ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ
যুক্তরাজ্যে নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর, লঙ্ঘনে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আপিল খারিজ সর্বোচ্চ আদালতের আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে মামদানি: ‘ডাকাতি’ করে মিসরকে হারানোর অভিযোগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত ইরানের রাজকীয় সম্মাননা এমবিই অর্জনে সংবর্ধিত কবি-নাট্যকার আবু তাহের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’—ট্রাম্পের ঘোষণা, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করল সৌদি আরব, ভ্রমণ হবে আরও সহজ রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত দাবি মিশরের, আর্জেন্টিনা ম্যাচ ঘিরে নতুন বিতর্ক টাওয়ার অব লন্ডন ইস্যুতে টাওয়ার হ্যামলেটসের লোকাল প্ল্যানের শুনানি স্থগিত যুক্তরাজ্যে আবারও বাড়ছে টিভি লাইসেন্স ফি, বাড়বে নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক চাপ যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট লোনের ফাঁদে ৫৮ লাখ শিক্ষার্থী, চাপে সরকার ফোন হ্যাকিং মামলায় হেরে প্রিন্স হ্যারি ও অন্য দাবিদারদের £৫০ মিলিয়ন পর্যন্ত আইনি বিলের ঝুঁকি যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের কঠিন সময়: বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়, কমছে সামাজিক সহায়তা আন্তর্জাতিক বাউল ও লোকসংস্কৃতি উৎসব লন্ডনে, যোগ দিচ্ছেন শফি মণ্ডল ও ডলি মণ্ডল অনিদ্রা কি বাড়াচ্ছে তরুণদের ক্যানসারের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় উদ্বেগ খামেনির শেষ বিদায়ে লাখো মানুষের ঢল ‘জুলাইযোদ্ধাদের মারতে’ পুরস্কার ঘোষণা বিশ্বকাপে এ কেমন রোনালদো? বালোগানকে নিয়ে নেমেও কী করলো যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের কলঙ্ক? ৩০ মিনিটের বেশি বসে থাকলে ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে: গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাকিংহাম প্যালেসে থাকার সুযোগ হারালেন প্রিন্স হ্যারি, রাজপরিবারের সঙ্গে নতুন বিরোধ অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ জানা যাবে তিন সপ্তাহ আগেই: এনএইচএসের নতুন নিয়ম অশ্রুসিক্ত নয়নে নেইমারের বিদায়, যা বললেন প্রাইমারিতে জিয়া, খালেদা ও তারেকের ৩ বই রাখার নির্দেশ পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় পলি ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টারে নরওয়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলামসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ স্পেনে কাজ পেলেন ৬ লাখ অভিবাসী: বৈধতার আবেদন ১১ লাখ ছাড়াল বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবলের এত ভক্ত কেন? ইতিহাস নাকি আবেগ মেসিকে ছাড়িয়ে যাবেন এমবাপ্পে!

