কীভাবে সম্ভবসেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

অন্যদিকে, Associated Newspapers Ltd রায়কে তাদের এবং তাদের সাংবাদিকদের জন্য "বড় ধরনের বিজয়" হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মামলায় আনা গুরুতর অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়নি এবং আদালতের রায়ে তাদের সাংবাদিকতার বৈধতা প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে প্রিন্স হ্যারি Daily Mirror-এর বিরুদ্ধে ফোন হ্যাকিং মামলায় ক্ষতিপূরণ জিতেছিলেন। এছাড়া News Group Newspapers-এর সঙ্গে করা আরেকটি মামলাও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, যেখানে প্রতিষ্ঠানটি অতীতের অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছিল।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান