ঢাকা ৩ চৈত্র ১৪৩২, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ৩ চৈত্র ১৪৩২, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও গ্রিস আরব আমিরাতে বাংলাদেশিসহ ৩৫ জন গ্রেপ্তার শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে ইরানের হামলা, দুবাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত অস্কারে সেরা সিনেমা ডিক্যাপ্রিওর ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি: কলেজছাত্রকে হত্যা ৪২ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রশাসক বসালো সরকার মার্কিনীদের মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশ ছাড়ার আহ্বান, হরমুজ রক্ষায় ট্রাম্পের উদ্যোগে ফ্রান্সের না মব করে পুলিশে দেওয়া পঙ্গু আ.লীগ নেতা মারা গেলেন কারা হেফাজতে ইরানের জ্বালানিসমৃদ্ধ খার্ক দ্বীপে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, চরম প্রতিশোধের শঙ্কা এবার স্থল যুদ্ধে আসছে ২,৫০০ মার্কিন সেনা, ‘উভচর’ যুদ্ধজাহাজ : মোজতবাকে ধরিয়ে দিতে কোটি ডলার পুরস্কার সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে আকাশযুদ্ধে ইরানি শাসকদের পতন নাও হতে পারে নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, ইরানী নেতাকে হত্যার হুমকি প্রথম ভাষণে মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি : হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি সরাতে হবে ইংল্যান্ডের পেশাদার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলবেন মোস্তাফিজ, ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় কিনল বার্মিংহাম হরমুজ প্রণালিতে আরও ৬ জাহাজে হামলা সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু: স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ, কীভাবে সম্পন্ন হলো নির্বাচন প্রক্রিয়া? মোজতবা খামেনি এখন কোথায়? ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাও আক্রান্ত যুদ্ধের আকাশে নতুন মারণাস্ত্র : লেবাননে সাদা ফসফরাস, ইরানে কালো বৃষ্টি ইরান যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে? ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, কত মানুষ এ সুবিধা পাবেন? কমনওয়েলথ সভায় বাংলাদেশ : রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু তুললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদিতে প্রাণ গেল আরও এক বাংলাদেশির বুয়েটে আবার নির্যাতনের ঘটনা : সেহরি খেতে যাওয়া ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে থানায় হস্তান্তর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন খামেনিপুত্র মোজতোবা খামেনি, ট্রাম্প কী করবেন? লন্ডনে 'লতা দিয়া ফতা': সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ব্যতিক্রমী সেহরি আয়োজন ইতিহাস গড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলো ভারত সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশি নিহত অবশেষে ভারত থেকেই গ্রেপ্তার হাদি হত্যার প্রধান আসামী মুশফিকুল ফজলসহ ইউনূস-সরকারের নিয়োগকৃত ৪ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার

সাম্প্রতিক সময়ে এমন ভূমিকম্প দেখেনি দেশ: সৈয়দ হুমায়ূন আখতার

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২৯ পিএম

সাম্প্রতিক সময়ে এমন ভূমিকম্প দেখেনি দেশ: সৈয়দ হুমায়ূন আখতার

ছুটির দিনের সকালে যে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প পুরো দেশকে নড়িয়ে দিয়েছে, সেটিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে উৎপত্তি হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বর্ণনা করছেন ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ূন আখতার।

তিনি বলেন, “দুটো প্লেটের সংযোগস্থলে এ ভূমিকম্পটি হয়েছে, ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটে। কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশ। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”

শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭; উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার পাশের নরসিংদীর মাধবদীতে।

২৬ সেকেন্ড স্থায়ী কম্পনে প্রথমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। এর পরপরই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আসতে শুরু করে।

ঢাকায় ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে তিনজন এবং নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে দেয়াল ধসে দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে; আহত হয়েছে বহু মানুষ।

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হুমায়ূন আখতার বলেন, “যে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে, দেশের পটভূমিতে সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ।”

বাংলাদেশের উত্তরে ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল এবং পূর্বে বার্মিজ প্লেট ও ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে। প্লেটগুলোর গতিশীলতার কারণে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।

