ঢাকা ১১ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা ১১ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ
প্রবাসীদের জন্য ২০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা, তবুও ফাঁকা ঢাকা ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার সব অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন নিয়ম চালু করেছে ওমান কারাভোগ শেষে ২৮ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিল করবে ট্রাম্প প্রশাসন লন্ডনে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আব্দুল মুহিত দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাষার পরীক্ষা ছাড়াই মিলবে ভিসা জানুয়ারি থেকে ঢাকা-নিউইয়র্ক বিমানের সরাসরি ফ্লাইট,  মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে না বিদেশে কর্মী পাঠানোয় বড় ধাক্কা, ৬ মাসে কমেছে ৩৯%, এখনো সৌদি আরবনির্ভর কাকরদিয়া-তেরাদল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী লন্ডনে নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁয় গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আহত আরেকজন ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় রদবদল, কী ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার? কুয়েতে বিশেষ ভিসা সুবিধা বন্ধ, ফিরছে স্বাভাবিক নিয়মে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে বাংলাদেশের ২৫ এজেন্সি কুয়েতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক পারমিট, দূতাবাসের সতর্কতা মালয়েশিয়ায় অভিযানে আরও ৮৭ বাংলাদেশি আটক কলকাতায় আগুনে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক পরিবারের সবার মৃত্যু বিয়ে ভাঙা সেই প্রবাসীর ফের বিয়ে, পাতে পেলেন আস্ত খাসি কাতারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা ৪ দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের সতর্ক বার্তা পূর্ব লন্ডনে গাড়ির ভেতর বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা নারী বাস সার্ভিস বারবার ব্যর্থ কেন, কী বলছে বিশ্লেষণ ঢাকায় চালু নারী পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস, চালকও নারী ঘোড়ার গাড়িতে শিক্ষকের রাজকীয় বিদায় লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ ক্রাউন প্রিন্সের মালয়েশিয়ায় এক দিনে ২৪ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৭ জন সুনামগঞ্জের গ্রিসের পথে ভয়াবহ বিপদ, ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভাসার পর ২৯ বাংলাদেশি উদ্ধার ওমরাহ ভিসায় নতুন নিয়ম, প্রতিবার প্যাকেজ ও নুসুক অনুমতি বাধ্যতামূলক

বিনা খরচে ১২ হাজার সাঁতারু গড়ে তুলেছেন মাসুদ রানা

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৫, ০৭:৫৬ পিএম

বিনা খরচে ১২ হাজার সাঁতারু গড়ে তুলেছেন মাসুদ রানা

কোনও ক্লাব সাঁতারু খুঁজে পাচ্ছে না? সমাধান একটাই—মাসুদ রানাকে ফোন করুন। সাঁতারু শেষ মুহূর্তে অসুস্থ হয়ে পড়েছে? সহায়তা পাবেন মাসুদ রানার কাছ থেকে। যে কোনও প্রতিযোগিতার আগে ক্লাবগুলো তার কাছে চুক্তিভিত্তিক সাঁতারুর সন্ধান করে। যেন সব সময় সাঁতারু প্রস্তুত রেখেই থাকেন বগুড়ার এই নিবেদিতপ্রাণ কোচ।

মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সে পা রাখলেই দেখা যাবে মাসুদ রানা ও তার স্ত্রী নীলুফার ইয়াসমিনকে। মাসুদের হাতে স্টপওয়াচ, মুখভর্তি পান, হাসিমুখে কথা বলেন সবার সঙ্গে। পুলের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়ান সময় মাপতে, পদকের খোঁজে, ক্লাবগুলোর ফলাফল জানতে। চলছে ৩৭তম জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতা, যেখানে মাসুদ রানা এনেছেন ১৫ জন সাঁতারু।

বগুড়ার সাতমাথা পার্ক পুকুরে সারা বছর অনুশীলন করান একদল সাঁতারুকে। একসময় সাতমাথা গোয়াল রোডে জ্বালানি তেলের ব্যবসা করতেন মাসুদ রানা। সেই পেশা ছেড়ে এখন সম্পূর্ণ সময় দেন সাঁতারু তৈরিতে।

বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় তার হাতে গড়া সাঁতারুরা এ পর্যন্ত ১০৪টি স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। তবু কোনও ছাত্রের কাছ থেকে তিনি অর্থ নেন না। মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “একেবারে বিনামূল্যে শেখাই। বগুড়ার ভাষায় বললে—মাগনা। আমি সাঁতার শেখাতে কোনও অর্থ নিই না। যতদিন বাঁচি, এটা করেই যাব। বড় বড় দলকে অনেক স্বর্ণপদক দিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমার ছেলে-মেয়েরা ১০৪টি সোনা জিতেছে, এর মধ্যে ২২টিতে রেকর্ড হয়েছে।”

সব মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার সাঁতারু তৈরি করেছেন মাসুদ রানা। গর্বভরে বলেন, “এ পর্যন্ত বয়সভিত্তিক ও জাতীয় পর্যায়ে ১২,২৩৭ জনকে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তৈরি করেছি। সবাইকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কোনও দান-ডোনেশন নিইনি। এমনকি জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছ থেকেও সহায়তা পাইনি।”

সাঁতার যেন তার নেশা, “এটা এখন একটা নেশার মতো। অনেক সময় ঘুম আসে না। বাচ্চাদের কাছে ছুটে যাই। শীতে ৩০ মিনিট পানিতে এবং ল্যান্ডিং (জমিতে অনুশীলন) করাই আড়াই ঘণ্টা। বাকি সময়ে সকালে ৩ ঘণ্টা, বিকেলে ২ ঘণ্টা অনুশীলন করাই।”

১৯৮৮ সাল থেকে কোচিং করাচ্ছেন মাসুদ রানা। এর আগে নিজেও সাঁতারু ছিলেন। সাফল্য এসেছে পরে। “২০১৭ সাল থেকে আমার সাঁতারুরা সোনা জিততে শুরু করে। এখন পর্যন্ত দুজন আমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাঁতারু ‘সেরা সাঁতারু’র পুরস্কার পেয়েছে।”

তার এক ছাত্র মরিয়ম খাতুন ভেঙেছেন এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী মাহফুজা খাতুন শিলার রেকর্ড। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও আনসারে কর্মসংস্থান হয়েছে তার অনেক ছাত্রের।

এখন মাসুদ রানার একটাই স্বপ্ন, “আমার কোনো সাঁতারু যদি এসএ গেমসে সোনা জিততে পারে, তবে এত দিনের কষ্ট সার্থক হবে।”

এমন নিবেদিতপ্রাণ তৃণমূল কোচদের কারণেই এখনও মিরপুর সুইমিং পুলে প্রতিদিন ভিড় করে হাজারো কিশোর-কিশোরী। হয়তো তাদেরই হাত ধরে একদিন এসএ গেমসে উঠবে লাল-সবুজের গর্বের সোনালি পদক।