যুক্তরাজ্যে মানবাধিকার আইন কঠোর করে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের পরিকল্পনা করলেও প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারীদের অর্ধেকেরও বেশি আসলে যুক্তরাজ্যেই থেকে যাবেন বলে হোম অফিসের নিজস্ব মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এই স্বীকারোক্তিই এখন সরকারের অভিবাসন নীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত হোম অফিসের দলিলে দেখা গেছে, ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটসের আর্টিকেল ৮ সংক্রান্ত নতুন বিধিনিষেধের ফলে বার্ষিক অতিরিক্ত ১১,৭০০ আবেদন প্রত্যাখ্যান হবে। কিন্তু একই মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, এই প্রত্যাখ্যাতদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ আসলে যুক্তরাজ্যেই থেকে যাবেন।
- নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় বিল: কী আছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্টে নতুন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল উপস্থাপন করেছেন। এই বিলে রয়েছে -
আশ্রয়প্রার্থীদের স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পাওয়ার আগে ১০,০০০ পাউন্ড ফি আদায়ের প্রস্তাব। বিচারক ছাড়াই নতুন আপিল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা। আধুনিক দাসত্ব (Modern Slavery) সংক্রান্ত আবেদনে নতুন বিধিনিষেধ, যেখানে যুক্তরাজ্যে আসার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে এবং প্রতি ব্যক্তি মাত্র একটি আবেদন করতে পারবেন।
বিলটি অনুযায়ী, আর্টিকেল ৮-এর আওতায় এখন থেকে শুধু সংকুচিত সংজ্ঞার 'মূল পারিবারিক একক' — অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান — হিসেবে স্বীকৃত সদস্যরাই আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে থাকাকালীন যারা পরিবার গঠন করেছেন, তারা স্ত্রী বা সন্তানের পরিচয় দেখিয়ে আর বহিষ্কার এড়াতে পারবেন না।
- আর্টিকেল ৮ আসলে কী
ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটসের আর্টিকেল ৮ হলো পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার সংক্রান্ত বিধান। গত বছর এই বিধানের ভিত্তিতে ৩৪,০০০ আশ্রয়প্রার্থী যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি পেয়েছেন। হোম অফিসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আর্টিকেল ৮ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে থাকা প্রতিটি অভিবাসীর আজীবন ব্যয় করের পর ১,৪১,০০০ পাউন্ড।
- সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া
রেফিউজি কাউন্সিলের বাহ্যিক বিষয়ক পরিচালক ইমরান হোসেন বলেন, এই বিল "হোম অফিসের জন্য এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য বছরের পর বছর ধরে বিশৃঙ্খলা" তৈরি করবে।
তিনি বলেন, "এটি হোম অফিসের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন আমলাতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি করবে- নতুন আপিল ব্যবস্থা ও শরণার্থীদের ওপর অন্যায্য কর চাপিয়ে -কিন্তু আসলে যে বিষয়টি দেরি ও ব্যয় বাড়াচ্ছে, অর্থাৎ প্রাথমিক সিদ্ধান্তের নিম্নমান, সেটি উপেক্ষা করা হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "প্রতিদিন আমাদের সামনের সারির সেবায় আমরা আফগানিস্তান ও সুদানের মতো দেশ থেকে আসা নারী, পুরুষ ও শিশুদের দেখি যারা নির্যাতন, ভয়াবহ যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে এসেছেন। আগের প্রজন্মের শরণার্থীদের মতো তারাও শুধু নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান- আমাদের NHS, কেয়ার হোম ও হাই স্ট্রিটে কাজ করতে চান।"
তার মতে, "সরকার যদি সত্যিই একটি ন্যায্য ও কার্যকর আশ্রয় ব্যবস্থা গড়তে চায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী তাৎক্ষণিক সমাধানের চক্র ভাঙতে হবে।"
এদিকে কিছু লেবার এমপিও বিলের সবচেয়ে কড়া বিধানগুলোর বিরোধিতা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে গত সপ্তাহে হোম অফিস জানিয়েছে, ইংল্যান্ডে আরও ২০টি হোটেল বন্ধ করার পর হাজারো আশ্রয়প্রার্থীকে রাখতে সাবেক সামরিক ব্যারাক ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে সরকার।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, হোম অফিস ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট, রেফিউজি কাউন্সিল
৫২বাংলা | 52banglatv.com
-
যুক্তরাজ্যে দেয়ালে পিঠ ঠেকা কেয়ার কর্মীরা : এখনই কী করণীয়, আইন কী বলছে
-
যুক্তরাজ্যে স্বামী বা পরিবারের নির্যাতনের শিকার অভিবাসীদের মিলতে পারে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি
-
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার মুহাম্মদ আবদুল মুহিত - পেশাগত পরিচয় কী?
-
বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল শূন্য - ১০ বছর! যুক্তরাজ্যে অক্টোপাস এনার্জির অবিশ্বাস্য অফার
-
যুক্তরাজ্যে শরণার্থী স্পনসরশিপ ভিসা চালুর ঘোষণা, আবেদন শুরু এ বছরেই