দীর্ঘস্থায়ী খরা ও চলতি বছরের ধারাবাহিক তাপপ্রবাহের কারণে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টেমস ওয়াটার (Thames Water) ১ কোটিরও বেশি গ্রাহকের জন্য হোসপাইপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এর ফলে বাগান বা অ্যালটমেন্টে পানি দেওয়া, গাড়ি ধোয়া, শিশুদের প্যাডলিং পুল বা সুইমিং পুলে পানি ভরা এবং জানালা পরিষ্কারের কাজে হোসপাইপ ব্যবহার করা যাবে না।
টেমস ওয়াটার বলছে, চলতি বছর তাদের সেবা এলাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মাত্র ৪০ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এত বেশি দিন তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। টানা তিন দফা তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত পানি সম্পদ বিভাগের পরিচালক নেভিল মানকাস্টার বলেন, “সবাইকে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজন না হলে আমরা কখনোই এমন সিদ্ধান্ত নিতাম না।”
তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ এবং অত্যন্ত শুষ্ক বসন্ত ও গ্রীষ্মের কারণে পানির চাহিদা দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত পানি থাকলেও অপ্রয়োজনীয় বাইরের ব্যবহার কমানো এখন অত্যন্ত জরুরি।”
টেমস ওয়াটার জানিয়েছে, তাদের সেবা এলাকায় বর্তমানে থেমস ভ্যালি ও হোম কাউন্টিজে পানির ব্যবহার স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ শতাংশ এবং লন্ডনে ৭ শতাংশ বেশি। এর অর্থ প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ কোটি লিটার পানি ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই নিষেধাজ্ঞা থেমস ওয়াটারের ১ কোটি ১০ লাখ (১০.১ মিলিয়ন) গ্রাহকের ওপর প্রযোজ্য। প্রতিষ্ঠানটি গ্রেটার লন্ডন, থেমস ভ্যালি, সারে, কেন্ট, গ্লুচেস্টারশায়ার, উইল্টশায়ারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ করে।
টেমস ওয়াটার জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। পানির সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরাপদ পর্যায়ে ফিরলেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার কমিয়ে পানি সংরক্ষণে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
-
যুক্তরাজ্যে টয়লেট ব্যবহারে নতুন নিয়ম, বদলাবে ১৮ হাজার সাইনবোর্ড
-
লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেনে ছুরি নিয়ে তাণ্ডব, আহত চার, নারী গ্রেপ্তার
-
লন্ডনে ব্রিক লেইন জামে মসজিদের ৫০ বছর: দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠান সেপ্টেম্বরে
-
লন্ডনের হোটেলে শ ম রেজাউল করিমকে ঘিরে ছাত্রদল নেতার ক্ষোভ
-
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে এসেক্সে মা-মেয়ের মৃত্যু