ঢাকা ৮ ভাদ্র ১৪৩৩, রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ৮ ভাদ্র ১৪৩৩, রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ
ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় রদবদল, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার? কুয়েতে বিশেষ ভিসা সুবিধা বন্ধ, ফিরছে স্বাভাবিক নিয়মে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে বাংলাদেশের ২৫ এজেন্সি কুয়েতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক পারমিট, দূতাবাসের সতর্কতা মালয়েশিয়ায় অভিযানে আরও ৮৭ বাংলাদেশি আটক কলকাতায় আগুনে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক পরিবারের সবার মৃত্যু বিয়ে ভাঙা সেই প্রবাসীর ফের বিয়ে, পাতে পেলেন আস্ত খাসি কাতারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা ৪ দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের সতর্ক বার্তা পূর্ব লন্ডনে গাড়ির ভেতর বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা নারী বাস সার্ভিস বারবার ব্যর্থ কেন, কী বলছে বিশ্লেষণ ঢাকায় চালু নারী পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস, চালকও নারী ঘোড়ার গাড়িতে শিক্ষকের রাজকীয় বিদায় লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ ক্রাউন প্রিন্সের মালয়েশিয়ায় এক দিনে ২৪ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৭ জন সুনামগঞ্জের গ্রিসের পথে ভয়াবহ বিপদ, ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভাসার পর ২৯ বাংলাদেশি উদ্ধার ওমরাহ ভিসায় নতুন নিয়ম, প্রতিবার প্যাকেজ ও নুসুক অনুমতি বাধ্যতামূলক লিবিয়া থেকে যাত্রা, ভূমধ্যসাগরে ৯ দিন পর ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু ফ্রান্সের কর বিভাগে সাইবার হামলা, ৬ লাখের বেশি করদাতার তথ্য চুরি বিগ টিকেটে ৩২ লাখ টাকা করে জিতলেন দুই বাংলাদেশি অবৈধ কর্মী ধরতে কঠোর অবস্থানে রিফর্ম ইউকে, হটলাইনে তথ্য দিলে পুরস্কার! যুক্তরাজ্যে ডিসপোজেবল বারবিকিউ বিক্রি নিষিদ্ধ হুমকির মুখে বিয়েতে বাধ্য হলেন সৌদিপ্রবাসী সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: বাদীর সন্দেহ জামায়াত নেতা সিরাজের দিকে স্টোস্টেরন পরীক্ষায় পুরুষ প্রমাণিত: দুই নারী অ্যাথলেটের পদক বাতিল, আজীবন নিষেধাজ্ঞা মালয়েশিয়ায় বেতনহীন ১২৬ বাংলাদেশি শ্রমিক সংকটে পোল্যান্ডে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা, সতর্কতা নেতানিয়াহুর ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ মন্তব্যে তুমুল সমালোচনা

নাগরিকত্বের লোভে শুধু সন্তান জন্মের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে যান হাজারো বিদেশি নারী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

নাগরিকত্বের লোভে শুধু সন্তান জন্মের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে  যান হাজারো বিদেশি নারী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধ করতে এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। এর আগে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে ট্রাম্পের প্রথম উদ্যোগ আটকে দিয়েছিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এখন ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে এই তৎপরতা শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বলতে বোঝায়, সে দেশে জন্ম নেওয়া শিশুরা (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। আর বার্থ ট্যুরিজম বলতে বোঝায়, সন্তান যেন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে পারে তা নিশ্চিত করতে বিদেশি নাগরিকদের পরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা।

নতুন নির্বাহী আদেশে কী আছে

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর একটির আওতায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব না পাওয়ার তালিকা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এই আদেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর মা-বাবা দুজনের কেউই মার্কিন নাগরিক না হলে এবং তাঁদের কেউ যদি কোনো বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হন, বিদেশি সরকারের কর্মী হন, প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করে থাকেন, অথবা এমন কোনো মার্কিন অঞ্চলে বসবাস করেন যেখানে ফেডারেল আইনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না-সেসব ক্ষেত্রে শিশুটি নাগরিকত্ব পাবে না।

মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের সহযোগী নীতি বিশ্লেষক কলিন পুটজেল-কাভানাফ মনে করেন, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হওয়ার বিষয়টি কীভাবে ও কে নির্ধারণ করবে তা স্পষ্ট নয়, ফলে এটি নতুন আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বার্থ ট্যুরিজম বন্ধে পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে নিয়ম আরও কঠোর করার এবং আইন প্রয়োগের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করা এরই মধ্যে বেআইনি। আদেশে বলা হয়েছে, এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা মার্কিন নাগরিকত্ব ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের আকৃষ্ট করেন, কিন্তু অনেক সময় সেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন না।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কীভাবে কাজ করে

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিকে আইনের ভাষায় ‘জুস সলি’ বা ‘ভূমির অধিকার’ বলা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত। আমেরিকান গৃহযুদ্ধের পর সাবেক দাসদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য মূলত এই বিধান চালু হয়েছিল।

বর্তমানে মা-বাবার নাগরিকত্ব বিবেচনা না করেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়—তবে বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তান বা শত্রুদেশের সেনাদের সন্তানের মতো কিছু ব্যতিক্রম আছে। পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম ও ইউএস ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে জন্ম নেওয়া শিশুরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেলেও আমেরিকান সামোয়ার মতো অঙ্গীভূত নয় এমন অঞ্চলে জন্ম নেওয়া শিশুরা তা পায় না; তাদের বলা হয় ‘নন-সিটিজেন ন্যাশনাল’।

কতজন ‘বার্থ ট্যুরিস্ট’ যুক্তরাষ্ট্রে যান

ট্রাম্প দাবি করেছেন, বার্থ ট্যুরিজমের মাধ্যমে ‘কয়েক লাখ’ শিশুর জন্ম হয়েছে, যদিও তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।

মার্কিন রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) হিসাবে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি ঠিকানাধারী মায়েদের গর্ভে ৯ হাজার ৫০০-এর বেশি শিশুর জন্ম হয়েছে, যা সে বছর মোট জন্ম নেওয়া ৩৭ লাখ শিশুর প্রায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (এমপিআই) বলছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে, কারণ বিদেশি নাগরিকেরা নিবন্ধনের সময় নিজেদের স্থায়ী ঠিকানার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে থাকতে পারেন।

এমপিআইয়ের হিসাবে, বার্থ ট্যুরিজমের কারণে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে ২০ হাজার থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়ে থাকতে পারে, যা মোট জন্মের প্রায় শূন্য দশমিক ৫ থেকে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। তবে সংস্থাটি নিজেই বলছে, প্রকৃত সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা কঠিন, কারণ কেউ সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন কি না তা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে শনাক্ত করা কঠিন। বিশ্লেষক কলিন পুটজেল-কাভানাফ আরও বলেন, এমন নারীও থাকতে পারেন যাঁরা মূলত ভ্রমণে এসে হঠাৎ চিকিৎসাজনিত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টে কী হয়েছিল

গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় ট্রাম্প প্রশাসন বার্থ ট্যুরিজম বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিল। মার্কিন সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা ডি জন সাওয়ার আদালতে যুক্তি দেন, সবাইকে নাগরিকত্ব দেওয়ার নীতির কারণে বার্থ ট্যুরিজম শিল্প জমজমাট হয়েছে এবং এমন একটি প্রজন্ম তৈরি হয়েছে যাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাস্তব সম্পর্ক নেই।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস জিজ্ঞেস করলে সাওয়ার জবাব দেন, বার্থ ট্যুরিজমের অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে ১৪তম সংশোধনী এমন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা এর প্রণেতারা কখনো অনুমোদন করতেন না, কারণ এখন বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষ মাত্র এক বিমানযাত্রা দূরত্বে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতি এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, পৃথিবী বদলে গেলেও সংবিধান একই আছে।

অন্য দেশগুলোতে পরিস্থিতি কেমন

বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশে প্রায় কোনো শর্ত ছাড়াই জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়, যার মধ্যে আছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকোসহ মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশির ভাগ দেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলোর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বড় ধরনের শর্ত ছাড়াই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে শিশুর মা-বাবার অন্তত একজন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা হলেই কেবল সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায়।