আর এক সপ্তাহ পরেই ৩৯ বছরে পা দেবেন তিনি। সাধারণত এই বয়সের অনেক আগেই ফুটবলারের ক্যারিয়ার শেষের পথে চলে যায়। কিন্তু নাম যখন লিওনেল মেসি, তখন সব হিসাবই ভিন্ন। এই বয়সেও নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি—বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলের তালিকায় পৌঁছে গেলেন শীর্ষে। অধিনায়কের স্মরণীয় পারফরম্যান্সে বড় জয় দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করল আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ক্যানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সপ্তদশ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। ৬০তম মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলকিপার লুকা জিদানের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান বাড়ান তিনি। ৭৬তম মিনিটে আরও একটি অসাধারণ গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।
এই ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসে নাম লেখান মেসি। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলার তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যাচ খেলার ডাবল সেঞ্চুরিও স্পর্শ করেন তিনি। এরপর ঐতিহাসিক দিনটিকে রাঙান দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে।
১৬ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় স্পর্শ করেন সাবেক জার্মান ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসাকে।
২০০৬ সালের ১৬ জুন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়েছিলেন মেসি, তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৫৮ দিন। ঠিক ২০ বছর পর তিনি হলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা।
ম্যাচের শুরুতেই ছিল নাটকীয়তা। প্রথম দশ মিনিটে লড়াই ছিল সমানতালে।
চতুর্থ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের দুর্বল হেড সহজেই ধরেন আলজেরিয়ার গোলকিপার লুকা জিদান।
পরের মিনিটেই মার্তিনেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঢুকে জিদানকে চিপ করে বল জালে পাঠান মেসি। ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু রেফারির বাঁশিতে সেই উচ্ছ্বাস থেমে যায়—অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
দুই মিনিট পর একই অভিজ্ঞতা হয় আলজেরিয়ার। ফারিদ এল মেলালি শেইবির চমৎকার পাস থেকে এহমেদ কেন্দুসি মাজা বল জালে জড়ালেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেটিও অফসাইড হিসেবে বাতিল হয়।
তবে প্রথম বৈধ গোলের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। সপ্তদশ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন মেসি। জিদান ডাইভ দিলেও বল ছুঁতে পারেননি।
বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে এটি মেসির পঞ্চম গোল, যা ১৯৬৬ সালের পর সর্বোচ্চ।
২০০৬ বিশ্বকাপে মেসির অভিষেক হয়েছিল জিনেদিন জিদানের শেষ বিশ্বকাপে। ২০ বছর পর নিজের শেষ বিশ্বকাপে জিদানের ছেলের বিপক্ষে গোল করলেন তিনি।
এর আগে গোল খেয়ে বিশ্বকাপে কখনোই জিততে পারেনি আলজেরিয়া। আগের ছয় ম্যাচে তারা হেরেছে, জিতেছে দুটি।
এরপর বলের দখল ধরে রেখে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। হাইড্রেশন বিরতির পর কিছুটা গুছিয়ে ওঠে আলজেরিয়া।
৩৭তম মিনিটে প্রায় ৪০ মিটার দূর থেকে ফ্রি কিকে সরাসরি গোলের চেষ্টা করেন মেসি, কিন্তু বল উড়ে যায় ওপর দিয়ে।
৩৯তম মিনিটে শেইবির কাছ থেকে নেওয়া শট ঠেকান এমি মার্তিনেস। পরের মিনিটে শেইবির হেড বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আনিস হাজ মুসার আক্রমণও রুখে দেন মার্তিনেস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ছিল কিছুটা ধীরগতির। ৫১তম মিনিটে মেসির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দুই মিনিট পর মেসির দারুণ পাস থেকে লাউতারো মার্তিনেসের শট ফিরিয়ে দেন জিদান।
৬০তম মিনিটে ম্যাক আলিস্তেরের শট ঠেকাতে গিয়ে বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি জিদান। সামনে থাকা মেসি সহজ টোকায় বল জালে জড়ান।
এরপর হ্যাটট্রিকের অপেক্ষা। ৬৫তম মিনিটে সুযোগ এলেও জিদান দুর্দান্ত সেভ করেন।
অবশেষে সেই মুহূর্ত আসে। পাল্টা আক্রমণে নিকো গন্সালেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের সামনে থেকে নিখুঁত শটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি।
৭৯তম মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হলে পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়।
বাকি সময়ে আর উল্লেখযোগ্য কিছু হয়নি। মেসিময় ম্যাচে আর কিছু হওয়ার প্রয়োজনও ছিল না!
-
ব্রাজিলের দুঃসংবাদ: গ্রুপ পর্বে খেলতে পারছেন না নেইমার, অনিশ্চয়তা বাড়ছে বিশ্বকাপ ঘিরেও
-
কেমন খেলল ব্রাজিল : মরক্কোর কাছে হোঁচট, ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু
-
ব্রাজিলের খেলা কখন, কবে, কার সঙ্গে—পূর্ণ সূচি ও সম্ভাব্য পথচিত্র
-
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ : কোন ম্যাচ কখন ,কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
-
বিশ্বকাপ ২০২৬: ফেভারিট কারা, চমক দেখাবে কোন দল?
আরও পড়ুন: