ঢাকা ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ
ইউরোপ যাত্রার ফাঁদে লিবিয়ায় অপহরণ, উদ্ধার ১৩ বাংলাদেশি গ্রিসের উপকূলে অভিবাসীর ঢল, উদ্ধার ২০২ জন—বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেশি ইতালি পাঠানোর নামে ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, নিখোঁজ মাদারীপুরের রাজীব আমিরাতে ভিসা বাতিল আতঙ্ক: গুজব নয়, দূতাবাসের বার্তা মানুন নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনা: তিন বাংলাদেশির ক্ষতিপূরণ ৩৩ কোটি টাকা প্যারিসে থেকেও বাংলা গানের সঙ্গে জয়া বর্মণ জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন আদেশ : উদ্দেশ্য সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ মালয়েশিয়ার জাতীয় দলে বাংলাদেশি তরুণ, খেলবেন জন্মভূমির বিরুদ্ধে মেসির জোড়া গোলে লিগস কাপে দুর্দান্ত সূচনা, ৪-২ ব্যবধানে জিতল ইন্টার মায়ামি যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহে ২,৮৭৭ মৃত্যু, চাপ মোকাবিলায় এনএইচএসকে প্রস্তুতির নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আরব আমিরাতে শুক্রবার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা সৌদিতে কোম্পানি থেকে বাসায় গৃহকর্মী আনার নতুন সহজ নিয়ম চালু শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে যা লিখল বিশ্বমিডিয়া সৌদি প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ: জেনে নিন অভিযানের আসল কারণ ও আইনি নিয়মাবলি শেখ হাসিনা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট ছিলেন: রিজভী যুক্তরাজ্যে টয়লেট ব্যবহারে নতুন নিয়ম, বদলাবে ১৮ হাজার সাইনবোর্ড লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেনে ছুরি নিয়ে তাণ্ডব, আহত চার, নারী গ্রেপ্তার সিডনির সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নুরহায়াতি, লাইফ সাপোর্টে বাংলাদেশি মাহবুবুল প্যারিসে জেমসের কনসার্ট : এক টুকরো বাংলাদেশ আমিরাতে ৯৮৫ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল : তালিকা পাঠাল দূতাবাস প্রবাসজীবনের চাপ : মালদ্বীপে ১০ দিনে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু টাঙ্গুয়ার হাওরের একাংশে নৌযান নিষিদ্ধ, কত দূর যেতে পারবেন পর্যটকরা? সিডনির মঞ্চ মাতালেন রুনা লায়লা নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্ট: তারার মেলায় সেরা যারা লন্ডনে ব্রিক লেইন জামে মসজিদের ৫০ বছর: দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠান সেপ্টেম্বরে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশ যাত্রা, বুলডোজার দিয়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী ‘প্রতারণা’: নিউ জার্সিতে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার স্ত্রীকে মার*ধর, ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিস্কার আরব আমিরাতে কড়াকড়ি, কারা পড়ছেন নিষেধাজ্ঞার আওতায়? প্রবাসীদের টাকা নিয়ে উধাও ‘ইয়েপবিট’ ও ‘বনচ্যাট’

ইংল্যান্ডে এশীয় শিশুদের দাঁতে ক্ষয়ের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ এএম

ইংল্যান্ডে এশীয় শিশুদের দাঁতে ক্ষয়ের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি

ইংল্যান্ডে পাঁচ বছর বয়সী এশীয় শিশুদের মধ্যে দাঁতের ক্ষয়ের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে সরকারি সর্বশেষ পরিসংখ্যান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈষম্য দূর করতে "দ্রুত পদক্ষেপ" নেওয়া প্রয়োজন।

অফিস ফর হেলথ ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ডিসপ্যারিটিজ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকাগুলোতে বসবাসরত পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের দাঁতে ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম দরিদ্র এলাকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশিযথাক্রমে ৩২. শতাংশ ১৩. শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে জরিপে অংশ নেওয়া স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২২. শতাংশ) শিশুর দাঁতে ক্ষয় পাওয়া গেছে, যা গড়ে .৫টি দাঁতকে প্রভাবিত করেছে। আগের বছরের তুলনায় এই হার সামান্য কম ছিল, যখন ২৩. শতাংশ শিশুর দাঁতে ক্ষয় ধরা পড়েছিল।

জরিপে আরও দেখা গেছে, দাঁতের ক্ষয়ের প্রকোপ তীব্রতা এলাকাভেদে পরিবর্তিত হয়েছে। ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে দাঁতের ক্ষয়ের হার সবচেয়ে বেশি (২৮. শতাংশ) তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ের হার পাওয়া গেছে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ব্রেন্টে, যেখানে এই হার ৪৩. শতাংশ।

