দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত দুই মাসেরও বেশি সময়ে প্রতিদিন গড়ে সাতজনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই রোগে। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকা হাম নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে বড় সংকট হিসেবে দেখছেন।
এবারের মতো এত মৃত্যু ও ব্যাপক সংক্রমণের ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। এজন্য টিকা নিয়ে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলাকে সবাই দায়ী করছেন। বিশ^ব্যাপী শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইউনিসেফ গত বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, টিকা সংকটের বিষয়ে তারা ১০টি বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল। শুধু তাই নয়, অন্তত পাঁচবার চিঠিও দিয়েছিল। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি অন্তর্বর্তী সরকার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত মোট ৫১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৬ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৪২৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের।
একই সময়ে দেশে ৬২ হাজার ৫০৭ জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪৯৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪ হাজার ৩৭৮ জন রোগী ভর্তি আছেন।
রাজশাহী থেকে দ্রুত বিস্তার
চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রথম হামে মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় সব জেলাতেই হামের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জানুয়ারিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে এটি ছড়িয়ে পড়ে এবং মার্চে রাজশাহী বিভাগে বড় আকার ধারণ করে।
সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি কারণে এই সংক্রমণ দ্রুত বেড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নির্ধারিত হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা। ২০২৫ সালে এই কর্মসূচি না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্যমতে, দেশে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি শিশু টিকার আওতার বাইরে থাকায় তারা ঝুঁকির মধ্যে ছিল।
এছাড়া হাসপাতালগুলোতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত আলাদা ওয়ার্ড বা আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকায় সংক্রমণ আরও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ওয়ার্ডে একাধিক রোগী রাখার কারণে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে চাপ
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এতে করে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, শুরুতে সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসা না নেওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ছে।
অতীতের তুলনায় পরিস্থিতি ভয়াবহ
এক সময় দেশে হাম প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। গত পাঁচ বছরে বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০-এর নিচে ছিল। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩২ জন। কিন্তু ২০২৬ সালে হঠাৎ করেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
সতর্কবার্তা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসা এবং গণসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
-
হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছেই: টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনিসেফের ৫ চিঠিতেও সতর্ক হয়নি ইউনূস সরকার
-
শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার : গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে দেশে ফিরব
-
আ.লীগের ব্যাক করা নিয়ে মাহফুজের পোস্ট, যা লিখলেন
-
প্রবাসীকে বাসায় ডেকে হত্যা: প্রেমিকার হাতে ভয়াবহ খণ্ডিত লাশ
-
তনু হত্যা মামলায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য: ডিএনএ পরীক্ষায় আরও এক পুরুষের রক্ত শনাক্ত
আরও পড়ুন: