ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর মৃত্যুসংবাদ দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্নধর্মী ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
টানা ৩৬ বছর ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এই নেতার মৃত্যুতে একদল মানুষ শোকে মুহ্যমান, অন্যদিকে কেউ কেউ একে ‘নতুন বিশ্বের সূচনা’ হিসেবে উদযাপন করছেন।
রোববার (১ মার্চ ২০২৬) ভোরে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির মৃত্যুর খবর সম্প্রচার করা হয়। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন—সংবাদ পাঠক আবেগঘন কণ্ঠে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এরপর তেহরানের প্রধান প্রধান চত্বরে কালো পোশাক পরা হাজারো মানুষকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে ভিন্ন দৃশ্যও উঠে এসেছে।
ইলাম প্রদেশের দেহলোরান শহরে খামেনির একটি ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। খুজিস্তান প্রদেশের ইজেহ এবং তেহরানের নিকটবর্তী কারাজ শহরে মানুষকে রাস্তায় নেচে উদযাপন করতে দেখা গেছে।
দক্ষিণ ইরানের গাল্লেহ দার শহরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ও ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-র স্মৃতিস্তম্ভও ক্ষুব্ধ জনতা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আমি কি স্বপ্ন দেখছি? নতুন পৃথিবীকে স্বাগতম!”
এছাড়া লাপুয়ি শহরে জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহত ১৫ বছর বয়সী কিশোর পুইয়া জাফরির বাড়ির সামনে আনন্দ-উল্লাসের খবর পাওয়া গেছে।
ইসফাহানের এক নারী বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে বলেন, তিনি আনন্দে কাঁদছেন এবং আশা করছেন খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটবে।
অন্যদিকে সিরাজের এক স্কুলশিক্ষিকা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, “বিদেশি শক্তির হাতে দেশের নেতার মৃত্যুতে আমি খুশি হতে পারছি না। ইরাকের মতো বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত আমি চাই না।”
মাশহাদ শহরের ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হোসেন দাদবখশ বলেন, “নেতার শাহাদাতের জন্য ট্রাম্প ও জায়নবাদী শাসনগোষ্ঠীকে চড়া মূল্য দিতে হবে। আমি আমার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।”
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের বর্তমান সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে তেহরানে খামেনির জানাজা ও শোকমিছিলে অংশ নেওয়া সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
খামেনির দীর্ঘ শাসনামল ১৯৯৯, ২০০৯ এবং ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনসহ বহু গণআন্দোলনের সাক্ষী ছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও কঠোর দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে ইরানে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। খামেনির অনুপস্থিতি সেই দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও আনুগত্যের দ্বৈত আবেগকে আবারও রাজপথে ফিরিয়ে এনেছে।
-
ওমানে মর্মান্তিক মৃত্যু: বিয়ের কেনাকাটায় গিয়ে প্রাণ হারালেন চট্টগ্রামের ৪ ভাই
-
ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় লেবাননে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, আরেকজন নিখোঁজ
-
নিউইয়র্কে ইন্তেকাল করেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল আহমদ
-
রোমে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী উৎসব
-
ফ্লুসি ডিক্রি জটিলতা নিরসনে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক