যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বার হিট-হেলথ ওয়ার্নিং জারি করেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও ঘনত্ব বেড়েছে। ২০২২ সালে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও একাধিকবার তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ওঠে। চলতি বছরও গ্রীষ্মের শুরুতেই বেশ কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, নতুন এই তাপপ্রবাহে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অস্বাভাবিক গরম বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ এবং বাইরে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত তাপের কারণে পানিশূন্যতা, হিট এক্সহস্টশন, হিটস্ট্রোক, হৃদ্রোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনযাত্রাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অতিরিক্ত গরমের কারণে রেল ও সড়ক পরিবহন ব্যাহত হওয়া, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া এবং হাসপাতাল ও কেয়ার হোমগুলোতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি খাতেও তাপপ্রবাহের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী গরম ও বৃষ্টিপাতের ঘাটতির কারণে মাটির আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এতে গম, বার্লি, আলু এবং বিভিন্ন মৌসুমি সবজির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি গবাদিপশুর ওপর তাপজনিত চাপ বৃদ্ধি এবং সেচের জন্য পানির চাহিদাও বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনগণকে পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদে দীর্ঘ সময় অবস্থান এড়িয়ে চলা এবং বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে।
-
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান পাচ্ছেন হাউস অব লর্ডসের সদস্যপদ, স্টারমারের শেষ সময়ের সিদ্ধান্তে
-
ডোভার সীমান্তে ইইউ-র নতুন নিয়মে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা, রেকর্ড সংখ্যক ব্রিটিশ পর্যটকের যাত্রা
-
পানি-সংক্রান্ত সমস্যায় বন্ধ ইয়র্ক হল লেজার সেন্টার ও বি ওয়েল দ্য স্পা
-
যুক্তরাজ্যে এক বছরে প্রায় ২ হাজার স্পন্সরশিপ লাইসেন্স বাতিল, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কেয়ার সেক্টর
-
যুক্তরাজ্যে হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার ভিসা সংকট আরও ঘনীভূত, ILR সংস্কার নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরেই টানাপোড়েন
আরও পড়ুন: