ঢাকা ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ২৪ মে ২০২৬
ঢাকা ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ২৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ
লন্ডনে বাবু-রুপাসহ গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের নিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম : গ্রিন কার্ড পেতে বিদেশিদের দেশে ফিরতে হবে হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছেই: টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনিসেফের ৫ চিঠিতেও সতর্ক হয়নি ইউনূস সরকার শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার : গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে দেশে ফিরব আ.লীগের ব্যাক করা নিয়ে মাহফুজের পোস্ট, যা লিখলেন প্রবাসীকে বাসায় ডেকে হত্যা: প্রেমিকার হাতে ভয়াবহ খণ্ডিত লাশ তনু হত্যা মামলায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য: ডিএনএ পরীক্ষায় আরও এক পুরুষের রক্ত শনাক্ত ছাত্রদল-এনসিপি উত্তেজনা, চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ কারিনা কায়সার: হাসিমাখা মুখের মেয়েটি নিথর হয়ে গেল ফেসবুকে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ায় বিএনপি কর্মীদের হামলা: সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু শেষ বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদো: কোয়ার্টার ফাইনালেই কি দেখা হচ্ছে দুই মহাতারকার? প্রিন্স উইলিয়ামের কাছ থেকে এমবিই সম্মাননা গ্রহণ করলেন আবু তাহের আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা হতে পারে ২৭ মে প্রবাসী কার্ড কারা পাবেন, কী কী সুবিধা থাকছে? ওমানে মর্মান্তিক মৃত্যু: বিয়ের কেনাকাটায় গিয়ে প্রাণ হারালেন চট্টগ্রামের ৪ ভাই যুক্তরাজ্যে কেন বারবার প্রধানমন্ত্রী বদলাচ্ছে? স্টারমারের পর কে? ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় লেবাননে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, আরেকজন নিখোঁজ চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশুর মৃত্যু: রৌফাবাদের ঘটনায় চাঞ্চল্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও বিরোধীদের অবিশ্বাস কেন? নিউইয়র্কে ইন্তেকাল করেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল আহমদ রোমে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী উৎসব সাংবাদিক ফয়সল মাহমুদের মায়ের ইন্তেকাল, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব পরিবারের শোক ফ্লুসি ডিক্রি জটিলতা নিরসনে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক ইতালি পাঠানোর নামে মাদারীপুরে সক্রিয় মানবপাচার চক্র: বন্দিশালায় রাকিবসহ নিখোঁজ অনেকে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর স্টারমারের পাশে গর্ডন ব্রাউন ও হ্যারিয়েট হারম্যান পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী: নন্দীগ্রামের ‘জায়ান্ট কিলার’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশি-ব্রিটিশ ফরহাদ হোসেন ইতিহাস গড়লেন, লেবারের মনোনয়নে নিউহ্যামের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র ইতিহাস গড়লেন লুৎফুর, চতুর্থবার টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, কী বললেন ট্রাম্প? ধর্মীয় ব্যাখ্যার নামে উগ্রবাদ প্রচার, বাড়ছে উদ্বেগ: জঙ্গিদের অস্তিত্বও স্বীকার করল সরকার

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে?

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৬ পিএম

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে?
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই রায়ের কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশও চলছে। গত বছরের জুলাই-অগাস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অপর দুই আসামি শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত দশই জুলাই তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। অর্থাৎ মাত্র চার মাস সাতদিনের দিন সোমবার এই মামলায় রায় হলো। রায়ের পরে গতকালই তা প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা রায়টিকে "পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে অভিহিত করেছেন। রায়টি নিয়ে মানবাধিকার প্রসঙ্গে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উদ্বেগও প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের নানা বিবেচনায় এই রায় প্রভাব ফেলতে পারে। 'রাজনৈতিক বিভেদ আরো বাড়বে' শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অভিযোগ গঠন থেকে মাত্র চার মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের এই রায় এসেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে শেখ হাসিনার মামলার বিচার এবং রায় হওয়া উচিত ছিল বলে সংগঠনগুলো তাদের বিবৃতিতে বলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলছেন, রায়ের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও অ্যান্টি আওয়ামী লীগ এই রাজনীতিটা আরো নিষ্ঠুরতার দিকে যাবে। “রায়টা যদি যথার্থ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়, তবে দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কিন্তু যদি রায়ের মধ্যে কোনো ফাঁকফোকর থেকে থাকে তাহলে যা হবে তা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোতে দূরত্ব তৈরি করবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও অ্যান্টি আওয়ামী লীগ এই রাজনীতিটা আরো নিষ্ঠুরতার দিকে যাবে ” বলেন মি.আহমেদ। তিনি বলছেন, “বিচারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড যদি না মানা হয় তাহলে এ দেশের রাজনৈতিক যে বিভেদ তা আরো বাড়াবে। একদিকে আওয়ামী লীগ আরেকদিকে বাকিরা এই পোলারাইজেশনের রাজনীতি, এটা চলমান থাকবে। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বরং এই ধারাটা বিলুপ্ত হবে এবং দেশের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হবে।” গত বছর অক্টোবরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আনা এক সংশোধনী অনুযায়ী,মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে সেই ব্যক্তি জাতীয় সংসদ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এদিকে, শেখ হাসিনা এবং মি. খানের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর পূর্ণাঙ্গ বিচার শেষ হয়ে রায়ও হয়েছে। ফলে ট্রাইব্যুনালে আনা সংশোধনী অনুযায়ী, শুধু শেখ হাসিনাই নন বরং দলটির অন্য যেসব নেতাদের বিরুদ্ধে কেবল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে তাদের কেউই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ রায়ের ফলে দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান আগের থেকে এখন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মনে করেন অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবায়দা নাসরীনের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে অনেক সময় আন্তর্জাতিক প্রভাব বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখার নীতিতে তারা পরিবর্তন এনেছে এমন বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এই জায়গা থেকে আমেরিকা, ভারত, মিয়ানমার, চীন, রাশিয়া প্রতিবেশি শক্তিগুলো কীভাবে তাদের মনোযোগ এবং কার্যকারিতা রাখছে সেটার ওপর বাংলাদেশের রাজনীতি নির্ভর করছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরেও আমরা দেখবো আন্তর্জাতিক মহলের চাপ, তাপ এবং প্রভাব থাকবে।" এই রায় ঘিরে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয় কি না, সেটার ওপরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির অনেক কিছু নির্ভর করবে বলে তিনি মনে করেন। 'শেখ হাসিনার ভারতে বসে রাজনীতি সীমিত হবে' শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন, গুম, খুন ও হয়রানির অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০১০ সালে যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর একাধিক শীর্ষ নেতা ও বিএনপি নেতাদেরও বিচার হয়েছে, অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে এক সময় জামায়াত নেতাদের পক্ষে যারা আইনজীবী হিসেবে ছিলেন, তারাই গণ অভ্যুত্থানের পরে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে রয়েছেন। সে কারণেই শেখ হাসিনার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বারবার বলে আসছেন, এই বিচার প্রতিহিংসার নয়, প্রতিশোধের নয়। গতকাল রায়ের পরও এ কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে আবার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা বা উত্থান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে গুঞ্জনের অবসান এই রায়ের ফলে হয়েছে। সেই সাথে ভারতে বসে শেখ হাসিনার রাজনীতি পরিচালনা সীমিত হয়ে পড়বে বলে মনে করেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক। "আবার এই রায়ে ভারতের জন্য একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি ‍সৃষ্টি হবে। তারা যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সেটা ছিলো একেবারেই সাদামাটা। খুব পরোক্ষভাবে তারা কূটনৈতিক মারপ্যাচের কথাগুলো তারা বলেছে, " বলেন মি. মাসুম। গত কিছুদিন ধরে আওয়ামী লীগ দাবি করে আসছে যে, বাংলাদেশে তাদের নেতাকর্মীরা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই রায়ের ফলে বাংলাদেশে তাদের জীবনের ওপর ঝুঁকি রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পরিসরে আওয়ামী লীগ দাবি করার চেষ্টা করতে পারে। তবে অধ্যাপক আবদুল লতিফ মনে করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেয়ার বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতের যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিলো সেটা সীমিত হয়ে যাবে। একইসাথে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত গুঞ্জনেরও অবসান হলো বলে মনে করেন তিনি। কারণ রায়ে মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় খুব তাড়াতাড়ি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করার সম্ভাবনা নেই। " ওভারঅল বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের অবস্থান আরো দুর্বল হবে এবং তার বিরোধী পক্ষ এই রায়ের মধ্য দিয়ে নৈতিকভাবে বা রাজনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী হবে" বলেন জাবির সাবেক অধ্যাপক মি. মাসুম।