ঢাকা ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ২৪ মে ২০২৬
ঢাকা ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ২৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ
হোয়াইট হাউসের কাছে ফের গুলি, বন্দুকধারী নিহত ট্রাম্প কি ইরান যুদ্ধে হারছেন? হামে প্রতিদিন গড়ে ৭ শিশুর প্রাণহানি : রাজশাহী থেকে যেভাবে দেশজুড়ে ছড়াল লন্ডনে বাবু-রুপাসহ গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের নিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম : গ্রিন কার্ড পেতে বিদেশিদের দেশে ফিরতে হবে হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছেই: টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনিসেফের ৫ চিঠিতেও সতর্ক হয়নি ইউনূস সরকার শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার : গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে দেশে ফিরব আ.লীগের ব্যাক করা নিয়ে মাহফুজের পোস্ট, যা লিখলেন প্রবাসীকে বাসায় ডেকে হত্যা: প্রেমিকার হাতে ভয়াবহ খণ্ডিত লাশ তনু হত্যা মামলায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য: ডিএনএ পরীক্ষায় আরও এক পুরুষের রক্ত শনাক্ত ছাত্রদল-এনসিপি উত্তেজনা, চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ কারিনা কায়সার: হাসিমাখা মুখের মেয়েটি নিথর হয়ে গেল ফেসবুকে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ায় বিএনপি কর্মীদের হামলা: সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু শেষ বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদো: কোয়ার্টার ফাইনালেই কি দেখা হচ্ছে দুই মহাতারকার? প্রিন্স উইলিয়ামের কাছ থেকে এমবিই সম্মাননা গ্রহণ করলেন আবু তাহের আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা হতে পারে ২৭ মে প্রবাসী কার্ড কারা পাবেন, কী কী সুবিধা থাকছে? ওমানে মর্মান্তিক মৃত্যু: বিয়ের কেনাকাটায় গিয়ে প্রাণ হারালেন চট্টগ্রামের ৪ ভাই যুক্তরাজ্যে কেন বারবার প্রধানমন্ত্রী বদলাচ্ছে? স্টারমারের পর কে? ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় লেবাননে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, আরেকজন নিখোঁজ চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশুর মৃত্যু: রৌফাবাদের ঘটনায় চাঞ্চল্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও বিরোধীদের অবিশ্বাস কেন? নিউইয়র্কে ইন্তেকাল করেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল আহমদ রোমে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী উৎসব সাংবাদিক ফয়সল মাহমুদের মায়ের ইন্তেকাল, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব পরিবারের শোক ফ্লুসি ডিক্রি জটিলতা নিরসনে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক ইতালি পাঠানোর নামে মাদারীপুরে সক্রিয় মানবপাচার চক্র: বন্দিশালায় রাকিবসহ নিখোঁজ অনেকে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর স্টারমারের পাশে গর্ডন ব্রাউন ও হ্যারিয়েট হারম্যান পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী: নন্দীগ্রামের ‘জায়ান্ট কিলার’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশি-ব্রিটিশ ফরহাদ হোসেন ইতিহাস গড়লেন, লেবারের মনোনয়নে নিউহ্যামের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র

জামায়াত আমিরের ক্ষমা প্রার্থনা — অনুশোচনা নাকি রাজনৈতিক কৌশল?

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৫, ০১:৫০ পিএম

জামায়াত আমিরের ক্ষমা প্রার্থনা — অনুশোচনা নাকি রাজনৈতিক কৌশল?

জামায়াত ইসলামীর হাতে কেউ কষ্ট পেলে তার জন্য ‘বিনা শর্তে ক্ষমা’ চেয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এক টকশোতে দেওয়া তার এমন বক্তব্যে নানামুখী আলোচনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রশ্ন উঠেছে— একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরার অনুশোচনা থেকে জামায়াত আমির এমন বক্তব্য দিয়েছেন, নাকি এটি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে নিছক রাজনৈতিক কৌশল মাত্র?

রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ জামায়াত আমিরের এমন বক্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ওই বক্তব্যের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াত আদৌ ক্ষমা চেয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা। বলছেন, এ ইস্যুতে ক্ষমা চাইতে হলে জামায়াতের সুনির্দিষ্টভাবেই ক্ষমা চাওয়া উচিত। তা ছাড়া, দলীয় অবস্থায় দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত নিয়ে দলীয়ভাবেই ঘোষণা দিতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ের আলোচনায় কথা প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য দলীয় অবস্থানকে বোঝায় না।।

জামায়াতের আমির একাত্তরে দলটির ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন কি না— এ প্রশ্নের জবাবেও কৌশল নিচ্ছেন দলটির নেতারা। বলছেন, ওই ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে সবকিছুই চলে এসেছে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড সাজা পেয়েছেন। রাজনীতিবিদরা বলছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিচালিত ওই বিচার কার্যক্রমের কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকলেও একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে দলটির মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততা প্রশ্নাতীত।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকার জন্য দলটিকে প্রকাশ্যে ও সুস্পষ্টভাবে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান বিভিন্ন সময় জানিয়েছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। শুধু তাই নয়, খোদ জামায়াতের মধ্য থেকেও ক্ষমা চাওয়া নিয়ে বারবার আলোচনা উঠেছে। কিন্তু কখনোই জামায়াত নেতারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাননি। দলের পক্ষ থেকেও ক্ষমা চাওয়া হয়নি। এ কারণেই জামায়াত আমিরের ক্ষমা চাওয়া নিয়ে বক্তব্য নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জামায়াত আমিরের বক্তব্য কৌশলী হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখ সমরে বীরত্ব দেখানো এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আরও মনে করেন, জামায়াতের রাখঢাক না করেই ক্ষমা চাওয়া উচিত।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘জামায়াত আমির যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি কৌশলী বক্তব্য হতে পারে। আন্তরিকভাবে চাইলে অন্যভাবে ক্ষমা চাওয়ার কথা। আসলে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের যে ভুল, তার ক্ষমা হয় না। তবে আজ হোক, কাল হোক— জামায়াতকে ক্ষমা চাইতেই হবে।’

বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম অবশ্য সরাসরিই জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক স্টান্টবাজি’ বলে অভিহিত করেছেন। সেলিম বলেন, ‘এরই মধ্যে নানা সময়ে নানা কথা বলে জামায়াতের আমির তার গ্রহণযোগ্যতা অনেকটা কমিয়ে ফেলেছেন। ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারটিও তিনি জাস্ট রাজনৈতিক স্টান্ট হিসেবে নিয়েছেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করার ব্যাপারে এবং রাজাকার, আল-বদর বাহিনী গঠন করে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ নানা অপকর্মের জন্য তিনি সরাসরি ক্ষমা চাননি।’

জামায়াত ছেড়ে এসে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি গড়ে তোলা মজিবুর রহমান মঞ্জু অবশ্য শফিকুর রহমানের ক্ষমা চাওয়াকে কিছুটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের আমির সাহস করে দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। এ জন‍্য তাকে অশেষ ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। একাত্তর ইস‍্যুতে জামায়াতের রাজনীতিকে যারা এতদিন সমলোচনা করতেন, আশা করি তারা এটাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি যারা এতদিন জামায়াতের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় বলে মত ও মনোভাব পোষণ করতেন, তারাও এটাকে সাধুবাদ জানাবেন,’— বলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জু। একইভাবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকেও বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

টকশোতে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে জামায়াত আমিরের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার কৌশলী জবাব দেন। তিনিও সুস্পষ্টভাবে কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, একজনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা আরেকজনের পক্ষে দেওয়া কঠিন। তবে তার বক্তব্যে শুধু একাত্তর বা কোনো সাল বা দিনক্ষণ নয়, এখন পর্যন্ত আমাদের দলের কারও আচরণে কেউ কষ্ট পেলে তার জন্য কোনো শর্ত ছাড়াই ক্ষমা চেয়েছেন। এখন এই ক্ষমা চাওয়াকে একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন, সেটা তার ব্যাপার।’

