কিয়ার স্টারমারের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মধ্যেই তিনি একটি ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন, যার লক্ষ্য হবে ব্রিটেনকে বর্তমান অবস্থান থেকে সবাই যেখানে দেখতে চান, সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়া। জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, মঙ্গলবার থেকেই মানুষকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ঘোষণা শুরু করবেন তিনি।
চমক জাগিয়ে বার্নহাম রেচেল রিভসের স্থলাভিষিক্ত চ্যান্সেলর হিসেবে জন হিলিকে বেছে নেন, যা তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক অভিমুখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিলি, যাঁর পদত্যাগ স্টারমারকে কোণঠাসা করে দিয়েছিল, এড মিলিব্যান্ড ও শাবানা মাহমুদের নাম আলোচনায় থাকার পরও শেষ পর্যন্ত সমঝোতামূলক প্রার্থী হিসেবে উঠে আসেন। বার্নহামের দল চেয়েছিল অভিজ্ঞ কেউ অর্থনীতির হাল ধরুক, যিনি রাজস্ব শৃঙ্খলা, পুনঃশিল্পায়ন, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, জীবনযাত্রার ব্যয় ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যগুলো একসঙ্গে সামলাতে পারবেন।
মন্ত্রিসভায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের মধ্যে মিলিব্যান্ড জ্বালানি ও নেট জিরো দায়িত্ব ছেড়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন, আর মাহমুদ রয়ে গেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লুইস হেই হয়েছেন ফার্স্ট সেক্রেটারি অব স্টেট ও চ্যান্সেলর অব দ্য ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার, যিনি একটি সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভা পরিচালনা করবেন। এদিকে বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা মন্ত্রিসভা ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন, কেউ কেউ খোলাখুলিই বলেছেন যে বার্নহাম তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন আর প্রয়োজন নেই। এই তালিকায় আছেন রিভস, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, হেই-এর সাবেক পদে থাকা ড্যারেন জোনস এবং আবাসনমন্ত্রী স্টিভ রিড।
কোনো নোট ছাড়াই স্ত্রী মারি-ফ্রঁস ফন হেলের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, তিনি সচেতন যে গত ১০ বছরে এই সড়ক ধরে হেঁটে আসা তিনি ষষ্ঠ ব্যক্তি এবং ২০১৬ সালের পর সপ্তম প্রধানমন্ত্রী, যা তাঁর কাছে আত্মজিজ্ঞাসা ও নতুন সংকল্পের মুহূর্ত। তিনি বলেন, তাঁর প্রজন্মের রাজনীতিকদের নিজেদের মান আরও উঁচুতে তুলতে হবে এবং নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। ব্রিটেনকে বিশ্বের কাছে প্রমাণ করতে হবে যে তারা আবার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে, আর সেটাই তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ—রাজনীতিকে আরও কার্যকর করে তোলা।
তিনি আরও বলেন, মানুষ রাজনীতির প্রতি যে বিরক্তি প্রকাশ করছেন, তা তিনি বোঝেন এবং সৎভাবে স্বীকার করছেন যে তাঁরা যথেষ্ট ভালো করতে পারেননি, তবে এখন থেকে তা বদলাবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
-
বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু যুক্তরাজ্যে বার্নহাম যুগ, কী কী থাকছে পরিকল্পনায়
-
ইংল্যান্ডে এশীয় শিশুদের দাঁতে ক্ষয়ের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি
-
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান পাচ্ছেন হাউস অব লর্ডসের সদস্যপদ, স্টারমারের শেষ সময়ের সিদ্ধান্তে
-
ডোভার সীমান্তে ইইউ-র নতুন নিয়মে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা, রেকর্ড সংখ্যক ব্রিটিশ পর্যটকের যাত্রা
-
পানি-সংক্রান্ত সমস্যায় বন্ধ ইয়র্ক হল লেজার সেন্টার ও বি ওয়েল দ্য স্পা