ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ
ফোন হ্যাকিং মামলায় হেরে প্রিন্স হ্যারি ও অন্য দাবিদারদের £৫০ মিলিয়ন পর্যন্ত আইনি বিলের ঝুঁকি যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের কঠিন সময়: বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়, কমছে সামাজিক সহায়তা আন্তর্জাতিক বাউল ও লোকসংস্কৃতি উৎসব লন্ডনে, যোগ দিচ্ছেন শফি মণ্ডল ও ডলি মণ্ডল অনিদ্রা কি বাড়াচ্ছে তরুণদের ক্যানসারের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় উদ্বেগ খামেনির শেষ বিদায়ে লাখো মানুষের ঢল ‘জুলাইযোদ্ধাদের মারতে’ পুরস্কার ঘোষণা বিশ্বকাপে এ কেমন রোনালদো? বালোগানকে নিয়ে নেমেও কী করলো যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের কলঙ্ক? ৩০ মিনিটের বেশি বসে থাকলে ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে: গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাকিংহাম প্যালেসে থাকার সুযোগ হারালেন প্রিন্স হ্যারি, রাজপরিবারের সঙ্গে নতুন বিরোধ অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ জানা যাবে তিন সপ্তাহ আগেই: এনএইচএসের নতুন নিয়ম অশ্রুসিক্ত নয়নে নেইমারের বিদায়, যা বললেন প্রাইমারিতে জিয়া, খালেদা ও তারেকের ৩ বই রাখার নির্দেশ পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় পলি ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টারে নরওয়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলামসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ স্পেনে কাজ পেলেন ৬ লাখ অভিবাসী: বৈধতার আবেদন ১১ লাখ ছাড়াল বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবলের এত ভক্ত কেন? ইতিহাস নাকি আবেগ মেসিকে ছাড়িয়ে যাবেন এমবাপ্পে! প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জাতীয় চিড়িয়াখানায় ‘বাদশা বাহাদুর’ 'প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট' উদ্বোধন ট্রাম্পের, সমালোচনার ঝড় উঠেছে আমেরিকায় মানবিক উদ্যোগ: গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ইস্ট লন্ডন মসজিদে বিনামূল্যে পানি ও স্লাশ বিতরণ অবৈধভাবে থেকে বিয়ে-সংসার করলেও বহিষ্কার ঠেকানো যাবে না: অভিবাসীদের বহিষ্কারে নতুন আইন আনছে যুক্তরাজ্য মেসিদের কাছে হেরেও জিতে গেল কেপ ভার্দে শেষ ষোলোয় কার মুখোমুখি কে—পূর্ণ সূচি ও বিশ্লেষণ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল, যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তি দেখাচ্ছে ইরান যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটলেই কেনাকাটায় মিলবে ছাড়! ‘ল্যাম্ব’ কাবাবে ছাগল, চামড়া ও চর্বি : যুক্তরাজ্যের এক প্রতিষ্ঠানের ৫ লাখ পাউন্ড জরিমানা ইংল্যান্ডে প্রসূতি ও নবজাতক সেবার চরম বিপর্যয়: 'অ্যামোস রিভিউ'র চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রধানমন্ত্রীর অফিস সময়কে ‘লোক দেখানো শোপিস’ বলায় প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