শফিকুর রহমান সুনির্দিষ্টভাবে একাত্তরের অবস্থানের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আমি তো মনে করি এখান থেকে ওনার মূল কথাটাই নেওয়া উচিত। এর মধ্যে তো আসলে সব কথাই থাকে। জ্ঞানী মানুষের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। আমি মনে করি, এখানে কোনো কিছুকে আলাদা করার সুযোগ নেই।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের এমন ব্যাখ্যা পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান। তারও পর্যবেক্ষণ, মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ভুলের জন্য ক্ষমা না চেয়ে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন জামায়াত আমির।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির ভাষার মারপ্যাচে অত্যন্ত কূটকৌশল করেছেন। তিনি আদতে মোটেও ক্ষমা চাননি। কারণ ক্ষমার আলাপের মধ্যেই আবার বলেছেন, এখন যেটা ভুল মনে হয় সেটা একসময় সঠিক হতে পারে। অর্থাৎ তারা যে ভুল করেছেন সেটা এখনো নিশ্চিত নন। অথচ একাত্তরে জামায়াত নেতারা সবচেয়ে ছোট যে ভুল করেছেন সেটাও হলো— তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন।’

জামায়াত আমিরের ক্ষমা প্রার্থনা জামায়াত আমিরের ক্ষমা প্রার্থনা ইস্যুর সূত্রপাত গত ২৮ মে। ওই দিন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম খালাস পান। ওই সময় সংবাদ সম্মেলনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বা তার কোনো নেতাকর্মীর মাধ্যমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাই।’

এই ক্ষমা প্রার্থনার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময়টাও আছে কি না— এ বিষয়টি সেদিন জামায়াতের আমির স্পষ্ট করেননি বলে গত সপ্তাহের ওই টকশোতে উল্লেখ করেন উপস্থাপক। বলেন, ‘আজকে এটা স্পষ্ট করবেন কি? অনেকেই প্রশ্ন করছেন যে জামায়াতের আমির ক্ষমা কীসের জন্য চাইলেন?’

এ প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘শুধু একাত্তর নয়, ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমাদের দ্বারা যত মানুষ কষ্ট পেয়েছেন, কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন সেই সকল মানুষের সকলের কাছে আমি বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছি।’

তার পরের বক্তব্যই অবশ্য ফের প্রশ্ন জাগায়— জামায়াত আদৌ একাত্তরের অবস্থানকে ভুল মনে করে কি না। শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে মানুষ যেমন ভুল করতে পারে, মানুষের সমষ্টি একটি দলেরও ভুল সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। কোনটা ভুল কোনটা সঠিক, সেটা ইতিহাস নির্ধারণ করবে। আজ যেটাকে ভুল বলা হচ্ছে কাল সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড় সঠিক হিসেবে প্রমাণিত হবে।’

পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কৌশলী একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে দলটির নেতারা গুরুত্ব দেননি। উলটো মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা এখন অস্বীকার করেছেন তাঁরা।

জামায়াতের আমির এর আগে গত নভেম্বরে এক টকশোতে বলেছিলেন, জামায়াত একাত্তরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমরা (জামায়াত) স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিলাম না। আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, ভারতের সহযোগিতায় যদি দেশ স্বাধীন হয় তাহলে স্বাধীনতার সুফল পাওয়া যাবে না।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এরপরেও এটি সঠিক যে জামায়াত চেয়েছিল এক পাকিস্তান। কিন্তু পরে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন, নির্যাতন, খুন ও বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের কারণে জাতি ফুঁসে উঠেছিল। মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। সেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশকে আমরা আমাদের কলিজা দিয়ে ভালোবেসে কবুল করে নিয়েছি।’

দলের ওই সময়কার ভূমিকার মূল্যায়নের ভার জনগণের ওপর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘তখনকার সময়ে আমাদের চিন্তা বিজয়ী হয়নি। সেই সময় আমাদের চিন্তা পরাজিত হয়েছে, আমাদের সিদ্ধান্ত পরাজিত হয়েছে। এখন জনগণ মূল্যায়ন করবে আমাদের সেই ভূমিকা কতটা যথার্থ ছিল।’

২১ নভেম্বর যুক্তরাজ্য সফরে পূর্ব লন্ডনের যুক্তরাজ্যে বাংলাভাষী সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে জামায়াত ‘বাধ্য হয়ে’ পাকিস্তানের পক্ষে ছিল বলে দাবি করেন জামায়াত আমির। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ওয়ান পাকিস্তানের পক্ষে সাপোর্ট দিয়েছিল। এটি রাজনীতিতে অপরাধ না। তখন পাকিস্তানের অংশ ছিল পূর্ব পাকিস্তান।’

ক্ষমার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় দল ছাড়েন ব্যারিস্টার রাজ্জাক এদিকে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া নিয়ে জোর আলোচনা ছিল দলের ভেতরেও। এমন আলোচনা চালিয়ে যাওয়া নেতাদের অন্যতম সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন তিনি। অনেক চেষ্টাতেও দলকে ক্ষমা চাওয়াতে ব্যর্থ হয়ে ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দল ছাড়েন।

ওই সময় দলের আমির মকবুল আহমদকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে রাজ্জাক তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছেন, যেন একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামী জাতির কাছ ক্ষমা চায়। কিন্তু তার এই আহ্বানে সাড়া দেননি নেতারা।

নাদিম মাহমুদের বিশ্লেষণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাদিম মাহমুদ লিখেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামের আমীর সাতচল্লিশ থেকে দুই হাজার পচিঁশ পর্যন্ত তাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের দ্বারা কেউ 'কষ্ট' পেয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়েছেন। এর মধ্যে দিয়ে জামায়াত ইসলামী একাত্তরের অপরাধকে 'হালকা' করে ফেললেন। তিনি হয়তো মনে করেছেন, তার দলীয় কোন নেতা-কর্মী কাউকে চিমটি কাটলে কেউ যদি ব্যথা পান আর কাউকে খুন করলে যে ব্যাথা পাবেন তা সমান এবং তাদেরকে ক্ষমা করা উচিত। প্রশ্ন হলো, কেন তিনি সাতচল্লিশ ডেকে আনলেন? কেন তিনি দুই হাজার পঁচিশ টানলেন? দেশের মানুষ তো তাদেরকে সাতচল্লিশের, বায়ান্নোর জন্য ক্ষমা চাইতে বলেননি। তাদেরকে বলা হয়েছে, তারা একাত্তরে যে অপরাধ করেছে, যে যুদ্ধাপরাধ করেছে, সেটা স্বীকার করেন 'ক্ষমা' চান কি না? তাদেরকে প্রশ্ন করা হয়েছে, একাত্তরে জামায়াতের অবস্থান দেশের বিরুদ্ধে ছিল কি না? তাদের আল-বদর, আল-সামস, রাজাকারদের অত্যাচার তারা ওউন করেন কি না? এইসব প্রশ্ন করলে, তারা বলছে তারা একাত্তরে ছোট ছিল, তারা ওই সময়ে নেতৃত্বের উপর দায় দিয়ে পার পেতে চায়, তারা বলে শেখ মুজিব তাদের ক্ষমা করে দিয়েছে, গোলাম আযম ক্ষমা চেয়েছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘জামায়াত মুলত শিং মাছ। ওদেরকে ছাই দিয়ে ধরতে গেলেও আপনার আঙ্গুল বিদ্ধ করবে আবার এমনতে গেলেও করবে। ওরা একাত্তরকে এখনো 'ভারতের' যুদ্ধ মনে করে, ওরা পাকিস্তান বিভক্তকরণের জন্য শেখ মুজিবুর রহমানের উপর দোষ চাপায়। এমন একটি দলকে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই। স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর পরও যারা নিজেদের অপরাধের গভীরতা বুঝতে পারে না। আর পারে না বলে কৌশলে সাতচল্লিশের আশ্রয় নিয়েছে, কৌশলে একাত্তরকে এড়িয়ে যাচ্ছে। এইসব না বুঝেও যারা জামায়াতের আমীরের ক্ষমা চাওয়ায় গদগদ, তারা মনে রাইখেন, ৫ আগসে্টর পর এই্ দেশে প্রেসক্লাবে জিন্নাহ জন্মদিন পালিত হয়েছে, পাকিস্তানের স্বাধীনতা উদযাপন করেছে। এরা সুযোগ পেলেই পূর্ব-পশ্চিমকে এক কাতারে ফেলবে। একাত্তর নিয়ে যারা এখনো অন্ধকারে, তাদের কাছ থেকে দেশপ্রেম শেখার কিংবা দেখার প্রয়োজনীয়তা একবারে অপ্রসাঙ্গিক।’