ঢাকা ৫ চৈত্র ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ৫ চৈত্র ১৪৩২, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ
সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ ২০ মার্চ : বাংলাদেশে কবে? ঈদের দিন সারা দেশে বৃষ্টির আশঙ্কা ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন মার্কিন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইরান যুদ্ধ: আরব আমিরাতে নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও আছেন নেপালি, পাকিস্তানি ব্রাজিল স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেলেন নেইমার পুতিনের আমন্ত্রণে মস্কোয় চিকিৎসা নিচ্ছেন মোজতবা খামেনি বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও রকেট হামলা সিটি ও জেলা পরিষদ কি বিএনপি নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও গ্রিস আরব আমিরাতে বাংলাদেশিসহ ৩৫ জন গ্রেপ্তার শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে ইরানের হামলা, দুবাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত অস্কারে সেরা সিনেমা ডিক্যাপ্রিওর ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি: কলেজছাত্রকে হত্যা ৪২ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রশাসক বসালো সরকার মার্কিনীদের মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশ ছাড়ার আহ্বান, হরমুজ রক্ষায় ট্রাম্পের উদ্যোগে ফ্রান্সের না মব করে পুলিশে দেওয়া পঙ্গু আ.লীগ নেতা মারা গেলেন কারা হেফাজতে ইরানের জ্বালানিসমৃদ্ধ খার্ক দ্বীপে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, চরম প্রতিশোধের শঙ্কা এবার স্থল যুদ্ধে আসছে ২,৫০০ মার্কিন সেনা, ‘উভচর’ যুদ্ধজাহাজ : মোজতবাকে ধরিয়ে দিতে কোটি ডলার পুরস্কার সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে আকাশযুদ্ধে ইরানি শাসকদের পতন নাও হতে পারে নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, ইরানী নেতাকে হত্যার হুমকি প্রথম ভাষণে মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি : হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি সরাতে হবে ইংল্যান্ডের পেশাদার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলবেন মোস্তাফিজ, ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় কিনল বার্মিংহাম হরমুজ প্রণালিতে আরও ৬ জাহাজে হামলা সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু: স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ, কীভাবে সম্পন্ন হলো নির্বাচন প্রক্রিয়া? মোজতবা খামেনি এখন কোথায়? ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাও আক্রান্ত যুদ্ধের আকাশে নতুন মারণাস্ত্র : লেবাননে সাদা ফসফরাস, ইরানে কালো বৃষ্টি ইরান যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে? ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, কত মানুষ এ সুবিধা পাবেন? কমনওয়েলথ সভায় বাংলাদেশ : রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু তুললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেটি ফল ‘ডেফল’

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫৬ পিএম

সিলেটি ফল ‘ডেফল’

ডেফল (সিলেটের স্থানীয় নাম, পোশাকী নাম জানা নেই।) খুব জনপ্রিয় ফল হিসেবে সিলেটের সর্বত্র সমাদৃত। বাজারে ভরামৌসুমে ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হয়। ডেফল একপ্রকার সপুষ্পক বৃক্ষ। এটি ডাম্বেল, ডেমগোলা (চাকমা ভাষায়) এবং আরুয়াক (গারো ভাষায়) নামে পরিচিত। গাছটির আদি নিবাস মালয়েশিয়া। ডেফলের ইংরেজি নাম Yellow mangosteen/False mangosteen, বৈজ্ঞানিক নাম: Garcinia tinctoria/Garcinia xanthochymus, ফ্যামিলি: Clusiaceae।

ডেফল গাছ সাড়ে চার থেকে সাড়ে সাত মিটার লম্বা হয়ে থাকে।  ডেফলের পাতা পুরু, মসৃণ, উজ্জ্বল সবুজ, লম্বাটে বল্লমাকার ও আগা সূঁচালো আর খুব সুন্দর। ২০-২৪ সেমি লম্বা।

বৃষ্টিভেজা পাতায় রোদ পড়লে চিকচিক করে, দেখতে খুব ভালো লাগে। এর ফুল সাদা, ১৯ মিমি ব্যাসবিশিষ্ট। ফুল ফোটে মার্চ থেকে মে মাসে। ফল মাঝারি আকারের আপেলের সমান; ৮-১০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ফলটি মসৃণ, অগ্রভাগ সূঁচালো, এবং কিছুটা বাঁকানো; কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে গাঢ় হলুদ রঙের হয়। শীতকালে ফল পাকতে শুরু করে। এই ফলের শাঁস সুগন্ধযুক্ত ও রসালো। ভেতরে এক বা একাধিক বীজ থাকে। ফলের স্বাদ টক-মিষ্টি। ডেফল গাছ অনেকটা গাব গাছের মতো, ঘন ডালপালা আর নিবিড়সন্নিবিষ্ট পাতায় অন্ধকার করে রাখে তার আশপাশ।

গ্রামের অনেক মানুষ মনে করে যে, ডেফল গাছে ভূত থাকে! সব মিলিয়ে ডেফল বৃক্ষ হিসেবে রূপসী তরুশ্রেণির দলে অনায়াসে নাম লেখাতে পারে। সিলেট ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বনাঞ্চলে ডেফল গাছ দেখা যায়। তবে বর্তমানে এর ব্যাপকতা লোপ পেয়েছে। ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে সহজেই এই গাছ জন্মানো সম্ভব।

 ভিটামিন সি-তে ভরপুর এ ফল স্বাদে টক। সাধারণত ছোট মাছ দিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়। ছোট চিংড়ির সাথে ডেফল খুবই মুখরোচক খাবার হিসেবে পরিচিত। ফল টুকরো টুকরো করে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায় (সিলেটিরা বলে 'ফুটি'), আমসত্ত্বের মতো সত্ত্ব করেও রাখা যায় এবং তা বেশ মজাদার, 'ডেফলসত্ত্ব' দিয়েও তরকারি রান্না হয়, চায়ের মতো পানিতে সেদ্ধ দিয়ে সত্ত্বের নির্যাস পান করা হয় এবং তা সর্দি-কাশি উপসমে ভালো অবদান রাখে।

 ডেফল গাছে পার্পল-ম্যাঙ্গোস্টিনের (Garcinia mangostana) কলম দেয়া যায়। এভাবে একই গাছে ডেফল ও ম্যাঙ্গোস্টিন উভয় ফল উৎপাদন করা যায়। শুকনো ডেফল ফলের নির্যাসকে gamboge বলা হয় যা থেকে জলরং বানানো হয়। ডেফলের ভেষজ গুণও রয়েছে। ডেফল থেকে xanthone নামক রাসায়নিক পদার্থ সংগ্রহ করা হয় যার মধ্যে এন্টিবায়োটিক এবং এন্টি-ম্যালেরিয়াল গুণ আছে বলে ধারনা করা হয়।ভেষজ চিকিৎসায় এর বিবিধ ব্যবহার রয়েছে।

 ডেফলের বীজ থেকে বংশবিস্তার হয়। এ বৃক্ষের প্রধান মূল মাটির অনেক গভীরে যায় বলে তা পানি জমে এমন নিম্নভূমিতে হয় না, টিলামাটিতে ভালো জন্মে। পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করা যাবে কিন্তু ঐ চারা বড় হলে ঝড়-তুফানের হাত থেকে বাঁচানো খুবই মুশকিলের ব্যাপার। আর তাই, সরাসরি মাটিতে বীজ রোপনই উত্তম।