ঢাকা ৪ চৈত্র ১৪৩২, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ৪ চৈত্র ১৪৩২, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ
ব্রাজিল স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেলেন নেইমার পুতিনের আমন্ত্রণে মস্কোয় চিকিৎসা নিচ্ছেন মোজতবা খামেনি বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও রকেট হামলা সিটি ও জেলা পরিষদ কি বিএনপি নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও গ্রিস আরব আমিরাতে বাংলাদেশিসহ ৩৫ জন গ্রেপ্তার শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে ইরানের হামলা, দুবাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত অস্কারে সেরা সিনেমা ডিক্যাপ্রিওর ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি: কলেজছাত্রকে হত্যা ৪২ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রশাসক বসালো সরকার মার্কিনীদের মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশ ছাড়ার আহ্বান, হরমুজ রক্ষায় ট্রাম্পের উদ্যোগে ফ্রান্সের না মব করে পুলিশে দেওয়া পঙ্গু আ.লীগ নেতা মারা গেলেন কারা হেফাজতে ইরানের জ্বালানিসমৃদ্ধ খার্ক দ্বীপে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, চরম প্রতিশোধের শঙ্কা এবার স্থল যুদ্ধে আসছে ২,৫০০ মার্কিন সেনা, ‘উভচর’ যুদ্ধজাহাজ : মোজতবাকে ধরিয়ে দিতে কোটি ডলার পুরস্কার সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে আকাশযুদ্ধে ইরানি শাসকদের পতন নাও হতে পারে নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, ইরানী নেতাকে হত্যার হুমকি প্রথম ভাষণে মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি : হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি সরাতে হবে ইংল্যান্ডের পেশাদার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলবেন মোস্তাফিজ, ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় কিনল বার্মিংহাম হরমুজ প্রণালিতে আরও ৬ জাহাজে হামলা সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু: স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ, কীভাবে সম্পন্ন হলো নির্বাচন প্রক্রিয়া? মোজতবা খামেনি এখন কোথায়? ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাও আক্রান্ত যুদ্ধের আকাশে নতুন মারণাস্ত্র : লেবাননে সাদা ফসফরাস, ইরানে কালো বৃষ্টি ইরান যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে? ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, কত মানুষ এ সুবিধা পাবেন? কমনওয়েলথ সভায় বাংলাদেশ : রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু তুললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদিতে প্রাণ গেল আরও এক বাংলাদেশির বুয়েটে আবার নির্যাতনের ঘটনা : সেহরি খেতে যাওয়া ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে থানায় হস্তান্তর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন খামেনিপুত্র মোজতোবা খামেনি, ট্রাম্প কী করবেন? লন্ডনে 'লতা দিয়া ফতা': সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ব্যতিক্রমী সেহরি আয়োজন

বাংলাদেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামালেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩৭ পিএম

বাংলাদেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামালেন ট্রাম্প
উঠেছিল ৩৫ শতাংশে, দর কষাকষি করে এখন তা কমে এসেছে ২০ শতাংশে। অর্থাৎ বাংলাদেশি পণ্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে গেলে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক গুনতে হবে। ওয়াশিংটনে ধারাবাহিক আলোচনার পর বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দপ্তর থেকে বাংলাদেশের পণ্যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ধার্যের ঘোষণা দেওয়া হয়। শুল্কভার কমিয়ে আনাকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আলোচনায় সাফল্য হিসাবে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশের পণ্যের ওপর এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ, তার সঙ্গে এখন আরও ২০ শতাংশ যোগ হওয়ায় তা বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়াবে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ, আফগানিস্তানের ওপর ১৫ শতাংশ, মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে ফেরার পরপরই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বড় অঙ্কের পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। গত এপ্রিলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তাতে দেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় গন্তব্য দেশটিতে শুল্কভার ৫২ শতাংশে উঠে গিয়েছিল। কয়েকদিন পরে ৯ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত ওই শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। দেশগুলোকে এ সময় দেওয়া হয় বাণিজ্য আলোচনায় এসে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য সুবিধা বাড়াতে। তিন মাসের সময়সীমা গত ৯ জুলাই শেষ হওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত জানান। তবে এই শুল্কের হার কমাতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দেশকে সময় দেওয়া হয়। ওই চিঠি পাওয়ার পরপরই একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল নিয়ে ওয়াশিংটনে যান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দিন। ইউএসটিআরের সঙ্গে এক দফা আলোচনা সেরে দেশে ফেরার পর গত সোমবার তিনি ফের যান ওয়াশিংটনে। তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী। সরকারি প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের একটি দলও যুক্তরাষ্ট্র গেছে। ব্যবসায়ীদের এ দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা। সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হয় সরকারি প্রতিনিধি দলের তৃতীয় দিনের আলোচনা, যা রাত ১টায় শেষ হয়। এর পরপরই হোয়াইট হাউস বাংলাদেশসহ আরও বেশ কিছু দেশের শুল্কহার কমানোর ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধন রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। এই বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের ওপর শুল্কও ২০ শতাংশ আরোপ করেছেন ট্রাম্প। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী কম্বোডিয়ার ওপর শুল্ক বসেছে ১৯ শতাংশ। ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে। ফলে শুল্ক হারের বিচারে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে প্রতিদ্বন্দ্বী কারও কাছ েথকে হুমকিতে পড়তে হচ্ছে না বাংলাদেশকে। একক দেশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। মোট রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশের মতো আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দেশটি থেকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫০ কোটি (২.৫ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। অন্যদিকে এই অর্থ বছরে দেশটিতে বাংলাদেশ ৮৬৯ কোটি ২৩ লাখ (৮.৬৯ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে দেশটির উড়োজাহাজ কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। মূলত পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষির অংশ হিসেবে বিমান কেনার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সয়াবিন তেল ও তুলা কেনার পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে কথা বলেন সাংবাদিকেরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে কত খরচ হবে—এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি। শুধু উড়োজাহাজ কিনে বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না, আর কী ধরনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আরও আছে। ওই প্যাকেজ নিয়েই তো গেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা, কী কী কিনতে হবে।” যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা হবে কি না, জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “সেটা আমি বলব না। বাণিজ্য উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করুন।”