ভূমিকম্প গবেষণায় কয়েক দশক কাজ করা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত আর্থ অবজারভেটরির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হুমায়ূন আখতার বলেন, “শক্তি লকড অবস্থায় ছিল, আটকে ছিল। এটা আনলকিং শুরু হয়েছে। এখন পরবর্তীকালে গ্যাপ দিয়ে আবার ভূমিকম্প হতে পারে।

“সেক্ষেত্রে একমাত্র উপায় হচ্ছে মহড়া। ভূমিকম্পের সময় দুয়েক কদমের মধ্যে নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়া, প্রশিক্ষণ নেওয়া। দেশের যে অবকাঠামো আছে তা তো বদলানো যাবে না। একমাত্র উপায় মহড়া।”

অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ঢাকায় ঝুঁকি সবসময়ই বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঢাকার এত কাছে গত কয়েক দশকে বড় ভূমিকম্প হয়নি। কয়েক জেনারেশন এমন ভূমিকম্প দেখেনি।”

দেশের ইতিহাসে বড় ভূমিকম্প

সাম্প্রতিক সময়ে হালকা ও মাঝারি মাত্রার বেশ কিছু ভূমিকম্প অনুভূত হলেও সেগুলোর কোনোটিই শক্তিমাত্রায় বড় বা বিধ্বংসী ছিল না। তবে গত তিনশ বছরে কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটেছে, যেগুলোর উৎপত্তিস্থল দেশের ভেতরে বা খুব কাছাকাছি এলাকায় ছিল।

১৭৬২ সাল, টেকনাফ

টেকনাফ থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত ফল্ট লাইনে ১৭৬২ সালে ৮.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। এতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ প্রায় তিন মিটার উঁচু হয়ে ওঠে; আগে এটি ছিল ডুবন্ত দ্বীপ। সেবার সীতাকুণ্ডে পাহাড়ের নিচ থেকে কাদা-বালু উদগীরণ হয়, বঙ্গোপসাগরে বিশাল ঢেউ আঘাত হেনে বহু ঘরবাড়ি ভাসিয়ে দেয় এবং প্রায় ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ভূমিকম্পটি ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথও বদলে দেয়।

১৮৬৯ সাল, শিলচড়

৭.৫ মাত্রার এ ভূমিকম্প ‘কাচার আর্থকোয়েক’ নামে পরিচিত। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের কাছে জৈন্তা পাহাড়ের উত্তরাংশে অবস্থিত শিলচড়ে। এতে শিলচড়, নওগাং ও ইম্ফল এলাকাজুড়ে বহু স্থাপনা ধসে পড়ে। প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।

১৮৮৫ সাল, মানিকগঞ্জ

১৮৮৫ সালের ১৪ জুলাই ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া অঞ্চল। ভারতের সিকিম, বিহার, মনিপুর ও মিয়ানমার পর্যন্ত কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা, বগুড়া, ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং পাবনা অঞ্চলে প্রাণহানি ঘটে।

১৮৯৭ সাল, শিলং

‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ নামে পরিচিত এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮.৭। উৎপত্তিস্থল ছিল মেঘালয়ের শিলং অঞ্চল। এতে দেড় হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে; সিলেটে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল পাঁচ শতাধিক। সিলেটের বহু বাড়িঘর ধসে পড়ে, ময়মনসিংহ এবং উত্তরাঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিভিন্ন এলাকায় ফাটল দেখা দেয় এবং সুরমা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথেও প্রভাব পড়ে।

১৯১৮ সাল, শ্রীমঙ্গল

রিখটার স্কেলে ৭.৬ মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল শ্রীমঙ্গলের বালিছড়া। এতে শ্রীমঙ্গল ও ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়, যদিও প্রাণহানির নির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

১৯৯৭ সাল, চট্টগ্রাম

৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে চট্টগ্রামে ২৩ জনের মৃত্যু হয়; ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল।

১৯৯৯ সাল, মহেশখালী

৫.২ মাত্রার কম্পনে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়।