- বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড দমনে সরকারের নতুন ক্ষমতা; বৈধ সাংবাদিকতা, কূটনৈতিক ও মানবিক কাজ আইনের আওতার বাইরে।
বিদেশি রাষ্ট্র ও তাদের প্রতিনিধিদের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। রাজকীয় অনুমোদন (Royal Assent) পাওয়ার পর আইনটি কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রসচিব বিদেশি রাষ্ট্রের পক্ষে বা তাদের স্বার্থে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলোকে চিহ্নিত (Designate) করে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আদলে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, নতুন আইনের লক্ষ্য হলো বিদেশি রাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠীর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে সংঘটিত শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা। এর মধ্যে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ভিন্নমতাবলম্বীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, নাশকতা এবং প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত গোপন তৎপরতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন আইনের আওতায় স্বরাষ্ট্রসচিব কোনো গোষ্ঠীকে মনোনীত করলে তাদের প্রকাশ্যে সমর্থন করা, সহযোগিতা করা, অর্থ গ্রহণ করা বা তাদের কর্মকাণ্ডের প্রচার চালানো ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে আইনটিতে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কূটনৈতিক দায়িত্ব, মানবিক সহায়তা, নিবন্ধিত দাতব্য কার্যক্রম কিংবা বৈধ সাংবাদিকতার প্রয়োজনে মনোনীত গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত যোগাযোগ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না।
- কেন এই আইন?
যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি রাষ্ট্রের মদদে পরিচালিত গুপ্তচরবৃত্তি, নাশকতা, সাইবার হামলা এবং প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়েছে। এমআই৫-এর তথ্যমতে, রাষ্ট্রসমর্থিত হুমকি-সংক্রান্ত তদন্ত গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যমান আইনের পাশাপাশি আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রয়োজন ছিল।
- সরকারের বক্তব্য
স্বরাষ্ট্রসচিব শাবানা মাহমুদ বলেন, "দেশের জনগণ, প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা সরকারের প্রথম দায়িত্ব। বিদেশি রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় এই আইন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ক্ষমতা দেবে।"
এমআই৫ এবং কাউন্টার টেররিজম পুলিশিংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও নতুন আইনকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, বিদেশি রাষ্ট্রসমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নাশকতার ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- ইতোমধ্যে যেসব ঘটনায় ব্যবহার হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা আইন
সরকার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় ইতোমধ্যে পূর্ব লন্ডনের একটি গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যে বসবাসরত হংকং-সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় বিদেশি রাষ্ট্রসমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আরও সহজ হবে বলে সরকারের বিশ্বাস।
- ৫২বাংলার বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই আইন সাধারণ অভিবাসী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী বা বৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্য করে নয়। বরং বিদেশি রাষ্ট্রের পক্ষে পরিচালিত সংগঠিত শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড, প্রক্সি গোষ্ঠী এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধই এর মূল উদ্দেশ্য। ফলে বৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি বিদেশি রাষ্ট্রসমর্থিত মনোনীত গোষ্ঠীর সঙ্গে আর্থিক বা সাংগঠনিকভাবে যুক্ত থাকে, সেক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তথ্যসূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Home Office), GOV.UK, এমআই৫।
-
টাওয়ার অব লন্ডন ইস্যুতে টাওয়ার হ্যামলেটসের লোকাল প্ল্যানের শুনানি স্থগিত
-
যুক্তরাজ্যে আবারও বাড়ছে টিভি লাইসেন্স ফি, বাড়বে নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক চাপ
-
যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট লোনের ফাঁদে ৫৮ লাখ শিক্ষার্থী, চাপে সরকার
-
ফোন হ্যাকিং মামলায় হেরে প্রিন্স হ্যারি ও অন্য দাবিদারদের £৫০ মিলিয়ন পর্যন্ত আইনি বিলের ঝুঁকি
-
যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের কঠিন সময়: বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়, কমছে সামাজিক সহায়তা