রাজধানী তেহরান-এর নিলুফার স্কয়ার এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরান-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ( Esmail Baghaei )।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিক্ষার্থীসহ শহীদ হামেদানি স্কুল-এর হামলার আগের ও পরের ছবি প্রকাশ করেন। তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাননি; এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, ঘটলে কতজন তা-ও উল্লেখ করেননি।
তার এ বক্তব্য সত্য হলে চলমান সংঘাতে এটি হবে চতুর্থ স্কুল যেখানে ইসরায়েল ও United States হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে Al Jazeera।
মিনাবের স্কুলে প্রাণহানির ঘটনা
গত শনিবার হামলা শুরুর দিনেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর Minab-এ শাজারেহ তাইয়েবা গার্লস স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৬০ শিক্ষার্থী ও ৫ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন।
হামলার পর ইসরায়েল–সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, স্কুলটি Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর একটি ঘাঁটির অংশ ছিল। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যম এই দাবির সত্যতা পায়নি।
আল জাজিরার অনুসন্ধান
এক দশকের বেশি পুরোনো উপগ্রহচিত্র এবং বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন, ভিডিও ক্লিপ ও ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে Al Jazeera জানিয়েছে, স্কুলটি কাছাকাছি সামরিক স্থাপনা থেকে অন্তত ১০ বছর ধরে আলাদা স্থানে অবস্থিত।
গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে প্রশ্ন
হামলার পেছনে যে গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, হামলার ধরন কী ছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই তদন্ত চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে যে তাদের সামরিক বাহিনী ঘটনাটি পর্যালোচনা করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা
বার্তা সংস্থা Reuters দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মিনাবের ওই স্কুলে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীই দায়ী হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
জাতিসংঘের তদন্তের আহ্বান
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান Volker Türk শুক্রবার ওয়াশিংটনের প্রতি দ্রুত তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই এটি দ্রুত শেষ হোক এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি হতাহতদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।” জেনেভায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পারান্দ শহরেও স্কুলে হামলার অভিযোগ
এর আগে বৃহস্পতিবারও তেহরানের দক্ষিণ–পশ্চিমের Parand শহরে দুটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
ইরানের বার্তা সংস্থা Fars News Agency ওই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি শ্রেণিকক্ষ ও পাশের আবাসিক ভবনের ছবি প্রকাশ করেছে।
হামলায় শিশু নিহতের সংখ্যা
শুক্রবার UNICEF জানিয়েছে, ইরানে চলমান হামলায় নিহত এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৮১ জন শিশু রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের সম্ভাবনা
আন্তর্জাতিক আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলে হামলা চালানো হলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদি এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনার তালিকায় এটি স্থান পেতে পারে বলে জানিয়েছে Al Jazeera।
-
স্পেনে কাজ পেলেন ৬ লাখ অভিবাসী: বৈধতার আবেদন ১১ লাখ ছাড়াল
-
'প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট' উদ্বোধন ট্রাম্পের, সমালোচনার ঝড় উঠেছে আমেরিকায়
-
শেষ ষোলোয় কার মুখোমুখি কে—পূর্ণ সূচি ও বিশ্লেষণ
-
আলি খামেনির শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল, যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তি দেখাচ্ছে ইরান
-
খামেনির কফিনে লাল পতাকা: প্রতীকী বার্তা কী, শেষ বিদায়ে কেন থাকছেন না মোজতবা খামেনি