ঢাকা ৯ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ৯ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ
দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাষার পরীক্ষা ছাড়াই মিলবে ভিসা জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক বিমানের সরাসরি ফ্লাইট,  মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে না বিদেশে কর্মী পাঠানোয় বড় ধাক্কা, ৬ মাসে কমেছে ৩৯%, এখনো সৌদি আরবনির্ভর কাকরদিয়া-তেরাদল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী লন্ডনে নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁয় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আহত আরেকজন ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় রদবদল, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার? কুয়েতে বিশেষ ভিসা সুবিধা বন্ধ, ফিরছে স্বাভাবিক নিয়মে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে বাংলাদেশের ২৫ এজেন্সি কুয়েতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক পারমিট, দূতাবাসের সতর্কতা মালয়েশিয়ায় অভিযানে আরও ৮৭ বাংলাদেশি আটক কলকাতায় আগুনে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক পরিবারের সবার মৃত্যু বিয়ে ভাঙা সেই প্রবাসীর ফের বিয়ে, পাতে পেলেন আস্ত খাসি কাতারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা ৪ দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের সতর্ক বার্তা পূর্ব লন্ডনে গাড়ির ভেতর বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা নারী বাস সার্ভিস বারবার ব্যর্থ কেন, কী বলছে বিশ্লেষণ ঢাকায় চালু নারী পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস, চালকও নারী ঘোড়ার গাড়িতে শিক্ষকের রাজকীয় বিদায় লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ ক্রাউন প্রিন্সের মালয়েশিয়ায় এক দিনে ২৪ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৭ জন সুনামগঞ্জের গ্রিসের পথে ভয়াবহ বিপদ, ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভাসার পর ২৯ বাংলাদেশি উদ্ধার ওমরাহ ভিসায় নতুন নিয়ম, প্রতিবার প্যাকেজ ও নুসুক অনুমতি বাধ্যতামূলক লিবিয়া থেকে যাত্রা, ভূমধ্যসাগরে ৯ দিন পর ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু ফ্রান্সের কর বিভাগে সাইবার হামলা, ৬ লাখের বেশি করদাতার তথ্য চুরি বিগ টিকেটে ৩২ লাখ টাকা করে জিতলেন দুই বাংলাদেশি অবৈধ কর্মী ধরতে কঠোর অবস্থানে রিফর্ম ইউকে, হটলাইনে তথ্য দিলে পুরস্কার! যুক্তরাজ্যে ডিসপোজেবল বারবিকিউ বিক্রি নিষিদ্ধ হুমকির মুখে বিয়েতে বাধ্য হলেন সৌদিপ্রবাসী

গানে গানে ছায়ানটের প্রতিবাদে মানুষের ঢল

প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:২৭ এএম

গানে গানে ছায়ানটের প্রতিবাদে মানুষের ঢল
গান শুধু শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে যায়—কখনো কখনো তা হয়ে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা, প্রতিরোধের আগুন। সুর তখন আর কেবল সুললিত থাকে না; বজ্রনিনাদের মতো চারপাশ কাঁপিয়ে তোলে। শীতের শেষ বিকেলে ছায়ানট ঠিক সেইভাবেই প্রতিবাদের গান ও প্রতিরোধের সুরে জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের বার্তা দিল।

১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের সংস্কৃতি ভবনে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। একই দিনে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারেও হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়েও একই ধরনের আক্রমণ হয়।

আবহমান বাংলা সংস্কৃতির ওপর এসব আক্রমণের প্রতিবাদে সংহতি সমাবেশের ডাক দেয় ছায়ানট। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেল ঠিক চারটায় ‘ও আমার দেশের মাটি’ গান দিয়ে শুরু হয় এই প্রতিবাদী সাংগীতিক কর্মসূচি।

ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে ছায়ানট ভবনের সামনের ফুটপাতজুড়ে প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়ান। ধীরে ধীরে সেই সারি ২৭ নম্বর মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ফুটপাতে পরপর তিন সারি করেও জায়গা না হওয়ায় দেরিতে আসা অনেককে সড়কের ধারে দাঁড়াতে দেখা যায়।

ছায়ানট ভবনের প্রধান প্রবেশপথের সামনে টেবিল পেতে খোল, তবলা, হারমোনিয়ামসহ নানা বাদ্যযন্ত্র সাজিয়ে যন্ত্রশিল্পীরা বাদান করেন। গানের দলে অংশ নেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী, সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসাসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং দেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, চারুশিল্পী, দৃশ্যমাধ্যম শিল্পী, স্থপতি, আলোকচিত্রী, শিক্ষক, লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, পরিবেশকর্মী, সংস্কৃতিসেবীসহ সর্বস্তরের মানুষ।

