বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। গতকাল রাতে স্পেনের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। এটিই ছিল বিশ্বকাপে রোনালদোর শেষ ম্যাচ। ফলে পর্তুগিজ এই কিংবদন্তির কাছে বিশ্বকাপ ট্রফি অধরাই থেকে গেল। পরিসংখ্যানও বলছে, বিশ্বকাপে রোনালদো অনেক সময়ই নিজের সেরা ছায়া হয়ে থাকেন।
মাত্র ১ গোল
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১০ ম্যাচে ৭৪১ মিনিট খেলেও মাত্র ১টি গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সেটিও এসেছে পেনাল্টি থেকে। কোনো অ্যাসিস্ট নেই।
বেশি শট
এবারের বিশ্বকাপে রোনালদো নিয়েছেন ১৭টি শট। গত ৬০ বছরের মধ্যে সতীর্থদের জন্য একটি সুযোগও তৈরি না করে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়ার রেকর্ড এটি।
বল স্পর্শ দ্বিতীয় সর্বনিম্ন
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদো বল স্পর্শ করেছেন মাত্র ১৯ বার, যা তাঁর শুরু থেকে খেলা বিশ্বকাপ ম্যাচগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
অন-টার্গেটে শট মাত্র ২টি
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচেই রোনালদো অন-টার্গেটে ২টির বেশি শট নিতে পারেননি। গতকালের ম্যাচের আগে ২০১০ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে এবং ২০০৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২টি করে শট নিয়েছিলেন।
ড্রিবলিং নেই
বিশ্বকাপে নিজের শেষ ৯ ম্যাচে একবারও ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা করেননি রোনালদো এবং সর্বশেষ ১৫ ম্যাচে কোনো সফল ড্রিবল নেই। অর্থাৎ এবারের বিশ্বকাপে ড্রিবলিংয়ের চেষ্টাই করেননি তিনি।
মোট গোল ১১টি
বিশ্বকাপে রোনালদোর মোট গোল ১১টি, যা পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ। তবে এই ১১ গোলের মধ্যে ১০টিই এসেছে গ্রুপ পর্বে; নকআউট পর্বে তাঁর একমাত্র গোলটি এসেছে গত সপ্তাহে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে।
অ্যাসিস্ট মাত্র ২টি
বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে রোনালদোর অ্যাসিস্ট সংখ্যা ২টি—একটি ২০০৬ সালে এবং অন্যটি ২০১৪ সালে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী গোলদাতা
বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী গোলদাতা রোনালদো। সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলা, যিনি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ৪২ বছর বয়সে গোল করেছিলেন।
সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা খেলোয়াড় রোনালদো। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তিনি গোলটি করেন ৪১ বছর ১৪৭ দিনে।
অনন্য রেকর্ড
৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার রোনালদো।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ
লিওনেল মেসির (৩০) পর ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। বিশ্বকাপে তাঁর সেরা সাফল্য ২০০৬ সালের সেমিফাইনাল।