গ্রীষ্মের সবচেয়ে ব্যস্ততম সপ্তাহান্তে ব্রিটেনের সড়কে নামছেন লাখ লাখ যাত্রী, আর তার মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ডোভার বন্দর।
আংশিকভাবে চালু হওয়া প্রবেশ-প্রস্থান পদ্ধতি (এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম বা ইইএস), তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী ফ্লাইট নিয়ে উদ্বেগের কারণে ব্রিটেনে অভ্যন্তরীণ ছুটি কাটানোর প্রবণতা করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মোটরযান সংগঠনগুলোর ধারণা, এই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের সবচেয়ে ব্যস্ত সপ্তাহান্ত।
ব্রিটেনের প্রধান চ্যানেল ফেরি ক্রসিং ডোভার বন্দরে ভোর ৬টা থেকেই হাজারো ছুটিযাপনকারী পণ্যবাহী লরির সঙ্গে যুক্ত হবেন, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের প্রস্তুতি নিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
ডোভারে অবস্থানরত ফরাসি সীমান্ত পুলিশ ইইএসের আওতায় ইইউ-বহির্ভূত যাত্রীদের ম্যানুয়ালি নিবন্ধন করবে। যাত্রীদের দ্রুত পারাপারের জন্য নির্মিত চার কোটি পাউন্ড ব্যয়ের স্বয়ংক্রিয় সুবিধাটি ফ্রান্সের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে চালু করা সম্ভব হয়নি।
যদিও ফরাসি পুলিশ (পিএএফ) এই মুহূর্তে ইইএসের প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক নিবন্ধন-ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ নেওয়া-সম্পন্ন করতে পারবে না, তারপরও প্রতিটি যাত্রীর জন্য পৃথক ফাইল তৈরি করতে অতিরিক্ত সময় লাগায় সীমান্তে দীর্ঘ সারি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার ডোভার দিয়ে ফ্রান্সগামী প্রায় সাড়ে সাত হাজার গাড়ি এবং শনিবার দশ হাজার গাড়ি পারাপারের সম্ভাবনা রয়েছে, যখন গ্রীষ্মের ব্যস্ততম মৌসুম শুরু হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ছুটিযাপনকারীদের কেবল প্রধান সড়ক ব্যবহার করে বন্দরে আসার এবং নির্ধারিত যাত্রার দুই ঘণ্টার বেশি আগে না পৌঁছানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
চ্যানেল টানেলের মাধ্যমে গাড়ি পারাপারকারী প্রতিষ্ঠান ইউরোটানেল জানিয়েছে, গ্রীষ্মের যানবাহন চাপ বাড়লেও তারা কোনো বিলম্বের আশঙ্কা করছে না। তবে ডোভারের মতোই, এই গ্রীষ্মে ইউরোটানেলের গাড়ি যাত্রীদের কাছ থেকেও সীমান্ত পুলিশ ইইএসের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানটিও স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়াকরণ কিয়স্কে লাখ লাখ পাউন্ড ব্যয় করলেও তা এখনো চালু করা যায়নি।
এদিকে, এই সপ্তাহান্তে চৌদ্দ মিলিয়নেরও বেশি চালক বাড়ি ছেড়ে যাত্রা শুরু করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং আরএসি ও ইনরিক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবার সবচেয়ে বেশি যানজট দেখা যাবে গ্রেটার লন্ডনের এম২৫ মহাসড়কের যেসব অংশ দক্ষিণ-পশ্চিমে এম৩-র সঙ্গে সংযুক্ত, সেসব এলাকায়।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অধিকাংশ স্কুল এই সপ্তাহান্তে গ্রীষ্মকালীন ছুটির জন্য বন্ধ হওয়ায় আরএসি জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের ঢল শনিবারই দেখা যাবে।
আরএসি'র মুখপাত্র হ্যারিয়েট হার্নান্দো বলেন, বহু মানুষ বিদেশ ভ্রমণের বদলে দেশেই ছুটি কাটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন অবকাশযাপন পুরোদমে শুরু হতে চলেছে। এর পেছনে আবহাওয়ার ওপর মানুষের বাড়তি আস্থা যেমন ভূমিকা রাখছে, তেমনি ফ্লাইট বাতিল, উচ্চ বিমান ভাড়া এবং ইইউ সীমান্তে বিলম্বের আশঙ্কাও কাজ করছে, যা পরিবারসহ ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, জুনের তাপপ্রবাহে গাড়ি বিকল হওয়ার ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল, তাই চালকদের প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সম্ভাব্য বিলম্ব ও যানজটের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
এএ (অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন)-র জরিপ অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে-যা গ্রীষ্মের সবচেয়ে ব্যস্ত সড়ক-ভ্রমণের সপ্তাহ বলে বিবেচিত হচ্ছে-প্রতি পাঁচজন চালকের একজন একশ মাইল বা তার বেশি দূরত্বের ভ্রমণে বের হবেন, এবং গরম আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে আরও অনেকে উপকূলীয় এলাকার দিকে ঝুঁকতে পারেন।
লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর জানিয়েছে, এই সপ্তাহান্ত থেকেই তাদের গ্রীষ্মকালীন ব্যস্ততম মৌসুম শুরু হচ্ছে, এবং শুক্রবারই হতে পারে সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। ভ্রমণ সংস্থা এবিটিএ জানিয়েছে, বিদেশগামী ব্রিটিশ ভ্রমণকারীদের মূল ঢল শুরু হবে আগামী সপ্তাহান্ত থেকে।
২৯টি দেশ নিয়ে গঠিত শেনজেন অঞ্চলে বিমানে যাওয়া যাত্রীদের অবতরণ ও প্রস্থানের সময় বিমানবন্দরেই ইইএস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ইউরোপের বৃহত্তম বিমান সংস্থা রায়ানএয়ার এই সপ্তাহেও সতর্ক করে জানিয়েছে, ব্রিটিশ যাত্রীরা অসম্পূর্ণ সীমান্ত অবকাঠামোর "পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র" হয়ে উঠতে পারেন এবং দীর্ঘ সারির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে যাত্রীদের। সংস্থাটি লিসবন, তেনেরিফে সাউথ, আলিকান্তে, মালাগা ও মিলান বেরগামোকে ইইএস-সংক্রান্ত বিলম্বের "বারবার ঘটতে থাকা" স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
-
পানি-সংক্রান্ত সমস্যায় বন্ধ ইয়র্ক হল লেজার সেন্টার ও বি ওয়েল দ্য স্পা
-
যুক্তরাজ্যে এক বছরে প্রায় ২ হাজার স্পন্সরশিপ লাইসেন্স বাতিল, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কেয়ার সেক্টর
-
যুক্তরাজ্যে হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার ভিসা সংকট আরও ঘনীভূত, ILR সংস্কার নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরেই টানাপোড়েন
-
যুক্তরাজ্যে চরম পানিসংকট ও বন্যাঝুঁকি: ‘হতে পারে ব্যাপক প্রাণহানি’
-
রাতে সোশ্যাল মিডিয়া ‘কারফিউ’ ঘোষণা ইউকে’র