ঢাকা ১০ ভাদ্র ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ১০ ভাদ্র ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ
প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন নিয়ম চালু করেছে ওমান কারাভোগ শেষে ২৮ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিল করবে ট্রাম্প প্রশাসন লন্ডনে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আব্দুল মুহিত দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাষার পরীক্ষা ছাড়াই মিলবে ভিসা জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক বিমানের সরাসরি ফ্লাইট,  মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে না বিদেশে কর্মী পাঠানোয় বড় ধাক্কা, ৬ মাসে কমেছে ৩৯%, এখনো সৌদি আরবনির্ভর কাকরদিয়া-তেরাদল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী লন্ডনে নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁয় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আহত আরেকজন ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় রদবদল, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার? কুয়েতে বিশেষ ভিসা সুবিধা বন্ধ, ফিরছে স্বাভাবিক নিয়মে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে বাংলাদেশের ২৫ এজেন্সি কুয়েতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক পারমিট, দূতাবাসের সতর্কতা মালয়েশিয়ায় অভিযানে আরও ৮৭ বাংলাদেশি আটক কলকাতায় আগুনে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক পরিবারের সবার মৃত্যু বিয়ে ভাঙা সেই প্রবাসীর ফের বিয়ে, পাতে পেলেন আস্ত খাসি কাতারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা ৪ দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের সতর্ক বার্তা পূর্ব লন্ডনে গাড়ির ভেতর বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা নারী বাস সার্ভিস বারবার ব্যর্থ কেন, কী বলছে বিশ্লেষণ ঢাকায় চালু নারী পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস, চালকও নারী ঘোড়ার গাড়িতে শিক্ষকের রাজকীয় বিদায় লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ ক্রাউন প্রিন্সের মালয়েশিয়ায় এক দিনে ২৪ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৭ জন সুনামগঞ্জের গ্রিসের পথে ভয়াবহ বিপদ, ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভাসার পর ২৯ বাংলাদেশি উদ্ধার ওমরাহ ভিসায় নতুন নিয়ম, প্রতিবার প্যাকেজ ও নুসুক অনুমতি বাধ্যতামূলক লিবিয়া থেকে যাত্রা, ভূমধ্যসাগরে ৯ দিন পর ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু ফ্রান্সের কর বিভাগে সাইবার হামলা, ৬ লাখের বেশি করদাতার তথ্য চুরি

সিলেটি ফল ‘ডেফল’

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫৬ পিএম

সিলেটি ফল ‘ডেফল’

ডেফল (সিলেটের স্থানীয় নাম, পোশাকী নাম জানা নেই।) খুব জনপ্রিয় ফল হিসেবে সিলেটের সর্বত্র সমাদৃত। বাজারে ভরামৌসুমে ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হয়। ডেফল একপ্রকার সপুষ্পক বৃক্ষ। এটি ডাম্বেল, ডেমগোলা (চাকমা ভাষায়) এবং আরুয়াক (গারো ভাষায়) নামে পরিচিত। গাছটির আদি নিবাস মালয়েশিয়া। ডেফলের ইংরেজি নাম Yellow mangosteen/False mangosteen, বৈজ্ঞানিক নাম: Garcinia tinctoria/Garcinia xanthochymus, ফ্যামিলি: Clusiaceae।

ডেফল গাছ সাড়ে চার থেকে সাড়ে সাত মিটার লম্বা হয়ে থাকে।  ডেফলের পাতা পুরু, মসৃণ, উজ্জ্বল সবুজ, লম্বাটে বল্লমাকার ও আগা সূঁচালো আর খুব সুন্দর। ২০-২৪ সেমি লম্বা।

বৃষ্টিভেজা পাতায় রোদ পড়লে চিকচিক করে, দেখতে খুব ভালো লাগে। এর ফুল সাদা, ১৯ মিমি ব্যাসবিশিষ্ট। ফুল ফোটে মার্চ থেকে মে মাসে। ফল মাঝারি আকারের আপেলের সমান; ৮-১০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ফলটি মসৃণ, অগ্রভাগ সূঁচালো, এবং কিছুটা বাঁকানো; কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে গাঢ় হলুদ রঙের হয়। শীতকালে ফল পাকতে শুরু করে। এই ফলের শাঁস সুগন্ধযুক্ত ও রসালো। ভেতরে এক বা একাধিক বীজ থাকে। ফলের স্বাদ টক-মিষ্টি। ডেফল গাছ অনেকটা গাব গাছের মতো, ঘন ডালপালা আর নিবিড়সন্নিবিষ্ট পাতায় অন্ধকার করে রাখে তার আশপাশ।

গ্রামের অনেক মানুষ মনে করে যে, ডেফল গাছে ভূত থাকে! সব মিলিয়ে ডেফল বৃক্ষ হিসেবে রূপসী তরুশ্রেণির দলে অনায়াসে নাম লেখাতে পারে। সিলেট ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বনাঞ্চলে ডেফল গাছ দেখা যায়। তবে বর্তমানে এর ব্যাপকতা লোপ পেয়েছে। ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে সহজেই এই গাছ জন্মানো সম্ভব।

 ভিটামিন সি-তে ভরপুর এ ফল স্বাদে টক। সাধারণত ছোট মাছ দিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়। ছোট চিংড়ির সাথে ডেফল খুবই মুখরোচক খাবার হিসেবে পরিচিত। ফল টুকরো টুকরো করে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায় (সিলেটিরা বলে 'ফুটি'), আমসত্ত্বের মতো সত্ত্ব করেও রাখা যায় এবং তা বেশ মজাদার, 'ডেফলসত্ত্ব' দিয়েও তরকারি রান্না হয়, চায়ের মতো পানিতে সেদ্ধ দিয়ে সত্ত্বের নির্যাস পান করা হয় এবং তা সর্দি-কাশি উপসমে ভালো অবদান রাখে।

 ডেফল গাছে পার্পল-ম্যাঙ্গোস্টিনের (Garcinia mangostana) কলম দেয়া যায়। এভাবে একই গাছে ডেফল ও ম্যাঙ্গোস্টিন উভয় ফল উৎপাদন করা যায়। শুকনো ডেফল ফলের নির্যাসকে gamboge বলা হয় যা থেকে জলরং বানানো হয়। ডেফলের ভেষজ গুণও রয়েছে। ডেফল থেকে xanthone নামক রাসায়নিক পদার্থ সংগ্রহ করা হয় যার মধ্যে এন্টিবায়োটিক এবং এন্টি-ম্যালেরিয়াল গুণ আছে বলে ধারনা করা হয়।ভেষজ চিকিৎসায় এর বিবিধ ব্যবহার রয়েছে।

 ডেফলের বীজ থেকে বংশবিস্তার হয়। এ বৃক্ষের প্রধান মূল মাটির অনেক গভীরে যায় বলে তা পানি জমে এমন নিম্নভূমিতে হয় না, টিলামাটিতে ভালো জন্মে। পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করা যাবে কিন্তু ঐ চারা বড় হলে ঝড়-তুফানের হাত থেকে বাঁচানো খুবই মুশকিলের ব্যাপার। আর তাই, সরাসরি মাটিতে বীজ রোপনই উত্তম।