ঢাকা ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ২৪ মে ২০২৬
ঢাকা ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ২৪ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধ শেষের পথে, তবে বিধ্বংসী হামলা চলবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ এএম

ইরান যুদ্ধ শেষের পথে, তবে বিধ্বংসী হামলা চলবে: ট্রাম্প
ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ সামরিক অভিযান শেষের দিকে। তবে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে চাপ অব্যাহত থাকায় আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানকে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়তে হবে।


হোয়াইট হাউসের ভাষণ

গত বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল ট্রাম্পের প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণ। তিনি যুদ্ধক্লান্ত মার্কিন জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন এবং অভিযানের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।


সাফল্যের দাবি

ট্রাম্প বলেন,
‘আমাদের অভাবনীয় সাফল্যের বদৌলতে আমি আজ রাতে বলতে পারছি যে, আমরা সঠিক পথেই আছি এবং খুব দ্রুতই আমেরিকার সব সামরিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে যাচ্ছে।’


কৌশলগত লক্ষ্য প্রায় অর্জিত

তিনি আরও বলেন,
‘যুদ্ধের মূল কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।’
তবে সতর্ক করে দিয়ে যোগ করেন,
‘আমরা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ তাদের ওপর অত্যন্ত ভয়াবহ ও কঠোর হামলা চালাব।’


মিত্রদেশগুলোকে আশ্বস্ত

ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আঞ্চলিক মিত্র—
ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইন—কে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেবে না বা ব্যর্থ হতে দেবে না।’


আলোচনার ইঙ্গিত

ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। বর্তমান নেতৃত্বকে তিনি আগের তুলনায় ‘কম কট্টর ও বেশি যুক্তিবাদী’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সম্ভাব্য চুক্তির আভাস দেন।


চুক্তি না হলে কঠোর পদক্ষেপ

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।


তেলের বাজারে প্রভাব

ট্রাম্পের ভাষণ জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করতে পারেনি। বরং তেলের দাম আরও বেড়েছে, কারণ তিনি হরমুজ প্রণালি খুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছেন।


হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠেছে।


ইরানের অবস্থান

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, দেশের ‘শত্রুদের’ জন্য তারা এই জলপথ বন্ধই রাখবে।