'করোনা'র অর্থনৈতিক প্রভাব

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২০, ০৪:১০ এএম

'করোনা'র অর্থনৈতিক প্রভাব
মানব জাতির অদৃশ্য শত্রু করোনা ভাইরাস সম্পর্কে প্রায় সমগ্র বিশ্বের মানুষ এখন ওয়াকিবহাল! আমেরিকার দুর্দণ্ডপ্রতাপ রাষ্ট্রপতির নাম যেমন বিশ্বের শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে অনেকেই জানেন, তেমনই, জানেন এই মারণরোগের নাম! অর্থাৎ সাধারণত মানুষ সে-সকল ব্যক্তি, বস্তু, সংগঠন, রাষ্ট্র ও রোগের নাম মনে রাখতে বাধ্য, যার যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার তথা প্রাণনাশের আশঙ্কা আছে! আমেরিকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভূতপূর্ব দুই রাষ্ট্রপতি যথাক্রমে সিনিয়র জর্জ বুশ ও জুনিয়র জর্জ বুশের নাম জানেন না, এরকম লোক কমই আছেন! অথচ, আমেরিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন-এর নাম সকল শিক্ষিত ব্যক্তিও জানেন কি না, সন্দেহ আছে! আব্রাহাম লিঙ্কনের নাম রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ছাড়া সর্বস্তরের জনগণের মনে আছে কি না, সমীক্ষা করে জানতে হবে! কথায় আছে, বেশিরভাগ মানুষই শক্তের ভক্ত! নরমের যম! করোনা ভাইরাসও আমেরিকার বর্তমান রাষ্ট্রপতির মতোই দুর্দণ্ডপ্রতাপশালী! বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে ইতিমধ্যে তার 'উপনিবেশ' কায়েম করতে সক্ষম হয়েছে সন্তর্পণে! আর এক শ্রেণির স্বার্থপর মানুষ সেই শত্রুকেই কোলে-পিঠে করে বয়ে নিয়ে আসছেন যার যার হেঁশেল পর্যন্ত! উপসাগরীয় যুদ্ধে যেভাবে সৌদি আরব সরকার আমেরিকার সৈন্যকে সৌদি আরবে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়েছিল! সেভাবেই কিছুসংখ্যক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসকে নিজের মধ্যে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন! কিন্তু কাল যে এই শত্রু তার আসল রূপ দেখাবে, সে-ব্যাপারে নিতান্তই অজ্ঞ! মারণ-ব্যাধী এই করোনা ভাইরাস একটি মানব-সৃষ্ট জীবাণু বলে মনে করছেন কেউ কেউ।ভিত্তি মজবুত না হলেও চিনের উহান শহরের গোপন গবেষণাগারে যার জন্ম ও বিস্তার, এ ধারনাও কারো কারো। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে গত তিনটি দশক ধরে সকলের অলক্ষ্যে নিজেদের পরাক্রমশালী একটি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছিল চিন! বিশ্বের বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা, যেমন, দু দুটি উপসাগরীয় যুদ্ধ, আফগান যুদ্ধ, ফিলিস্তিন সমস্যাসহ কোনও ব্যাপারেই নাক গলাতে দেখা যায়নি চিনকে! তারা তাদের শক্তির 'অপচয়' করতে চায়নি বিশেষ কোনও ইস্যুতে সমর্থন প্রদানের মাধ্যমে! মাঝে-মধ্যে ভারতীয় সীমান্তে অনধিকার প্রবেশ ও দুটি যুদ্ধ বাদ দিলে, বলা যায়, তারা তাদের শক্তিকে সুসংহত করে যাচ্ছিল নিরবচ্ছিন্নভাবে! ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল, প্রতিবেশীর ভূমি জবরদখলের কূট-কৌশল! গত এক দশক ধরে চিন একটি পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছিল আমেরিকার প্রতিস্পর্ধী শক্তি হিসেবে! আর সেই প্রতিযোগিতা সরাসরি রণাঙ্গণে নয়; বিশ্ববাজারে! অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র আবিষ্কার ও বাণিজ্যিকভাবে তার উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বের অর্থনীতিতে ক্রমে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে চিন! জনসম্পদে ভরপুর চিন অত্যধিক শ্রম দেয়ার দরুন বিশ্ববাজারকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। আমেরিকা যে পণ্য এক হাজার ডলারে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে মনোপলি করত, সেখানে, চিন একই পণ্য আমেরিকার চেয়ে অর্ধেকের চেয়ে কম মূল্যে বাজারজাত করতে সক্ষম! ধরা যাক, এমআই মোবাইল সেটের কথা-ই। আমেরিকা একই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি মোবাইল সেট যে-দামে বিক্রি করতে সক্ষম, চিন তার চেয়ে ঢের কম দামে তা বিক্রি করতে সক্ষম! ফলে, স্বভাবতই আমেরিকার পণ্যের চেয়ে চিনের পণ্য তুলনামূলক অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে! তা ছাড়া, প্রবাদ অনুযায়ী, 'আলপিন টু এলিফ্যান্ট' সব পণ্যই উৎপাদন তথা 'নকল' করার মতো অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে চিনারা! মুসলিমদের মাথার টুপি হোক আর হিন্দুদের কালীপুজোর বাজি-পটকা-ই হোক, সুলভ মূল্যে বিক্রি করার মতো বাজার তারা ইতিপূর্বে তৈরি করে নিয়েছে! কিন্তু করোনা জীবাণু দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন দেশে চিনের প্রতি ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিনাদের আর 'বিশ্বাস' করতে পারছেন না অনেকেই! যেখানে যেখানে চিনাদের দেখছেন, লোকজন তাড়া করছেন! এই বুঝি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ করতে আসছে! ফলে, গত তিন দশকের প্রচেষ্টায় তরতরিয়ে যে অর্থনীতি বা জিডিপি ঊর্ধ্বগতি লাভ করেছিল, এক করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ তা ধপাস করে নীচে নামিয়ে আনতে পারে। এ তো গেল শুধু চিনের আর্থিক ক্ষতি! সেই ক্ষতি আবার পুষিয়ে নিতে তারা যে প্রাণ-পণ চেষ্টা চালাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না! কিন্তু, ভারতবাসীর কী হবে! দোকানপাট বন্ধ! ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ! উৎপাদন বন্ধ! বিদেশে যারা চাকরি করছেন, তাঁরাও গৃহবন্দি! বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারছেন না! একমাত্র যাঁরা সরকারি কর্মচারী, তাঁরা স্কুল-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে না-গিয়ে, কার্যালয়ে না-গিয়ে বেতন পাবেন! কিন্তু যাঁরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, অথচ উৎপাদন বন্ধ, তাঁদের কী হবে? সংগঠিত বা অসংগঠিত শ্রমিক, যাঁরা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না বা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁদের অন্নের সংস্থান কীভাবে হবে? বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ভাড়াটেদের মার্চ মাসের ভাড়া মকুব করেছেন অনেক ঘর-মালিক। কানাডাসহ একাধিক রাষ্ট্র-প্রধানগণ সে-সব দেশের সর্বস্তরের জনগণের অন্নের সংস্থানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যাবতীয় পণ্য বিনামূল্য আবাসিকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এমনকী পশ্চিমবঙ্গ সরকারও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে! অসম সরকার তথা কেন্দ্রীয় সরকারকেও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। সরকার সর্বস্তরের জনগণকে ভরসা দিলে, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে, জনগণও এক দিনের স্থলে এক সপ্তাহ বা এক মাস পর্যন্ত জনতাকার্ফু অব্যাহত রাখতে এগিয়ে আসবেন, নিশ্চিত। সরকারের শুকনো আবেদনে জনগণের রুটি যখন ভিজবে না, তখন সবই কেঁচে গণ্ডুষ হতে বাধ্য! করোনা শুধু প্রাণই কেড়ে নিচ্ছে না; মানুষের সাজানো সংসার তছনছ করে দিচ্ছে! ইতালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মতো 'উন্নত দেশ' বলে কথিত রাষ্ট্রগুলোতে এখন রীতিমতো লাশের মিছিল! ইরানে গণকবর খোঁড়ে সমাধিস্থ করা হচ্ছে লাশ! প্রধানমন্ত্রী এক দিনের জন্য জনতা কার্ফু ঘোষণা করেছেন। এক দিন যথেষ্ট নয়, বৃদ্ধি করতে হবে আগামী এক সপ্তাহের জন্য। সঙ্গে জনগণের অন্নের সংস্থানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে। দেশবাসী সরকারের মানবিক রূপটি দেখতে চান। রাজনৈতিক চেহারা নয়।