করোনা এক প্রতিপক্ষ ; যার কোনও এলওসি নেই

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২০, ০৭:২৩ পিএম

করোনা এক প্রতিপক্ষ ; যার কোনও এলওসি নেই
বিশ্বব্যাপী করোনার তাণ্ডব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই! নিত্যদিন বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বাড়ছে ভারতেও। সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। উন্নত, অনুন্নত দেশ বলে কথা নেই। কোবিড-১৯ কাউকে রেয়াত করছে না! সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে স্বনামধন্য চিকিৎসক, করোনার রোষানল থেকে বাঁচতে পারছেন না কেউই। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত-- সকলেই করোনার নেটওয়ার্কের মধ্যেই পড়েন। মাটির কাঁচা ঘরে যেমন করোনার অবাধ প্রবেশাধিকার, তেমনই পঞ্চাশ তলাবিশিষ্ট সুরম্য প্রাসাদেও অবাধ প্রবেশাধিকার। আম জনগণের ক্ষেত্রে করোনার যেমন রক্তচক্ষু, তেমনই রক্তচক্ষু জাঁদরেল সরকারি আধিকারিক থেকে মন্ত্রীর প্রতিও। কারও কোনও ভ্রূক্ষেপ কাজে লাগছে না। যাঁকে যখন ইচ্ছে টেনে-হিঁচড়ে হাসপাতাল নামক আদালতে নিয়ে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টার পরোয়ানা জারি করে। কাউকে অব্যাহতি দিচ্ছে, আবার কাউকে মৃত্যুদণ্ড! বিশ্বে এখন করোনা-ই একমাত্র পরাশক্তি, যার বিরুদ্ধে অস্ত্র-হাতে লড়াই করার মতো ধৃষ্টতা কারও হয়নি। করোনার একাধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার সঠিক রণ-কৌশল এখনও আবিষ্কৃত হয়নি শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, করোনা ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-ভূগোল দেখে কাউকে আক্রমণ করেনি কোথাও। করোনা প্রয়োজনে ছদ্মবেশ ধরলেও মুখোশধারী মানুষের মতো ছদ্মবেশী নয়। জীব কুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত মানুষ একটি অদৃশ্য জীবাণুর কাছে কত অসহায়, বিপন্ন। আক্রান্তরা সব নিকটজন থাকা সত্ত্বেও কত একা, সকলেই যার যার নিরাপত্তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত, কারও কাছে ঘেষার অবকাশ নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার যুগেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সেভাবে মানুষের কাজে লাগছে কোথায়! এক অর্থে বিজ্ঞানও অসহায়। বৈজ্ঞানিক বক্তব্য বলে যা যা জনমনে প্রচার করা হচ্ছে, তারও কোনও সঠিক ভিত্তি নেই। একবার বলা হচ্ছে, উপসর্গহীনদের মাধ্যমে সংক্রমণের কোনও আশঙ্কা নেই, পরদিন আবার বলা হচ্ছে, সংক্রমণের আশঙ্কা আছে। একবার বলা হচ্ছে, শীতপ্রধান অঞ্চলে করোনার প্রভাব বেশি, তো আরেক বার বলা হচ্ছে, গরমপ্রধান অঞ্চলেও তার প্রভাব সমান। একবার বলা হচ্ছে, কোয়ারিন্টাইনে থাকতে হবে চৌদ্দ দিন, আবার বলা হচ্ছে তার দ্বিগুণ। এভাবে, বিজ্ঞানও মানুষকে সঠিক দিশা দেখাতে ব্যর্থ, না-হলে কোটি কোটি টাকার মালিক যাঁরা, যাঁদের চিকিৎসার ব্যয় সংকুলান করার মতো কোনও আর্থিক সংকট নেই, তাঁরা সংক্রমণে মারা যাবেন কেন। খ্যাতনামা চিকিৎসকরা সংক্রমণে মারা যাবেন কেন! তাঁদের মৃত্যুর জন্য তো আর্থিক দৈন্যতা দায়ী নয়। সুচিকিৎসার অপ্রতুলতা দায়ী নয়। আসলে, করোনা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সচেতনতা-ই বাঁচার একমাত্র পথ। কিন্তু করোনাকে একদিকে 'আমন্ত্রণ' করা হবে, আর অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে 'জেহাদ' ঘোষণা করা হবে, এ হয় না। এ তো কোনও তথাকথিত 'শান্তি চুক্তি' নয়। একদিকে শান্তির পায়রা ওড়ানো হবে, আরেক দিকে সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষকে বেঘোরে হত্যা করা হবে। কোবিড-১৯ এমনই প্রতিপক্ষ, যাকে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না। এ কে ফোরটি সেভেন তাক করে অবলীলায় হত্যা করা যায় না। বোমা নিক্ষেপ করে ধ্বংস করা যায় না। ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া যায় না তাকে লক্ষ্য করে। এমন সম্ভব হলে আমেরিকাসহ ন্যাটো অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রগুলো এতো দিনে করোনার বিরুদ্ধে বিজয় হাসিল করে নিত। প্রাচ্য থেকে প্রতীচ্য, কাশ্মির থেকে কন্যাকুমারী, কোথাও তাকে প্রতিহত করার সাধ্য কারও নেই, তার নেই কোনও এলওসি। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণরেখা--- করোনার কাছে ভারত-পাকিস্তান-চিন-নেপাল-বাংলাদেশ বলে আলাদা কোনও রাষ্ট্রীয় সীমা নেই। সমগ্র বিশ্বব্যাপী তার রাষ্ট্র একটিই। আর সেই রাষ্ট্রের অঘোষিত কর্ণধার করোনা নিজেই। তাকে প্রত্যাহ্বান করার শক্তি কারও নেই। আমেরিকার মতো তথাকথিত পরাশক্তিরও নেই। নেই বিজ্ঞানেরও। করোনা নিজেই একটি পরাশক্তি। তাই, তাকে 'পরাজিত' করার চেয়ে তাকে প্রতিরোধ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আমেরিকা-ইউরোপের উন্নত রাষ্ট্রগুলো যখন করোনার চ্যালেঞ্জ নিতে অক্ষম। তখন আমাদেরও উচিত, আলগোছে থাকা, করোনাকে 'প্রতিদ্বন্দ্বী' না ভেবে, 'সমকক্ষ' না ভেবে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়া।