ছায়ানটের গানে গানে প্রতিবাদের এই কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে উপস্থিত হন অসংখ্য মানুষ। আজ মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনের সামনে ছিল এই কর্মসূচি—ছবি: প্রথম আলো।

বিরতিহীনভাবে একের পর এক গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। সংহতি জানাতে আসা অনেকেই তাঁদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। গাওয়া হয় ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি’, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’, ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম, মোরা ঝরনার মতো চঞ্চল’, ‘চল চল চল, ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চল রে’। এসব গানের সঙ্গে এগিয়ে চলার দৃঢ় প্রত্যয়ের পাশাপাশি প্রকাশ পায় গভীর দেশপ্রেম, উদ্ভাসিত হয় বাংলার প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, আসে বরাভয় ও কর্তব্যে অটল থাকার প্রেরণা।

আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত গোছানো ও পরিকল্পিত। ছায়ানটের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মতোই এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গানগুলো আগে থেকেই অনুশীলন করা ছিল। কণ্ঠ মেলাতে সুবিধার জন্য অনেকে ছাপা কাগজে গানের বাণী সঙ্গে রেখেছিলেন।

হামলার প্রতিবাদে গানে গানে কথা বলে ছায়ানট। এতে অংশ নেন সংগীত বিদ্যায়তনের শিক্ষকরা, পাশাপাশি বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও—ছবি: প্রথম আলো।

এই আয়োজনে সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, অধ্যাপক শফি আহমদ, অধ্যাপক এম এম আকাশ, সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলম, খায়রুল আনাম শাকিল, বুলবুল ইসলাম, শারমিন সাথী ইসলাম, অদিতি মহসীন, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, কৃষ্ণকলি ইসলাম, জান্নাত ই ফেরদৌসী, আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, ডালিয়া আহমদ, নৃত্যশিল্পী শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়, তামান্না রহমান, ওয়ার্দা রিহাব, চারুশিল্পী নাসিম আহমদ নাদভী, মো. মনিরুজ্জামান, প্রশান্ত কর্মকারসহ আরও অনেকে।

গানে গানে মানবতার কথা, আত্মপরিচয়ের গৌরব, সংকল্প ও সম্প্রীতির বার্তাও তুলে ধরেন শিল্পীরা। পরের পর্বের গানগুলোর মধ্যে ছিল ‘মানুষ ছাড়া খ্যাপা রে তুই মূল হারাবি’, ‘মানুষ হ, মানুষ হ, আবার তোরা মানুষ হ’, ‘আমার প্রতিবাদের ভাষা, আমার প্রতিরোধের আগুন’, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর’, ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন হঠাৎ বাংলাদেশ’, ‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান’।

গানে গানে প্রতিবাদের কর্মসূচিতে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, বাঙালি জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির সুরক্ষায় প্রত্যেককে কর্ম–উদ্যোগ নিতে হবে—ছবি: প্রথম আলো।

গানের এই পর্বে সংক্ষিপ্ত বিরতিতে বক্তব্য দেন ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, ছায়ানট ভবনে হামলার প্রতিবাদে দেশের শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক অনুরাগীরা এই সমাবেশে অংশ নিয়েছেন; দেশের বাইরে থেকেও অগণিত মানুষ সংহতি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রতি তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছায়ানট, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বাউলসমাজের ওপর একটি বিশেষ মহল সহিংস আক্রমণ চালিয়েছে। বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের মাধ্যমে তারা আবহমান বাংলা সংস্কৃতিচর্চা থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করতে চায়। এসব কর্মকাণ্ড বাঙালি জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত।

ছায়ানটের এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে সংস্কৃতিকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও একাত্মতা জানান। আজ মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনের সামনে—ছবি: প্রথম আলো।

গণমাধ্যমের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে সারওয়ার আলী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত নিরপরাধ মানুষ হত্যার ঘটনায় দেশবাসীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাঙালি জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির সুরক্ষায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ কর্ম–উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে গানের এই প্রতিবাদী কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।

পরে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ এই প্রতিবাদী আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করে শিল্পীরা ছাড়াও সমাজের সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। সবার এই সম্মিলিত সংহতি আমাদের সাহসী ও অনুপ্রাণিত করেছে। এখন সবাইকে জোটবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে।’