ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ : কোন ম্যাচ কখন ,কোথায় অনুষ্ঠিত হবে? ৩০ বছর পর সালমান শাহর দেহাবশেষ তোলার আদেশ হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে মার্কিন হামলা, বাহরাইন ও জর্ডানে পাল্টা হামলা ইরানের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন ইসরায়েলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইরানের সঙ্গে যুক্ত হলো হুতিরা বিশ্বকাপ ২০২৬: ফেভারিট কারা, চমক দেখাবে কোন দল? শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ : কোন দেশের খেলা কখন—জেনে নিন রামিসা ধর্ষণ-হত্যার ১৯ দিনের মাথায় সোহেল-স্বপ্না দম্পতির ফাঁসির রায় হোয়াইট হাউসের কাছে ফের গুলি, বন্দুকধারী নিহত ট্রাম্প কি ইরান যুদ্ধে হারছেন? হামে প্রতিদিন গড়ে ৭ শিশুর প্রাণহানি : রাজশাহী থেকে যেভাবে দেশজুড়ে ছড়াল লন্ডনে বাবু-রুপাসহ গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের নিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম : গ্রিন কার্ড পেতে বিদেশিদের দেশে ফিরতে হবে হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছেই: টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনিসেফের ৫ চিঠিতেও সতর্ক হয়নি ইউনূস সরকার শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার : গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে দেশে ফিরব আ.লীগের ব্যাক করা নিয়ে মাহফুজের পোস্ট, যা লিখলেন প্রবাসীকে বাসায় ডেকে হত্যা: প্রেমিকার হাতে ভয়াবহ খণ্ডিত লাশ তনু হত্যা মামলায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য: ডিএনএ পরীক্ষায় আরও এক পুরুষের রক্ত শনাক্ত ছাত্রদল-এনসিপি উত্তেজনা, চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ কারিনা কায়সার: হাসিমাখা মুখের মেয়েটি নিথর হয়ে গেল ফেসবুকে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ায় বিএনপি কর্মীদের হামলা: সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু শেষ বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদো: কোয়ার্টার ফাইনালেই কি দেখা হচ্ছে দুই মহাতারকার? প্রিন্স উইলিয়ামের কাছ থেকে এমবিই সম্মাননা গ্রহণ করলেন আবু তাহের আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা হতে পারে ২৭ মে প্রবাসী কার্ড কারা পাবেন, কী কী সুবিধা থাকছে? ওমানে মর্মান্তিক মৃত্যু: বিয়ের কেনাকাটায় গিয়ে প্রাণ হারালেন চট্টগ্রামের ৪ ভাই যুক্তরাজ্যে কেন বারবার প্রধানমন্ত্রী বদলাচ্ছে? স্টারমারের পর কে? ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় লেবাননে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, আরেকজন নিখোঁজ চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশুর মৃত্যু: রৌফাবাদের ঘটনায় চাঞ্চল্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও বিরোধীদের অবিশ্বাস কেন?

এ প্লাস ফোবিয়ায় আক্রান্ত শিক্ষা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ০৬:৫৩ পিএম

এ প্লাস ফোবিয়ায় আক্রান্ত শিক্ষা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ
বিরক্ত হয়ে একদিন আমার শিক্ষার্থীদের বললাম— তোমরা যা শুরু করেছ তাতে অদূর ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে কেরানি পর্যন্ত আমদানি করা লাগবে। বিস্মিত হয়ে তারা সমস্বরে বললো— কেন স্যার! সেদিন তাদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পাঠদানে মনযোগ দিলেও, আমার মনে হয়, যা বলার তা এখনই বলে নেয়া ভালো। বাচ্চা পরীক্ষা দেবে, অভিভাবকদের ঘুম নেই— এ প্লাস পাবে তো! এ প্লাস পাবে তো! কিছু কিছু অভিভাবক আরো এক কাঠি সরস, তারা আবিষ্কার করে ফেলেছে গোল্ডেন এ প্লাস! এর নিচে কোনো কথাই নেই! বাচ্চা কী শিখলো তাতে কিছু যায়-আসে না। গোল্ডেন এ প্লাস পেতেই হবে। এই গোল্ডেন এ প্লাসের ধান্ধায় (মূলত আতঙ্ক বা ফোবিয়া) আমরা জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়াচ্ছি, হাতে ধরা কিন্তু বাচ্চার হাত। ও দমবন্ধ হয়ে মরে গেলেও কিছু যায়-আসে না, এ প্লাস ধরা চাই। বাচ্চা এবং তাদের অভিভাবকদের জীবন থেকে শান্তি পালিয়ে গেছে। রয়ে গেছে কাগজে লেখা একটা এ প্লাস কিংবা ওই কাগজ অর্জন করতে না-পারার হতাশা। কেউ জিপিএ ৪.