চলমান সংঘাতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান আলি লারিজানিসহ একাধিক শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডার ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন।
তবে একই পরিস্থিতিতেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এখনো জীবিত রয়েছেন।
🇵🇰 ইসলামাবাদের অনুরোধে ‘হত্যা তালিকা’ থেকে বাদ
পাকিস্তানের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র Reuters-কে জানিয়েছে, ইসলামাবাদের অনুরোধেই এই দুই নেতাকে ‘হত্যা তালিকা’ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের কাছে তাদের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল এবং তাদের হত্যার পরিকল্পনাও ছিল।
🗣️ সূত্রের দাবি
সূত্রটি জানায়—
“ইসরায়েলিদের কাছে তাদের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। তারা ওই দুই নেতাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানাই, যদি তাদেরকে হত্যা করা হয়, তাহলে আলোচনার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলিদেরকে পিছু হটতে বলে।”
❗ পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাকিস্তানের সামরিক ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
📰 ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন
The Wall Street Journal-এর প্রতিবেদনে প্রথম এ বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সেখানে বলা হয়, শান্তি আলোচনায় ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন বিবেচনায় দুই নেতাকে সাময়িকভাবে ‘হত্যা তালিকা’ থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তত চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য তারা তালিকার বাইরে থাকবেন। তবে সেখানে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
🤝 মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক
এর আগে জানা গেছে, পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
ইসলামাবাদ উভয় পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং আলোচনা চূড়ান্ত হলে সেটি ইসলামাবাদে আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
📄 ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাব
ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাব বর্তমানে খতিয়ে দেখছে ইরান।
প্রস্তাবগুলো পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছেছে। এতে রয়েছে—
- সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরানো
- ভবিষ্যতে সমৃদ্ধকরণ বন্ধ
- ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা
- Hezbollah ও Hamas-এর মতো মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ
🗨️ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান
ট্রাম্প দাবি করেছেন—
“শান্তি চুক্তিতে যেতে মরিয়া হয়ে আছে ইরান।”
অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন—
তেহরান আপাতত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে, তবে সংঘাত নিরসনে আলোচনায় বসার কোনো আগ্রহ নেই তাদের।
-
৪০০০ কিমি দূরের মার্কিন ঘাঁটি নিশানা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন হিসাব
-
আল-আকসায় ঈদের নামাজ হয়নি—ছয় দশকের মধ্যে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি
-
ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার জবাবে চার দেশের ৭ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা : ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান
-
গ্যাসক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা : বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম, ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা
-
ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন মার্কিন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা