ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
সিলেটে মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর নির্দেশ ডিসি সারওয়ারের যুক্তরাজ্যে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, জারি অ্যাম্বার সতর্কতা সংযুক্ত আরব আমিরাতে শিয়া মুসলিম হওয়ায় চাকরিচ্যুত হচ্ছেন প্রবাসীরা, জব্দ হচ্ছে ব্যাংক হিসাব বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম কাউন্সিলের ১২০ কোটি পাউন্ড ঋণ, উন্নয়ন প্রকল্পেই ক্ষতি ১ কোটি পাউন্ড সিলেটে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ২৬১, মোট মৃত্যু ৭২ সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১% বেড়েছে: কীভাবে বাড়ল, এখন কারা জমাচ্ছে? রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা হত্যা : প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীরাও ধরা পড়ছে না গোল্ডেন ভিসা পেলেও চাকরি ছাড়তে হবে না, জানাল ইউএই ইউএইতে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের জন্য সৌদির নতুন ভিসা কড়াকড়ি রোনালদো কি পর্তুগালের বোঝা হয়ে উঠছেন? গণমাধ্যম ও বিনোদনে অভিবাসনপন্থী প্রচারে কোটি পাউন্ড ব্যয়, দাবি টেলিগ্রাফের ‘আজকে সংসদ নাই? সংসদে যান’- সিলেটে পৌঁছে এমপিদের বললেন প্রধানমন্ত্রী রোনালদোর যে দুই রেকর্ড ভাঙলেন মেসি নেইমার ফিরলেন অনুশীলনে: ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির হাওয়া মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা: দুই বছর পর জাবির ১২ শিক্ষককে শাস্তি দিল্লি বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ডা. জাহেদ উর রহমান ইরান-মার্কিন শান্তি চুক্তি নিয়ে অস্বস্তিতে ইসরায়েল, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে টানাপোড়েন ব্রাজিলের দুঃসংবাদ: গ্রুপ পর্বে খেলতে পারছেন না নেইমার, অনিশ্চয়তা বাড়ছে বিশ্বকাপ ঘিরেও বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য যুক্তরাজ্যের নতুন ভিসা সহায়তা, মিলবে ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দিল্লিতে প্রবেশে বাধা: কী পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ কেমন খেলল ব্রাজিল : মরক্কোর কাছে হোঁচট, ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু ট্রাম্পের দাবি আজই চুক্তি সই, ইরানের ভিন্ন সুর আর্জেন্টিনার খেলা কখন, কবে, কার সঙ্গে—পূর্ণ সূচি ও সম্ভাব্য পথচিত্র ব্রাজিলের খেলা কখন, কবে, কার সঙ্গে—পূর্ণ সূচি ও সম্ভাব্য পথচিত্র মারা গেছেন পপ আর্টের কিংবদন্তি ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি টরন্টো বাংলা পাড়া টুর্নামেন্ট: টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বিয়ানীবাজার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ : কোন ম্যাচ কখন ,কোথায় অনুষ্ঠিত হবে? ৩০ বছর পর সালমান শাহর দেহাবশেষ তোলার আদেশ

 শান্তি কি মেয়াদোত্তীর্ণ ধারণা?

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:২৬ পিএম

 শান্তি কি মেয়াদোত্তীর্ণ ধারণা?
যে সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি—অসহনীয়! সারাক্ষণ অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা আর ভীতির মধ্যে থাকতে হয়। কিচ্ছু ভাল্লাগে না! গণতন্ত্রের প্রতারণা, পুঁজিবাদের প্রলোভন আর নষ্টামি, ধর্মান্ধ হিংস্র পাশবশক্তির আস্ফালন—এসব জাতীয় যন্ত্রণা তো আছেই। ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টও বেড়েছে আমদের বহুগুণ। বাঙলাদেশ এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে ব্যক্তির অধিকার কেবল প্রবলদের দখলেই শোভা পাচ্ছে। এখানে প্রবল না হলে মৌলিক অধিকারগুলোও ভোগ করা যায় না, যা রাষ্ট্র সাংবিধানিকভাবে তার জনগণের জন্য সংরক্ষণ করেছে! শান্তি নেই, কোথাও শান্তি নেই। মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে মনে—শান্তি কি একটি মায়াদোত্তীর্ণ ধারণা? সকালে ঘুম থেকে উঠলেই অশান্তি লাগে—রাতে কীভাবে এসে ঘুমাবো, তা ভেবে। রাতে বিছানায় গেলেই অশান্তি লাগে—সকালে উঠে আমি কী করবো, তা ভেবে। এ অশুভ, প্রতারণাময় পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের দু'টি উপায়—আত্নহত্যা করা, অথবা মানসিক ভারসাম্য হারানো! আত্মহত্যার সাহস এখনো সঞ্চয় করতে পারি নি। তবু, প্রায়ই ভাবি—হারাকিরি করে ফেলবো! না, তা হবে না আমাকে দিয়ে। আমি বীর নই। বিকল্প থাকে শুধু ঐ মানসিক ভারসাম্য হারানোর। কিন্তু তার প্রক্রিয়াটি কী—বুঝে উঠতে পারি না। রাস্তায় প্রতিদিন দেখি এক পাগলকে। কোনো কথা বলে না, ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে শুধু আর হাঁটে। লোকজন আদর করে খাবার দিলে খায়। গালি দিলে বা শারীরিক আঘাত করলেও থাকে প্রতিক্রিয়াহীন! এতোটা নির্লিপ্তি কীভাবে সম্ভব! তার মতো হয়ে যেতে ইচ্ছা করে, পারি না তো! আজকে ওর হাতধরে টেনে নিয়ে অতি বিনয়ের সাথে কয়েকটা জিলিপি খেতে দিলাম, খেলো খুব আয়েশ করে। খাওয়া শেষে যখন আবদার করলাম—ভাই আমাকে নির্লিপ্তির পদ্ধতিটি বাৎলে দিন; খুব অসহায়ভাবে আমার দিকে চেয়ে রইল অনেক্ষণ, তারপর পথ থেকে গাছের একটা মরা পাতা হাতে নিয়ে কী যে দেখতে লাগলো, সে-ই জানে। তার গোপন বিদ্যা বিতরণের কোনো ইচ্ছাই দেখাল না! দুই. যার স্বত্ব নেই তার সত্যও নেই—এই উপসিদ্ধান্তে পৌঁছতে জীবনের এতোগুলো বসন্ত পার করে দিলাম! সত্যের জয় অপ্রতিরোধ্য,— শুনে আসছি শৈশব থেকে। আফসোস হচ্ছে,— জীবনে সত্যের জয় দেখি নি! মানুষও পছন্দ করে না সত্য। ক্রিম-লাগানো মিথ্যা চেটেই জীবন পার করে দেয় অধিকাংশ। সত্যের মধ্যে কোনো স্মার্টনেস নেই, মিষ্টতা নেই, স্বস্তি নেই। একটা মিথ্যার দিকে মুহূর্তেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে কোটি কোটি জনতা। সত্য থেকে যায় নিঃসঙ্গ এবং সময়ের সাথে চাপা পড়ে মিথ্যার ধূলিতে; কিংবা মিথ্যা-পক্ষ সত্যের গায়ে লেপন করে কালি, তোলে নানান অপবাদ, তার বিরুদ্ধে হাজির করে অত্যন্ত হাস্যকর নড়বড়ে যুক্তি। জনসাধারণ সেগুলো গ্রহণ করে নেয় অতি দ্রুত, মজাদার গল্পের ললিপপ চুষতে চুষতে বাড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তিন. নিজের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে মানুষ রাষ্ট্রব্যবস্থার পত্তন করেছিল, নাকি তখনো ধূর্ত কেউ নেতা হওয়ার খায়েশে মানুষকে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা গিলিয়ে শুরু করেছিল, বলতে পারি না। তবে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরপরই অগ্রসর মস্তিষ্কের ব্যক্তিরা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছিল যে— নিরাপত্তা আর অস্তিত্বরক্ষার নামে তারা কাঁটাতারের কয়েদখানায় আটকা পড়েছে। কাঁটাতারের কয়েদখানার পরই বোধহয় শুরু হয়েছিল বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে 'চুক্তি' নামক জনগণ বিক্রির কারবার? পৃথিবীতে আন্তঃরাষ্ট্রীয় কোটি কোটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে আদিকাল থেকে, তাতে জনগণের কপাল না ফিরলেও কপাল ফিরেছে নেতাদের। আজকাল 'war industry' বলে আরেকটি কথা চালু আছে যার নামের মধ্যেই বীভৎসতা উৎকীর্ণ থাকলেও, ওটাও সচল থাকে জনতার কল্যাণের গালভরা বুলি দিয়ে। দুনিয়ার কোথাও জনতার রাজ নেই, কোথাও জনতার অধিকার নেই, নিরঙ্কুশ রাজত্ব আর অধিকার একমাত্র নেতাদের। দুনিয়ার সর্বত্রই 'জনতা' কাঁটাতারের কয়েদখানায় বন্দী, রাষ্ট্রব্যবস্থা তাদের সুখী করতে পারে নি, মুক্তি দিতে পারে নি। অচিরেই হয়তো দুনিয়ার জনতা রাষ্ট্রব্যবস্থার বিলুপ্তির জন্য নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। 'মাদারি' নামে ইরফান খানের একটা হিন্দি মুভি দেখলাম, তাতে নায়ক ইরফান খানের হাতে জিম্মি হয়ে সরকারের এক মন্ত্রী মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে 'সত্য' বলতে বাধ্য হন এবং বলেন, 'সরকার ভ্রষ্ট—একথা সত্য নয়, বরং ভ্রষ্টাচারের জন্যই সরকার—একথাই সত্য।' সিনেমায় অতিরঞ্জন থাকবে, অতিরঞ্জনই শিল্পকলা। কিন্তু আজকাল সিনেমার রঞ্জিত কথাকেই absolute truth বলে মনে হয়!  খালেদ রাজ্জাক: কবি, শিক্ষক।