৯০ পেয়েছে, তো বাবা-মা'র মাথায় হাত, বাচ্চাকে গালিগালাজ, আদরসোহাগ বন্ধ! কোনো কোনো আবেগপ্রবণ বাচ্চা তাতে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে ফেলছে! আর কত জিপিএ পেলে তারা সন্তুষ্ট হবে? আর কত পেলে বাচ্চাটাকে ভালো বলবে? প্রতি বিষয়ের জন্য পৃথক পৃথক টিউটর, নানা কিসিমের কোচিং সেন্টারে দৌড়াদৌড়ি, অন্তত এক ডজন বৃত্তি পরীক্ষায় (যা আদৌ কোনো বৃত্তি নয়, খ্যাতিলোভী কতিপয় ব্যক্তির স্ব-নামে বা পিতামাতার নামে চালু অপগণ্ড বিশেষ) অংশগ্রহণ করানো,... ইত্যাদির চাপে একেকটা বাচ্চার জীবন হাবিয়া দোযখে পরিণত হয়েছে। খেলাধুলা নেই, সামাজিক মেলামেশা নেই, মামার বাড়ি, ফুফুর বাড়ি, খালার বাড়ি যাওয়া নেই, শুধু গাইড বা নোট মুখস্ত করার প্রতিযোগিতা আর টেনশন তাদের চব্বিশ ঘন্টার সঙ্গী! তাতে তৈরি হচ্ছে সমাজবিচ্ছিন্নতা এবং বিবিধ মনোবিকার, গড়ে উঠছে পরম আত্মকেন্দ্রিকতা বা স্বার্থপরতা। এভাবে কি বড় মানুষ তৈরি হয়? যখন শিক্ষার উদ্দেশ্যই হলো মানবসন্তানকে বড় করে তোলা। আমরা কি বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন থেকে দূরে গিয়ে টাকা কামানোর মেশিন তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছি? অভিভাবকদের কি দেখা নেই— অতীতের কত শত শত এ প্লাস নর্দমায় পড়ে রয়েছে? জীবন অভিনন্দিত করেছে শুধু তাদের— যারা প্রকৃতপক্ষে কিছু শিখে, মস্তিষ্কের বিকাশ সাথে নিয়ে সামনে গেছে।— এসব তাদের অভিজ্ঞতায় নেই? আহা রে শিক্ষা! সাধারণ অভিভাবকদের কী আর বলব, অভিজ্ঞতায় যখন দেখলাম— একজন ইউএনও এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিলে এসএসসি পরীক্ষার সেন্টারে সকল নিয়মনীতি ডিঙিয়ে, তাদের দুজনের সন্তানদের এক বেঞ্চে বসিয়ে, প্রতিদিনের পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তরগুলো শিক্ষকদের দিয়ে তৈরি করে ওদের হাতে পৌঁছে দিয়ে এ প্লাস আদায় করে চলে গেলেন! এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে! যারা প্রতিকার করবে ঘটাচ্ছে তারাই! কার কাছে গিয়ে কী বলবেন! প্রাইমারি স্কুলের পরীক্ষাগুলো তো সাধারণভাবে এখন শিক্ষক বা অভিভাবকরাই দিয়ে থাকেন (পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষাসহ)! তো এই বাচ্চাদের হাঁটু-কোমর ভেঙে যে উপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছি আমরা, ওরা কীভাবে উচ্চতর শ্রেণির বিদ্যা অর্জন করবে? ওরা কীভাবে আত্মবিশ্বাসী, স্বনির্ভর আর নৈতিক মানুষ হয়ে উঠবে? এক টুকরা কাগজ অর্জনের প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে একটা গোটা জাতিকে ধ্বংস করে ফেলছি তা কি কেউই বুঝতে পারছি না! প্লিজ, এখনই থামান আতঙ্কজনক এ খেলা। দেশের ভবিষ্যৎ পঙ্গু করে কে নিরাপদ থাকতে পারবে— বুকে হাত দিয়ে বলুক। শিক্ষাক্ষেত্রে সুস্থতা ফিরে আসুক। মনে রাখুন— একটা এ প্লাস-ই জীবনের সারকথা নয়! মানবসন্তানের জীবন এভাবে ব্যর্থ করে দেবেন না। এ প্লাসের পরিবর্তে বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশের দিকে, তার সৃজনশীলতার দিকে নজর দিন। মনে রাখবেন— সকলের বিকাশ সমভাবে, অভিন্ন সময়ে হয় না, হবে না; সকল বাচ্চার স্বপ্ন একইরকম হয় না, হবেও না। অভিভাবক কিংবা শিক্ষক হিশেবে আপনার কাজ হচ্ছে বাচ্চার ভেতরের অগ্নিস্ফুলিঙ্গটুকু যথাসম্ভব উসকে দেয়া, তাতেই অসাধ্য সাধন হবে। আমরা যে-পথে হাঁটছি তাতে আদমপাচারকারীদের হাত ধরে প্রবাসে গিয়ে জীবন গড়ার জন্য প্লাস্টিকের নৌকায় সাগড় পাড়ি দিতে অথৈ সমুদ্রে ডুবে মরা ছাড়া অন্য কোনো ভবিষ্যৎ দেখছি না!  খালেদ রাজ্জাক: কবি, শিক্ষক ।