জাঁকজমক আয়োজনে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর গ্রাম প্রবাসীদের সংগঠন মোল্লাপুর ফ্রেন্ডস সোসাইটি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে-এর উদ্যোগে ফ্যামিলি গেট-টুগেদার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে পরিবার নিয়ে ছুটে আসেন গ্রামের বাসিন্দারা।
২৪ আগস্ট, সোমবার বিকালে লন্ডনে ইলফুডের একটি হলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খ্যাতিমান ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন প্রফেসর ডা. শাফি আহমদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নারী ও বাংলাদেশি-ব্রিটিশ বিচারপতি ব্যারিস্টার স্বপ্নারা খাতুন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গাণিতিক কম্পিউটিং ও ইঞ্জিনিয়ারিং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ম্যাথওয়ার্কস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমদ, বিশিষ্ট প্রবীণ চিকিৎসক ও সমাজসেবক ডা. আলাউদ্দিন আহমদ, বিশিষ্ট সংগঠক ও রাজনীতিবিদ মারুফ আহমদ চৌধুরী।
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার ফারুজা হুমায়েরা ইসলাম, প্রকৌশলী সানজিদা হক, ডাক্তার হানিফ আহমদ, সলিসিটর আরিফ আহমদ, আইটি নেটওয়ার্ক সিস্টেম সিকিউরিটি ম্যানেজার মাহদী হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
ট্রাস্টের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিত বাবুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছরওয়ার আহমদ।
প্রধান অতিথি খ্যাতিমান ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন প্রফেসর ডা. শাফি আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ একটি দিন। আমাদের জন্মমাটির বাসিন্দাদের নিয়ে লন্ডনে কমিউনিটি উৎসব উদযাপন করছি। এটা শুধু একটি অঞ্চলের জন্য নয়, এটা গোটা কমিউনিটির জন্য গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ডা. শাফি বলেন, দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর থেকে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত এবং বিশ্বের বহু দেশে শিক্ষা ও ডিজিটাল চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থেকে শিখেছি মানুষ ও কমিউনিটির জন্য কীভাবে কাজ করতে হয়, যা আমার জন্য পরম পাওয়া।
এই অনুপ্রেরণা মূলত আমি আমার গ্রাম ও কমিউনিটির মানুষের কাছ থেকে পেয়েছি। এখন সময় এসেছে তাদেরকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করার।
তিনি বলেন, আমরা ব্রিটেনেও অনেক ভালো করছি। এখন প্রয়োজন তাদের সাফল্যকে উদযাপন করা। মোল্লাপুর ফ্রেন্ডস সোসাইটি অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে তাদের প্রতিষ্ঠাতাদের অগ্রজদের ভালো কাজের অবদানের জন্য সম্মানিত করল। এটা নিঃসন্দেহে সেরা কাজ ও অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।
বিচারপতি স্বপ্নারা খাতুন বলেন, এই অনুষ্ঠানটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা অনুভূতির। কারণ এটি শুধু আমার গ্রাম, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক ব্যক্তিত্বদের মিলনমেলায় পরিণত হয়নি। তাদের আলোকিত কাজের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার বাবা ও চাচা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং ব্রিটেনেও বাংলাদেশি প্রবাসী ও কমিউনিটির সেবায় আমার বাবা নিরলস কাজ করেছেন। তাদের দেখানো পথে আমরাও জন্মমাটি ও ব্রিটেনের কমিউনিটির সেবায় কাজ করছি। আমাদের সকলের উচিত নিজের শিকড়-মাটির মানুষ ও কমিউনিটিকে মনে রেখে সেবা করা।
বিশ্বখ্যাত অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার শামীম আহমদ দেশের নিজগ্রামের মোল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, শৈশবের স্মৃতি আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। এবং চাই, আমার গ্রাম শিক্ষা ও ঐতিহ্যে অন্যতম সেরা গ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।
তিনি ট্রাস্টের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, মোল্লাপুর গ্রামের উন্নয়নে আপনাদের পাশে আমাকে রাখবেন। যেকোনো ধরনের সহযোগিতায় আমি আনন্দ নিয়ে কাজ করতে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোল্লাপুর গ্রামের কৃতিসন্তান বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সংগঠক মারুফ আহমদ চৌধুরী বলেন, আমার জন্মস্থানের সংগঠনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার অনুভূতি যেমন আনন্দের, তেমনি গর্বের। গ্রামের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি যুগান্তকারী কাজ করছে। আজকে এই অনুষ্ঠানে ভালো কাজের মূল্যায়ন করা হয়েছে—যা গ্রামের প্রবাসীদের মধ্যে দূরপ্রসারী অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্বাস করি।
গ্রামের কৃতিসন্তান ও বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ছরওয়ার আহমদ বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর পূর্বে আমরা যে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান করেছিলাম, এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল গ্রামের সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষা সহায়তা ও সামাজিক, ঐতিহ্যগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। আমাদের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। তারই অংশ হিসেবে আজকে কমিউনিটি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম ও প্রবীণরা উপস্থিত ছিলেন। এবং একসঙ্গে আমরা সাফল্য যেমন উদযাপন করেছি, তেমনি গ্রামের কৃতিসন্তান ও মূলধারার পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা ছিল যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের নিয়ে একটি কমিউনিটি গেট-টুগেদার করার, যেখানে নবীন-প্রবীণদের মধ্যে একটি সামাজিক ও ঐতিহ্যগত সেতুবন্ধন তৈরি হবে। সকলের সহযোগিতায় আমরা সফল হয়েছি। এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিত বাবুল বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মোল্লাপুর ফ্রেন্ডস সোসাইটি অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে মানবতা ও সমাজকল্যাণে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দরা ব্রিটেনের মূলধারায় অত্যন্ত সম্মানিত, যারা আমাদের মোল্লাপুর গ্রামের গর্বিত সন্তান। সকলের অংশগ্রহণে একটি অনুসরণীয় অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে সম্মানিত ট্রাস্টিবৃন্দের সহযোগিতায়।
অনুষ্ঠানে ব্রিটেনে বসবাসরত মোল্লাপুর গ্রামের কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।
সংগঠনের বার্ষিক আর্থিক রিপোর্ট পেশ করেন সহ-কোষাধ্যক্ষ এবিএম নাছিম। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ফয়জুল ইসলাম জুয়েল, অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. সাহেদ হোসেন, সুলতান আহমদ, তুতিউর রহমান তুতা।
রাতের প্রীতিভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
-
যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা কেন হজে যান বাংলাদেশ হয়ে, ঝুঁকি কোথায়
-
মেটারনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম ও ফান্ডরেইজিং নিয়ে রুকন ফাউন্ডেশনের সভা
-
যুক্তরাজ্যের সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন
-
সেপ্টেম্বরে আবারও গরমের দাপট, সোমবার লন্ডনে ২৫ ডিগ্রি
-
লন্ডনের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেও ১০০ আবেদনে চাকরি নেই