একসময় উন্নত জীবন, স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে যুক্তরাজ্য ছিল অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির অর্থনৈতিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নীতিতে কঠোরতার কারণে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।
বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, জ্বালানি ও বিদ্যুতের বিল, পরিবহন এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবারকে আগের তুলনায় আরও হিসাব করে চলতে হচ্ছে।
বাড়ছে ব্যয়, বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাজ্যে গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অভিবাসীদের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই একই আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের পরিবার দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়, তাদের জন্য আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির মতো ইউটিলিটি বিলের ঊর্ধ্বগতি। ফলে মাসিক আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা
অভিবাসীদের বড় একটি অংশ স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা, পরিবহন, খুচরা বিক্রয় এবং কেয়ার খাতের মতো শ্রমনির্ভর পেশায় নিয়োজিত। তবে অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিয়োগে সতর্কতার কারণে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। কোথাও কোথাও কর্মঘণ্টা কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত কাজের সুযোগ সীমিত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সংকুচিত হচ্ছে সামাজিক সহায়তা
যুক্তরাজ্যের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি ব্যয় সংকোচন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বাজেট চাপ এবং নীতিগত পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সেবা আগের তুলনায় সীমিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আবাসন সহায়তা, স্থানীয় কাউন্সিলের বিভিন্ন সেবা, স্বাস্থ্যসেবার দীর্ঘ অপেক্ষা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক সুবিধা পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় ও শর্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে অনেককে।
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্য সরকার বৈধ অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে একের পর এক নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। দক্ষ কর্মী ভিসার বেতনসীমা বৃদ্ধি, পরিবারের সদস্য আনার নিয়ম কঠোর করা এবং স্থায়ী বসবাসের বিভিন্ন শর্ত কঠিন হওয়ার ফলে নতুন ও পুরোনো—উভয় ধরনের অভিবাসীদের মধ্যেই অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
যারা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের অনেককেই এখন আগের তুলনায় বেশি আর্থিক ও প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।
নতুন বাস্তবতায় অভিবাসী সমাজ
বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের একটি বড় অংশ কঠোর পরিশ্রম, সঞ্চয় এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জীবন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সেই পথ আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন, আয় বৃদ্ধির বিকল্প উপায় খোঁজা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতন হওয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্য এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং আইনের শাসনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ। তবে অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের ফলে অভিবাসী সমাজকে এখন নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে সচেতন পরিকল্পনা, ব্যয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রস্তুতিই হতে পারে টিকে থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
-
অনিদ্রা কি বাড়াচ্ছে তরুণদের ক্যানসারের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় উদ্বেগ
-
৩০ মিনিটের বেশি বসে থাকলে ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে: গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা
-
বাকিংহাম প্যালেসে থাকার সুযোগ হারালেন প্রিন্স হ্যারি, রাজপরিবারের সঙ্গে নতুন বিরোধ
-
অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ জানা যাবে তিন সপ্তাহ আগেই: এনএইচএসের নতুন নিয়ম
-
মানবিক উদ্যোগ: গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ইস্ট লন্ডন মসজিদে বিনামূল্যে পানি ও স্লাশ বিতরণ