যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিজের ছবি সংবলিত 'প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট' উদ্বোধন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পাসপোর্টের ছবি শেয়ার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট, যাতে লেখা আছে -স্বাগতম, কিন্তু ভালো থেকো!"
- পাসপোর্টটি দেখতে কেমন
পাসপোর্টের একটি পৃষ্ঠায় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পটভূমিতে ট্রাম্পের ছবি ও তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে। বিপরীত পৃষ্ঠায় জন ট্রাম্বুলের বিখ্যাত চিত্রকর্ম অবলম্বনে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের একটি দৃশ্য রয়েছে। পাসপোর্টের পেছনের প্রচ্ছদে থাকবে "ফ্রিডম ২৫০" সোনালি পতাকা।
হোয়াইট হাউসের ফটোগ্রাফার ড্যানিয়েল টোরোকের তোলা ছবিটি পাসপোর্টে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প গম্ভীর মুখে তাঁর ডেস্কে দাঁড়িয়ে আছেন।
- কীভাবে পাওয়া যাবে এই পাসপোর্ট
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ জুলাই ২০২৬ থেকে ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতে সীমিত সংখ্যায় এই স্মারক পাসপোর্ট ছাড়া হবে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগ্রহীদের অবশ্যই সশরীরে ওয়াশিংটনে এসে আবেদন করতে হবে।
প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট চালুর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট, যার নাম ও ছবি মার্কিনিদের ভ্রমণ দলিলে স্থান পাবে।
- ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা
ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান মাইক লেভিন বলেন, "কোনো বর্তমান প্রেসিডেন্ট এটি আগে কখনো করেননি। কয়েন, পার্কের পাস, যুদ্ধজাহাজ এবং এখন পাসপোর্ট -এই মানুষটি এমন কোনো জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না যেখানে তিনি তাঁর নাম বা মুখ বসাবেন না। এটি দেশপ্রেম নয়, এটি অহংকার।"
হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ডেমোক্র্যাটরা এই পদক্ষেপকে "বিভ্রান্তিমূলক" বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, "অনেক আমেরিকান এখন ভ্রমণ করতেই পারছেন না — বিমান ভাড়া বেড়েছে, জ্বালানি খরচ বেড়েছে।"
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এই পাসপোর্টকে কটাক্ষ করে একটি প্যারোডি ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ছবিযুক্ত একটি "বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্স" চালুর ঘোষণা করেন।
তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা এই পাসপোর্টকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে "ইতিহাসের সবচেয়ে দেশপ্রেমিক পাসপোর্ট" বলে অভিহিত করেছেন।
- সরকারি প্রতিষ্ঠানে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ছাপ
২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের ব্যক্তিগত ছাপ রেখে চলেছেন ট্রাম্প। বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনের বাইরে প্রেসিডেন্টের ব্যানার উড়ছে এবং ট্রেজারি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে শীঘ্রই এক ডলারের নোটে তার স্বাক্ষর দেখা যাবে। এর আগে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সঙ্গেও নিজের নাম যুক্ত করেছিলেন, তবে আদালতের নির্দেশে পরে সেই নাম সরিয়ে দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে। কিন্তু এই প্যাট্রিয়ট পাসপোর্টগুলো ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বৈধ থাকবে।
সূত্র: সিএনএ, আনাদোলু, টাইম, ইউরোনিউজ | অনুবাদ ও বিশ্লেষণ: ৫২বাংলা ডেস্ক
-
আলি খামেনির শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল, যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তি দেখাচ্ছে ইরান
-
খামেনির কফিনে লাল পতাকা: প্রতীকী বার্তা কী, শেষ বিদায়ে কেন থাকছেন না মোজতবা খামেনি
-
বাহরাইনকে কঠোর সতর্কবার্তা দিল ইরান: 'নিজেদের সীমা জানো'
-
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতিতে বাংলাদেশিদের জন্য দুঃসংবাদ
-
মেধা শিকারে কানাডা: ১.৭ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড কর্মসূচি ঘোষণা