ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ
হোয়াইট হাউসের কাছে ফের গুলি, বন্দুকধারী নিহত ট্রাম্প কি ইরান যুদ্ধে হারছেন? হামে প্রতিদিন গড়ে ৭ শিশুর প্রাণহানি : রাজশাহী থেকে যেভাবে দেশজুড়ে ছড়াল লন্ডনে বাবু-রুপাসহ গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের নিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম : গ্রিন কার্ড পেতে বিদেশিদের দেশে ফিরতে হবে হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছেই: টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনিসেফের ৫ চিঠিতেও সতর্ক হয়নি ইউনূস সরকার শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার : গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে দেশে ফিরব আ.লীগের ব্যাক করা নিয়ে মাহফুজের পোস্ট, যা লিখলেন প্রবাসীকে বাসায় ডেকে হত্যা: প্রেমিকার হাতে ভয়াবহ খণ্ডিত লাশ তনু হত্যা মামলায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য: ডিএনএ পরীক্ষায় আরও এক পুরুষের রক্ত শনাক্ত ছাত্রদল-এনসিপি উত্তেজনা, চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ কারিনা কায়সার: হাসিমাখা মুখের মেয়েটি নিথর হয়ে গেল ফেসবুকে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ায় বিএনপি কর্মীদের হামলা: সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু শেষ বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদো: কোয়ার্টার ফাইনালেই কি দেখা হচ্ছে দুই মহাতারকার? প্রিন্স উইলিয়ামের কাছ থেকে এমবিই সম্মাননা গ্রহণ করলেন আবু তাহের আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা হতে পারে ২৭ মে প্রবাসী কার্ড কারা পাবেন, কী কী সুবিধা থাকছে? ওমানে মর্মান্তিক মৃত্যু: বিয়ের কেনাকাটায় গিয়ে প্রাণ হারালেন চট্টগ্রামের ৪ ভাই যুক্তরাজ্যে কেন বারবার প্রধানমন্ত্রী বদলাচ্ছে? স্টারমারের পর কে? ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় লেবাননে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, আরেকজন নিখোঁজ চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশুর মৃত্যু: রৌফাবাদের ঘটনায় চাঞ্চল্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও বিরোধীদের অবিশ্বাস কেন? নিউইয়র্কে ইন্তেকাল করেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল আহমদ রোমে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী উৎসব সাংবাদিক ফয়সল মাহমুদের মায়ের ইন্তেকাল, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব পরিবারের শোক ফ্লুসি ডিক্রি জটিলতা নিরসনে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক ইতালি পাঠানোর নামে মাদারীপুরে সক্রিয় মানবপাচার চক্র: বন্দিশালায় রাকিবসহ নিখোঁজ অনেকে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর স্টারমারের পাশে গর্ডন ব্রাউন ও হ্যারিয়েট হারম্যান পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী: নন্দীগ্রামের ‘জায়ান্ট কিলার’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশি-ব্রিটিশ ফরহাদ হোসেন ইতিহাস গড়লেন, লেবারের মনোনয়নে নিউহ্যামের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র

শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো জামায়াত আমির, যে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলেন না

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো জামায়াত আমির, যে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলেন না
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াত আমির ও অন্যান্য বিরোধীদলীয় নেতারা।

বাংলাদেশে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

এবারই প্রথম জামায়াতের কোনো আমির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানালেন। তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে এই শ্রদ্ধা জানান। জামায়াত শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে এখনো নাজায়েজ মনে করে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

অন্যদিকে এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানানো শেষে সেখানে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন। পরে দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপি নেতাদের নিয়ে এবং এরপর তার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

ওদিকে সাধারণত একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আগে এসে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে দেখা যেত প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু এবার রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চলে যাওয়ার পর এসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে সর্বস্তরের মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানানো শুরু করে।

তবে জাতীয় পার্টির একদল নেতাকর্মী ব্যানারসহ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য গেলেও তারা একটি রাজনৈতিক দলের একটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহীদ মিনারে বিএনপি কর্মীদের বাধারমুখে পড়েন বিএনবি থেকে বহিস্কৃত স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহান। তাকে ভুয়া ভুয়া ধ্বনি তুলে বাধা দেওয়া হলে তিনি এক পর্যায়ে ফুল না দিয়ে ফিরে যান। উল্লেখ্য রুমিন ফারহানার পিতা অলি আহাদ একজন খ্যাতিমান ভাষা সংগ্রামী ছিলেন।

শহীদ মিনারে কেন- প্রশ্নের জবাবে যা বললেন জামায়াতে আমির
তিন বাহিনী প্রধান শ্রদ্ধা জানানোর পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা। এরপর তারা শহীদ মিনারের বেদীতে দাঁড়িয়ে মোনাজাতও করেন।

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ও পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মুক্তি পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ মিনার প্রঙ্গণে একজন সাংবাদিক জামায়াত আমিরকে প্রশ্ন করেন যে, জামায়াত সাধারণত ফুল দিতে আসে না শহীদ মিনারে, এবার কী মনে করে এলেন? জবাবে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, "এবার রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে এখানে আসতে হবে আমার সঙ্গীদের নিয়ে।
ওই সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করেন, জামায়াত শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে এখনো নাজায়েজ মনে করে কিনা? জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘এমন একটি পবিত্র অনুষ্ঠানে এমন প্রশ্ন কেন করছেন, এমন প্রশ্ন না করাই ভালো।’

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে যাওয়ার সময় শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছেন তাদের সবাইকে আমরা স্মরণ করি। শেষ পর্যন্ত আমাদের ওসমান হাদিকেও আমরা স্মরণ করি"।

তিনি বলেন, "আমরা আসলে ভাষা শহীদদের আগে ও ৪৭ এও যারা শহীদ হয়েছে তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। বায়ান্নর শহীদদের স্মরণ করি, একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করি, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করি। এরপরেও যারা ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ হয়েছেন তাদের স্মরণ করি। বিশেষ করে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে যারা শহীদ হয়েছে তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। শেষ পর্যন্ত স্মরণ করি জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের সবাইকে স্মরণ করি"।

এরপর তারা আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন।

এর আগে বিভিন্ন বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে জামায়াতের সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা হলেও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছরে দলের কোনো আমিরকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে দেখা যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে এবারের উপস্থিতি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে আবুল বরকত, সালাম, রফিকউদ্দিন এবং জব্বারসহ আরো অনেকে নিহত হন।

দিনটি বাংলাদেশ ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। পরে ১৯৯৯ সালে দিনটিকে জাতিসংঘ 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করলে বাংলাদেশের ভাষা শহীদ দিবস ভিন্ন মাত্রা পায়।

এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলাতেই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে মানুষ।