একজন খেলোয়াড় কমে গেলে অনেক দলই রক্ষণে ভেঙে পড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই চিত্র বদলে দিয়েছে—প্রায় ৩০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও কোনো গোল হজম করেনি তারা।
ম্যাচের শুরুতে নায়ক ছিলেন ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগান, যিনি লাল কার্ড দেখার আগে দলকে এগিয়ে দেন। মৌরিসিও পচেত্তিনোর দলের হয়ে প্রথম গোলটি আসে তার পা থেকেই।
লাল কার্ডের পরও যুক্তরাষ্ট্র আত্মবিশ্বাস হারায়নি। বরং ১০ জনে নেমে পড়া দলটি শেষদিকে আরও একটি গোল করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করে।
সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে দুই দলই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে বসনিয়া। অভিজ্ঞ এদিন জেকোর পাস থেকে এরমেদিন দেমিরোভিচ শট নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ তা প্রতিহত করেন। পরের মিনিটে কর্নার থেকেও বিপদ সামাল দেন তিনি।
ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়েস্টন ম্যাককেনি, মালিক টিলম্যান ও ফ্লোরিয়ান বালোগানকে ঘিরে আক্রমণ গড়ে ওঠে। ৩১ মিনিটে বালোগন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অবশেষে গোল পায় যুক্তরাষ্ট্র। মাঝমাঠ থেকে টিলম্যানের বাড়ানো বল ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে বালোগানের কাছে পৌঁছে যায়। ঠান্ডা মাথায় সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
বিরতির পর ৬৪তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বল দখলের লড়াইয়ে তারিক মুহারেমোভিচের পায়ে বিপজ্জনকভাবে স্টাড লাগান বালোগান। ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় (VAR) ঘটনাটি দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। মুহূর্তেই নায়ক থেকে দলের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ওঠেন তিনি।
তবে একজন কম নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ভেঙে পড়েনি। শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা। ৭৮ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান পুলিসিকের গোল অফসাইডে বাতিল হয়।
শেষ পর্যন্ত ৮২তম মিনিটে ম্যাচ নিশ্চিত করেন মালিক টিলম্যান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে নিখুঁত শটে গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলিকে পরাস্ত করেন তিনি।
গোলের পর স্টেডিয়ামের উচ্ছ্বাস নিয়ে ধারাভাষ্যকার বলেন, "এই স্টেডিয়ামের যদি ছাদ থাকত, এই উল্লাসে সেটাও উড়ে যেত।"
পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আটটি শট নিয়ে মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারলেও সেই দুটি থেকেই এসেছে দুই গোল। আরও দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত একজন খেলোয়াড় নিয়েও বসনিয়া স্পষ্ট কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ ২৬ মিনিটসহ যোগ করা সময়ে প্রায় ৩৭ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেও কোনো গোল হজম করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
বসনিয়ার জন্য ম্যাচটি আবেগঘনও ছিল। কিংবদন্তি স্ট্রাইকার এদিন জেকো খেলেন নিজের ১৫১তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ৪০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড—যা হতে পারে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে United States। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী মঙ্গলবার সিয়াটলে তাদের প্রতিপক্ষ Belgium।
মেসি শাস্তি পাননি, বালোগান কেন পেলেন—লাল কার্ড নিয়ে বিতর্ক
সান ফ্রান্সিসকোয় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকালে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচে ৪৫ মিনিটে গোল করার পর ৬৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন ফ্লোরিয়ান বালোগান। ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ধারাভাষ্যকার ও ভক্তদের মধ্যে। প্রশ্ন উঠেছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রায় একই ঘটনায় লিওনেল মেসি কেন শাস্তি পাননি?
৬২ মিনিটে বল দখলের লড়াইয়ে বালোগান কিছুটা পেছনে পড়ে যান। দৌড়ে সামনে চলে যান তারিক মুহারেমোভিচ। বল ক্লিয়ার করার মুহূর্তে বালোগান পেছন থেকে এসে তার পায়ের গোড়ালির পেছনে পা তুলে দেন।
শুরুতে রেফারি কোনো ফাউলই দেননি। দুই খেলোয়াড়ই চোট পেলে খেলা থেমে যায়। পরে VAR-এর পরামর্শে মনিটরে রিপ্লে দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখান ক্লাউস।
মেসিকে ঘিরে বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে। আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার মান্দির পায়ের পেছনে বুটের স্টাড তুলে আঘাত করেন মেসি। তবুও পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক তাকে কোনো কার্ড দেখাননি।
বিবিসিতে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড বলেন, ‘ঠিক এই জায়গাগুলোতেই মানুষ VAR নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সবাই নিয়মের একই প্রয়োগ দেখতে চায়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির সেই ট্যাকল আমাদের সবার মনে আছে। অনেকেরই ধারণা, ওটা সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল, অথচ সেটি ঠিকভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। আর এখন বালোগানের ক্ষেত্রে দেখুন—VAR হস্তক্ষেপ করল, রেফারি মনিটর দেখলেন এবং সরাসরি লাল কার্ড দিলেন। এই ভিন্নতা খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের হতাশ করে।’
ইংল্যান্ড নারী দলের সাবেক স্ট্রাইকার সু স্মিথ বলেন, ‘রিপ্লে দেখে মনে হতে পারে এটি স্পষ্ট লাল কার্ড। কিন্তু স্বাভাবিক গতিতে দেখলে সিদ্ধান্তটি অনেক কঠোর মনে হতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত তার পা-টা ভুল জায়গায় পড়ে গেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসি বলেন, ‘এখন আমাদের ম্যাচের চেয়ে রেফারিং নিয়ে বেশি কথা বলতে হচ্ছে। আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে বেশি শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বালোগানের অপরাধ সরাসরি লাল কার্ডের মতো ছিল না।’
যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও একমত, ‘এটা কখনোই লাল কার্ড হতে পারে না। প্রতিপক্ষের পা মাড়ানোর কোনো উদ্দেশ্যই ওর ছিল না।’
মেসির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দুটির কোনোটিই লাল কার্ড পাওয়ার মতো ফাউল ছিল না।’
লাল কার্ডের কারণে শেষ ষোলোয় Belgium-এর বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবেন না বালোগান।
-
নেইমারকে না নামানোর কারণ জানালেন ব্রাজিল কোচ, কৌশলে জাপান-বাধা পেরুলেন
-
মাথা নত করে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন জাপানের কোচ মরিয়াসু
-
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন হ্যারি কেইন
-
পানামাকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা ইংল্যান্ড, রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া
-
ফিফায় ব্রাজিলের অভিযোগ: মেসির গোল টিকলে ভিনিসিয়ুসের কেন নয়?