প্রতিবেদনে জাতিগত বৈষম্যের একটি স্পষ্ট চিত্রও উঠে এসেছে। সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে "অন্যান্য" শ্রেণিভুক্ত শিশুদের বাদ দিলেযাদের ক্ষয়ের হার প্রায় অর্ধেক (৪৫. শতাংশ)—সবচেয়ে বেশি হার এশীয় শিশুদের মধ্যে (৩৭. শতাংশ)

এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও পার্থক্য দেখা গেছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শিশুদের (৪৩. শতাংশ) দাঁতে ক্ষয়ের প্রকোপ চীনা বংশোদ্ভূত শিশুদের (২৪. শতাংশ) তুলনায় অনেক বেশি।

২০০৮ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে শিশুদের দাঁতের ক্ষয়ের হার ৩০. শতাংশ থেকে কমে ২৩. শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে ২০১৯ ২০২২ সালে এই উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকেনি, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামান্য হ্রাস ছাড়া তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডজুড়ে দাঁতের ক্ষয়ের হারে বিদ্যমান বৈষম্য কার্যত থমকে গেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থীদের দাঁতের ক্ষয়ের বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও, তারপর থেকে এই বৈষম্যে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

উল্লেখ্য, এনএইচএস দন্ত চিকিৎসকের সংকট এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসরকারি দন্তচিকিৎসার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার ইতিপূর্বে ইংল্যান্ডে দন্তচিকিৎসা ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

ব্রিটিশ ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এডি ক্রাউচ বলেন, ওয়েস্টমিনস্টারের ব্যর্থতার কারণেই এই মৌখিক স্বাস্থ্য বৈষম্য তৈরি হয়েছে, আর তার মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের। তিনি বলেন, নতুন সরকার একে "ডিকেন্সীয়" পরিস্থিতি বলে অভিহিত করলেও, পরিস্থিতি বদলাতে হলে কথা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সরকার এই ভয়াবহ বৈষম্য দূর করাকে "নৈতিক অভিযান" বলে অভিহিত করেছিল, কিন্তু মন্ত্রীরা প্রকৃতপক্ষে দাঁতের ক্ষয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামলেই কেবল এই আখ্যা সার্থক হবে।

রয়্যাল কলেজ অব সার্জনসের ফ্যাকাল্টি অব ডেন্টাল সার্জারির ডিন . শার্লট একহার্ট বলেন, সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডে ছোট শিশুদের মৌখিক স্বাস্থ্যে উল্লেখযোগ্য বৈষম্যের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। সবচেয়ে দরিদ্র এলাকার শিশুদের দাঁতে ক্ষয় হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম দরিদ্র এলাকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়াটা তার কাছে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়, আর নির্দিষ্ট কিছু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে এই বৈষম্য আরও প্রকট।

তিনি বলেন, লন্ডনের মতো এলাকাগুলো দেখিয়ে দেয় যে টেকসই হস্তক্ষেপ ছাড়া অর্জিত উন্নতি কতটা ভঙ্গুর হতে পারে। তার মতে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সামঞ্জস্যপূর্ণ লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ প্রয়োজন, এবং সকল শিশুর জন্য এনএইচএস দন্তচিকিৎসা সুবিধা উন্নত করতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রতিটি শিশু যাতে তার পটভূমি নির্বিশেষে নিজের মৌখিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপযেমন তত্ত্বাবধানে দাঁত মাজার কর্মসূচিদ্রুত চালু করা এবং এনএইচএস দন্তচিকিৎসায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিফেন কিনোক বলেন, প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশুকে সহজে প্রতিরোধযোগ্য দাঁতের যন্ত্রণাদায়ক ক্ষয়ে ভুগতে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি আরও বলেন, রোগীদের চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে কোটি কোটি পাউন্ড ব্যয়ে চালু করা "নতুন রোগী প্রিমিয়াম" কর্মসূচি কার্যত কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি, যা লজ্জাজনক।

তিনি জানান, এনএইচএস দন্তচিকিৎসা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে দরিদ্র এলাকাগুলোতে তত্ত্বাবধানে দাঁত মাজার কর্মসূচিসহ একটি যথাযথ প্রাথমিক হস্তক্ষেপ পরিকল্পনা, যাতে শিশুরা আজীবন সুস্থ দাঁতের অধিকারী হতে পারে।

এছাড়া, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন রোগীদের সহায়তায় অতিরিক্ত সাত লাখ জরুরি দন্তচিকিৎসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে এবং আরও বেশি দন্তচিকিৎসককে এনএইচএস সেবা দিতে উৎসাহিত করতে দন্তচিকিৎসা চুক্তি সংস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান