ঢাকা ৯ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ৯ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ
ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় রদবদল, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার? কুয়েতে বিশেষ ভিসা সুবিধা বন্ধ, ফিরছে স্বাভাবিক নিয়মে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে বাংলাদেশের ২৫ এজেন্সি কুয়েতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক পারমিট, দূতাবাসের সতর্কতা মালয়েশিয়ায় অভিযানে আরও ৮৭ বাংলাদেশি আটক কলকাতায় আগুনে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক পরিবারের সবার মৃত্যু বিয়ে ভাঙা সেই প্রবাসীর ফের বিয়ে, পাতে পেলেন আস্ত খাসি কাতারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা ৪ দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের সতর্ক বার্তা পূর্ব লন্ডনে গাড়ির ভেতর বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা নারী বাস সার্ভিস বারবার ব্যর্থ কেন, কী বলছে বিশ্লেষণ ঢাকায় চালু নারী পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস, চালকও নারী ঘোড়ার গাড়িতে শিক্ষকের রাজকীয় বিদায় লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ ক্রাউন প্রিন্সের মালয়েশিয়ায় এক দিনে ২৪ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৭ জন সুনামগঞ্জের গ্রিসের পথে ভয়াবহ বিপদ, ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভাসার পর ২৯ বাংলাদেশি উদ্ধার ওমরাহ ভিসায় নতুন নিয়ম, প্রতিবার প্যাকেজ ও নুসুক অনুমতি বাধ্যতামূলক লিবিয়া থেকে যাত্রা, ভূমধ্যসাগরে ৯ দিন পর ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু ফ্রান্সের কর বিভাগে সাইবার হামলা, ৬ লাখের বেশি করদাতার তথ্য চুরি বিগ টিকেটে ৩২ লাখ টাকা করে জিতলেন দুই বাংলাদেশি অবৈধ কর্মী ধরতে কঠোর অবস্থানে রিফর্ম ইউকে, হটলাইনে তথ্য দিলে পুরস্কার! যুক্তরাজ্যে ডিসপোজেবল বারবিকিউ বিক্রি নিষিদ্ধ হুমকির মুখে বিয়েতে বাধ্য হলেন সৌদিপ্রবাসী সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: বাদীর সন্দেহ জামায়াত নেতা সিরাজের দিকে স্টোস্টেরন পরীক্ষায় পুরুষ প্রমাণিত: দুই নারী অ্যাথলেটের পদক বাতিল, আজীবন নিষেধাজ্ঞা মালয়েশিয়ায় বেতনহীন ১২৬ বাংলাদেশি শ্রমিক সংকটে পোল্যান্ডে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা, সতর্কতা নেতানিয়াহুর ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ মন্তব্যে তুমুল সমালোচনা

হরমুজ প্রণালী আদৌ বন্ধ করতে পারবে ইরান?

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৫, ১০:৩৯ এএম

হরমুজ প্রণালী আদৌ বন্ধ করতে পারবে ইরান?
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বারবার আসছে- হরমুজ প্রণালীর প্রসঙ্গ। কারণ, ইরান হুমকি দিচ্ছে, আক্রান্ত হলে তারা এই প্রণালী বন্ধ করে দেবে। যেখান দিয়ে রপ্তানি হয় বিশ্বের ২০ ভাগেরও বেশি জ্বালানি তেল। এই প্রণালী বন্ধের হুমকি ইরান এই প্রথম দিচ্ছে না। জ্বালানি তেল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিরক্ত হয়ে ২০১৮ সালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির তৎকালীন নৌ-ডিভিশনের কমান্ডার আলি রেজা বলেছিলেন, “যদি ইরান জ্বালানি তেল রপ্তানি করতে না পারে, তাহলে অন্য কোনো দেশও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি করতে পারবে না।” প্রশ্ন হলো- ইরানের পক্ষে কী আদৌ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করা সম্ভব? দেশটির নৌ শক্তির মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, নিয়মিত নৌবাহিনীর অস্ত্র ভান্ডারে কিলোক্লাস, ফতেহ ক্লাসের মতো সাবমেরিন রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ফ্রিগেট করভেট ও মাইন-লেয়ার জাহাজ। যা উপসাগরের যেকোনো আঞ্চলিক নৌ-শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধের জন্য ইরানের সবচেয়ে বড় ‘পাশার দান’ আইআরজিসির অধীনে পরিচালিত সমান্তরাল নৌ-শক্তি। আইআরজিসির নৌ-ডিভিশনের কাছে- ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম হাজার হাজার দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক বোট, আত্মঘাতি ড্রোন, জলসীমাভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নেভাল মাইন। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়্যার কলেজের অধ্যাপক জেমস ক্রাসকার মতে সরু হরমুজ প্রণালী বন্ধ করাটা ইরানের জন্য অনেক সহজ। তিনি দ্য ডিপ্লোম্যাটকে বলেন, “হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে ইরানের যুদ্ধের জেতারও কোনো দরকার নেই। তারা কেবল আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাণিজ্যিক জাহাজের ইন্স্যুরেন্স ব্যয় বাড়িয়ে দিলেই হবে।” জেমস ক্রাসকার বক্তব্যে স্পষ্ট, হরমুজ পুরোপুরি সামরিকভাবে অবরুদ্ধ করার প্রয়োজন নেই, বরং সেখানে কিছু মাইন ফেলা, কয়েকটি আক্রমণ চালানো, অথবা রাডার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জাহাজ লক্ষ্য করা হলেই আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকার কোম্পানিগুলো নিরাপত্তা ও বীমা খরচের কারণে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে। ইরানের এই সক্ষমতা বাস্তবায়নে রয়েছে কিছু বড় প্রতিবন্ধকতা প্রথমত, বাহরাইনে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারে। মার্কিন সেনারা নৌ ও বিমান শক্তি দিয়ে ইরানের যেকোনো আক্রমণের জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। দ্বিতীয়ত, এই প্রণালীর ৩৩ কিমি প্রশস্ত জলপথে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের অধিকার রয়েছে, যা বন্ধ করলে ইরান নিজেই আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও যুদ্ধকালীন সময়ে তেহরান আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করার কথা নয়। তৃতীয়ত, হরমুজ বন্ধ করার চেষ্টায় ইরান সাময়িক সুবিধা পেলেও, এতে তাদের নিজেদের অর্থনীতিতেই ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া পড়বে, কারণ তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ আসে এই রুট দিয়েই। প্রতিরোধের মুখে অবরোধ ধরে রাখা কঠিন ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, “প্রাথমিকভাবে নেভাল মাইন, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ছোটো বোট, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সামরিক সক্ষমতা ইরানের আছে। যাই হোক, দৃঢ় সামরিক প্রতিরোধের মুখে তারা এটা ধরে রাখতে সক্ষম হবে না।“ তবে ডিআইএর প্রতিবেদনটা করা হয়েছে ২০১২ সালে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান এর থেকেও অনেক বেশি শক্তিশালী দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তাদের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও আধুনিক করেছে। তাদের হাতে রয়েছে নুর, ঘাদের ও খালিজ ফারসের মতো দীর্ঘপাল্লার জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। যা উপকূল থেকে সমুদ্রের গভীরে থাকা জাহাজকে লক্ষ্য করতে সক্ষম। ইরান এখন হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ তীরে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিও গড়ে তুলেছে, যা ভূগর্ভস্থ। স্যাটেলাইট চিত্রে সীমিতভাবে দৃশ্যমান। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা সৌদি আরবের স্বার্থে সরাসরি আঘাত হানবে। ফলে দেশটির নৌবাহিনীকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে দেখা যেতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, যদিও ইরান এই প্রণালীতে যুদ্ধকালীন বিঘ্ন সৃষ্টি করতে সক্ষম, তথাপি দীর্ঘ সময় ধরে একে পুরোপুরি বন্ধ রাখা কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও আরব উপসাগরীয় মিত্ররা এমন একটি পরিস্থিতিতে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। উপরন্তু, এই ধরনের পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন হারানো এবং আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে। সুতরাং, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে ও সামরিক সক্ষমতার নিরিখে বলা যায়, ইরান হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বিঘ্নিত করতে সক্ষম, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা বন্ধ রাখার মতো সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতা তার নেই। তবে যে কোনো উত্তেজনার সময় এই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ও বিরোধী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইরানের কাছে এটি ‘কার্যকর উপাদান’ হিসেবে এখনও আছে।